ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দুই আবাসন কোম্পানিকে জরিমানা

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দুই আবাসন কোম্পানিকে জরিমানা - the Bengali Times
কানাডায় অর্থপাচার রোধে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ আরও জোরদার হচ্ছে এমন ইঙ্গিতই মিলল ফিনট্র্যাকের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে

কানাডায় অর্থপাচার রোধে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ আরও জোরদার হচ্ছে এমন ইঙ্গিতই মিলল ফিনট্র্যাকের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়াভিত্তিক দুটি আবাসন কোম্পানিকে মোট এক লাখ ৯০ হাজার ডলারের বেশি জরিমানা করেছে কানাডার ফেডারেল অর্থপাচার প্রতিরোধী সংস্থা ফাইনান্সিয়াল ট্রানজ্যাকশন এন্ড রিপোর্টস অ্যানালাইসিস সেন্টার অফ কানাডা।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ফিনট্র্যাক জানায়, ১১৩৫২৩৩ বি.সি. লিমিটেড, যা লোহোমস রিয়েলটি প্রিমিয়ার এবং পেসেসেটার মার্কেটিং লিমিটেড নামে কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাদের বিরুদ্ধে প্রসিডস অব ক্রাইম (মানি লন্ডারিং) অ্যান্ড টেররিস্ট ফাইন্যান্সিং অ্যাক্ট লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় এই আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।

- Advertisement -

দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বড় জরিমানাটি পড়েছে লোহোমস রিয়েলটি প্রিমিয়ার–এর ওপর। প্রতিষ্ঠানটিকে ১,৪৯,৮৮৬ ডলার জরিমানা করা হয়েছে। ফিনট্র্যাক জানিয়েছে, তারা মোট ছয় ধরনের আইন লঙ্ঘন করেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো যথেষ্ট সন্দেহজনক লেনদেন সত্ত্বেও ফিনট্রাক–এ রিপোর্ট জমা না করা, এবং লেনদেনগুলো অর্থপাচার বা সন্ত্রাসে অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত হওয়ার যৌক্তিক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া।

সংস্থাটি বলেছে, তাদের পরিদর্শকেরা লোহোমসের নথিতে এমন একাধিক লেনদেন খুঁজে পেয়েছেন যেখানে অর্থপাচার–সংক্রান্ত প্রচলিত নির্দেশক স্পষ্টভাবে বিদ্যমান ছিল। তবে কতগুলো সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট করা হয়নি সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি ফিনট্র্যাক।

অন্য প্রতিষ্ঠান পেসসেটার মার্কেটিং লিমিটেডকে তিন ধরনের লঙ্ঘনের দায়ে ৪১,০৮৫ ডলার জরিমানা করা হয়েছে। সংক্ষেপে এসব লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে ক্লায়েন্ট যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়ার ঘাটতি, রেকর্ড সংরক্ষণে ত্রুটি এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ না করা।

ফিনট্র্যাক জানিয়েছে, দুই প্রতিষ্ঠানই আপিলে না গিয়ে জরিমানার অর্থ পরিশোধে রাজি হয়েছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, এর মাধ্যমে মামলা সংক্রান্ত সব কার্যক্রম এখানেই সমাপ্ত হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে এই প্রশাসনিক আর্থিক জরিমানার উদ্দেশ্য শাস্তি দেওয়া নয়, বরং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আচরণে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে উৎসাহিত করা, যাতে তারা ভবিষ্যতে আইন মেনে চলে।

২০২৪–২৫ অর্থবছর ফিনট্র্যাকের নজরদারির ক্ষেত্রে সবচেয়ে সক্রিয় সময়গুলোর একটি। সংস্থাটি জানায় এই সময়কালে ২৩টি আইন লঙ্ঘনের নোটিশ জারি করা হয়েছে। যা কানাডার ইতিহাসে এক বছরে জারি করা সর্বোচ্চ নোটিশ সংখ্যা। মোট আর্থিক জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ মিলিয়ন ডলার।

এমন পদক্ষেপ কানাডার রিয়েল এস্টেট সেক্টরে অর্থপাচারের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগ, অস্বচ্ছ লেনদেন এবং রিয়েল এস্টেট বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ এ তিন মিলিয়ে এই খাতটি অর্থপাচারের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রূপ নিয়েছে।

ফিনট্র্যাকের সাম্প্রতিক জরিমানার এই বার্তা স্পষ্ট অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন লঙ্ঘনে কোনো রেয়াত করা হবে না, বিশেষ করে রিয়েল এস্টেটের মতো ঝুঁকি–সংবেদনশীল খাতে। সরকারের লক্ষ্য হলো প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং আইন–সম্মত কার্যক্রমে অভ্যস্ত করে তোলা।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles