
কানাডায় এবার হ্যালোইন উৎসব শুধু মানুষ নয়, পোষ্য প্রাণীরাও উপভোগ করবে নিজের মতো করে। জনপ্রিয় অনলাইন পোষ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রোভারডটকম (Rover.com)-এর এক সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, ৬০ শতাংশ কানাডিয়ান পোষ্যমালিক তাদের পোষ্যকে হ্যালোইনের সাজে সাজানোর পরিকল্পনা করছেন।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, শুধু পোষ্যকে সাজানো নয় ৪৬ শতাংশ মালিক জানিয়েছেন, তারা নিজেরাও পোষ্যের সঙ্গে একই রকম বা পরিপূরক পোশাক পরবেন। অর্থাৎ, মালিক ও পোষ্য দু’জনেই একসঙ্গে থিম মিলিয়ে সাজবেন। কেউ জাদুকর-জাদুকরী, কেউ আবার ভ্যাম্পায়ার জুটি হয়ে হাজির হবেন প্রতিবেশীদের সামনে।
হ্যালোইনের পোশাকের দৌড়ে কুকুর এখনো শীর্ষে। সমীক্ষা অনুযায়ী, ৬৬ শতাংশ কুকুরের মালিক তাঁদের প্রিয় বন্ধুকে নতুন পোশাক পরাতে চান। অন্যদিকে ৪৪ শতাংশ বিড়ালের মালিকও এ বছর বিড়ালকে সাজাতে আগ্রহী। বিশেষজ্ঞদের মতে, কুকুর সাধারণত বেশি সামাজিক ও বাইরে ঘোরাঘুরি করে বলে তাদের সাজানোতে মালিকদের আগ্রহও বেশি।
বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি ও বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয় সত্ত্বেও কানাডিয়ানদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি। ৪৩ শতাংশ মালিক জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক চাপ থাকলেও হ্যালোইন তাদের প্রিয় উৎসব, যেখানে পোষ্যকে অন্তর্ভুক্ত করা যেন পরিবারেরই অংশ হয়ে উঠেছে। আরও চমকপ্রদ বিষয়, ৫৮ শতাংশ মালিক নতুন পোশাক কিনবেন পোষ্যের জন্য, যদিও ৩৩ শতাংশ বলছেন, আগের বছরের পোশাকই এবারও যথেষ্ট।
খরচের দিক থেকে দেখা গেছে, ৩৬ শতাংশ মালিক পোষ্যের সাজে ২০ থেকে ৪৯ ডলার পর্যন্ত ব্যয় করার পরিকল্পনা করছেন। কেউ কেউ ১০০ ডলার পর্যন্তও খরচ করতে রাজি। এমনকি ২ শতাংশ মালিকের মতে, “আমার পোষ্যের জন্য কোনো মূল্যই বেশি নয়।”
রোভারডটকম জানিয়েছে, কুকুর ও বিড়ালের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় পোশাক হলো উইচ (ডাইনি), স্পাইডার (মাকড়সা) এবং ঘোস্ট (ভূত)। তাছাড়া খাবার-প্রধান থিমের পোশাকও বেশ জনপ্রিয় যেমন, হট ডগ ও বানানা কস্টিউম, যা ১৭ শতাংশ কুকুর ও বিড়ালের মালিকের প্রথম পছন্দ। এ ছাড়াও ৯ শতাংশ মালিক ক্রীড়াবিষয়ক পোশাক যেমন ফুটবল বা বেসবল থিমে সাজানোর পরিকল্পনা করেছেন।
মজার বিষয় হলো, সাজসজ্জার উচ্ছ্বাসের মাঝেও মালিকরা তাদের প্রিয় পোষ্যের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদ্বিগ্ন। ৩২ শতাংশ মালিক জানিয়েছেন, উৎসবের সময় পোষ্য একা পড়ে মানসিকভাবে অস্থির হতে পারে বলে তারা চিন্তিত। এই উদ্বেগ কুকুরের মালিকদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ, আর বিড়ালের মালিকদের মধ্যে ৩০ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা আধুনিক কানাডিয়ান সমাজে পোষ্যের অবস্থানকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে। এখন পোষ্য শুধু প্রাণী নয়, বরং পরিবারের অংশ। তাই উৎসব-আনন্দেও তাদের বাদ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
অর্থনৈতিক চাপ, ব্যস্ত জীবন, বা সামাজিক পরিবর্তন সব কিছুর মাঝেও মানুষ এখনো আনন্দের খোঁজ পায় নিজের পোষ্যের চোখে। আর সেই আনন্দের রঙেই রাঙিয়ে উঠবে এ বছরের হ্যালোইন যেখানে মানুষের সঙ্গে পোষ্যেরও থাকবে সমান অংশগ্রহণ।

