বাড়ির দরজায় পরিত্যক্ত অবস্থায় এক নবজাতক

বাড়ির দরজায় পরিত্যক্ত অবস্থায় এক নবজাতক - the Bengali Times
লঙ্গুইউলি পুলিশের মুখপাত্র মেলানি মার্সিলে জানান ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন

রোববার গভীর রাতে দরজার ঘণ্টা বেজে ওঠার পর এক নারী ও তার স্বামী যা দেখলেন, তা ছিল একেবারে অবিশ্বাস্য ও আতঙ্কজনক তাদের বাড়ির দরজার সামনে পড়ে আছে এক নবজাতক শিশু। শিশুটি তখনও বেঁচে ছিল, কিন্তু অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায়।

লঙ্গুইউলির বোর্জেয়স স্ট্রিটের ওই বাড়ির বাসিন্দা এক নারী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, রাত প্রায় ১১টার দিকে তাদের দরজার ডোরবেল বাজে। প্রথমে তিনি ভয় পেয়ে দরজা খোলেননি। কিছুক্ষণ পর যখন বাইরে বেরিয়ে আসেন, তখনই কম্বলে মোড়ানো নবজাতকটিকে দেখতে পান।

- Advertisement -

তিনি বলেন, “প্রথমে কাউকে দেখতে পাইনি। দরজা না খুলেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। যখন নিচে তাকালাম, দেখি একটি কম্বলের ভেতর ছোট্ট একটি শিশু নড়ছে না। আমি সঙ্গে সঙ্গে স্বামীকে ডাকি, আমরা একসঙ্গে দরজা খুলে শিশুটিকে দেখি। সে তখন খুব দুর্বল, কিন্তু শ্বাস নিচ্ছিল।”

দম্পতি দ্রুত ৯১১-এ ফোন করেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে যায়। নবজাতকটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, শিশুটির নাভির নাড়ি (umbilical cord) তখনও বিচ্ছিন্ন হয়নি, অর্থাৎ তার জন্ম হয়েছে অল্প সময় আগেই।

লঙ্গুইউলি পুলিশের মুখপাত্র মেলানি মার্সিলে জানান, ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন। “আমরা পার্শ্ববর্তী এলাকার নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলোর ফুটেজ পরীক্ষা করছি, যাতে দেখা যায় কে শিশুটিকে সেখানে রেখে গেছে। তদন্তের এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছি,” বলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, রাত ১১টার কিছু আগে এক ব্যক্তি ওই বাড়ির ডোরবেলে চাপ দেন এবং সঙ্গে সঙ্গে চলে যান। ক্যামেরার ফুটেজে সেই ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

কানাডিয়ান চিলড্রেন’স রাইটস কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, কোনো বাবা-মা যদি শিশুকে বিপদে ফেলে দেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হতে পারে। তবে কানাডার কিছু প্রদেশে (যেমন আলবার্টা ও ব্রিটিশ কলাম্বিয়া) “সেফ সারেন্ডার বক্স” নামে বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে যেখানে কোনো পিতা-মাতা চাইলে নবজাতককে নিরাপদে রেখে যেতে পারেন, শিশুর ক্ষতি না করে। এই ক্ষেত্রে আইন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না, বরং শিশুটিকে নিরাপদভাবে দত্তক প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

লঙ্গুইউলিতে এখনো এ ধরনের কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বলেছেন, শিশুটিকে ফেলে যাওয়া ব্যক্তির হয়তো ভয় বা সামাজিক চাপে এমন কাজ করেছেন।

ওই নারী বলেন, “এটা এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। আমাদের দরজায় একটি নবজাতক পড়ে ছিল এটি ভাবলেই শিউরে উঠি। তবে ভালো লাগছে যে শিশুটি বেঁচে আছে।”

এদিকে পুলিশ শিশুটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত না করলেও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নবজাতকটি চিকিৎসাধীন এবং বর্তমানে স্থিতিশীল আছে।

ঘটনাটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মানবিক ও সামাজিক উভয় দিক থেকেই এটি গভীর প্রশ্ন তুলেছে কেন কেউ এমন পরিস্থিতিতে একটি নবজাতককে ফেলে যেতে বাধ্য হয়?

ঘটনাটি শুধু একটি অপরাধমূলক ঘটনা নয়; এটি সমাজে বিদ্যমান মানসিক চাপ, পারিবারিক ভীতি ও একাকীত্বেরও প্রতিফলন। উন্নত দেশেও যখন কোনো মা বা বাবা নবজাতককে ফেলে যেতে বাধ্য হন, তখন বোঝা যায় সামাজিক সহায়তার ঘাটতি কতটা প্রকট। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন “সেফ সারেন্ডার” ব্যবস্থাগুলো সম্প্রসারিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা কমানো সম্ভব হবে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles