সাস্কেচুয়ানে ম্যাটারনিটি ওয়ার্ডে নার্স সংকট

সাস্কেচুয়ানে ম্যাটারনিটি ওয়ার্ডে নার্স সংকট - the Bengali Times
রেজাইনা ও সাস্কাটুনের মাতৃত্ব বিভাগে ম্যাটারনিটি ওয়ার্ড পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে

রেজাইনা ও সাস্কাটুনের মাতৃত্ব বিভাগে (ম্যাটারনিটি ওয়ার্ড) পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। সম্প্রতি সাস্কেচুয়ান ইউনিয়ন অব নার্সেস (Saskatchewan Union of Nurses – SUN) এবং প্রাদেশিক বিরোধীদল এই অবনতিশীল পরিস্থিতিকে “বিপজ্জনক” আখ্যা দিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

সান-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর্মী সংকট ও সেকেলে যন্ত্রপাতির কারণে হাসপাতালগুলোতে মাতৃত্বকালীন সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় প্রসূতি মায়েদের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় তাদেরকে অপেক্ষমাণ কক্ষেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, এপিডিউরাল অ্যানেস্থেশিয়া (Epidural), যা প্রসবকালীন তীব্র যন্ত্রণা কমাতে দেওয়া হয়, সেটিও অনেক সময় দিতে পারছেন না চিকিৎসক ও নার্সরা। কারণ, পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রশিক্ষিত কর্মী উপস্থিত থাকেন না।

- Advertisement -

সান-এর সভাপতি লিন্ডা সিলভেস্টার এক বিবৃতিতে বলেন, “নার্সরা প্রায়ই অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপে কাজ করছেন। অনেক সময় তারা একাধিক প্রসূতির ওপর একসঙ্গে নজর রাখতে বাধ্য হচ্ছেন, যা শুধু রোগীদের নিরাপত্তার জন্য নয়, নার্সদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও হুমকিস্বরূপ।”

অন্যদিকে প্রাদেশিক বিরোধীদল নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (NDP) অভিযোগ করেছে যে, এটি কোনো সাময়িক বা আকস্মিক সমস্যা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলমান এক প্রশাসনিক ব্যর্থতা। এনডিপি নেতা কার্লা বেক বলেন, “বছরের পর বছর ধরে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের অভাব, কর্মী ছাঁটাই এবং অবহেলার ফলেই আজ এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নতুন মায়েরা এবং নবজাতকরা এখন এক অনিরাপদ ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছেন।”

তবে, সাস্কেচুয়ান হেলথ অথরিটি (SHA) এই সমালোচনার জবাবে জানিয়েছে, তারা সমস্যাটি স্বীকার করছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। SHA-এর এক মুখপাত্র জানান, “আমরা নতুন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি এবং বিদ্যমান নার্সদের ওপর চাপ কমাতে বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, পুরোনো যন্ত্রপাতিগুলো ধীরে ধীরে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে।”

স্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র নিয়োগই নয়, নার্সদের ধরে রাখাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক অভিজ্ঞ নার্সই কর্মচাপ ও বার্নআউটের কারণে চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন বা অন্য প্রদেশে চলে যাচ্ছেন, যেখানে কাজের পরিবেশ তুলনামূলকভাবে ভালো।

একজন সিনিয়র ধাত্রী বলেন, “আমরা শুধু সংখ্যায় কম নই, আমাদের সরঞ্জামও সেকেলে। অনেক সময় প্রসবকালীন মনিটর বা ভেন্টিলেটর হঠাৎ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এতে রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।”

সবশেষে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, যদি অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে রেজাইনা ও সাস্কাটুনের মাতৃত্ব বিভাগগুলোতে সেবা মান আরও নিম্নগামী হবে, যার প্রভাব পড়বে পুরো প্রাদেশিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর।

এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে সাস্কেচুয়ানের স্বাস্থ্যখাত এখন এক গভীর সংকটে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মানবসম্পদ ঘাটতি ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles