
কানাডা জুড়ে দাবানলের প্রকোপ ক্রমেই মারাত্মক আকার ধারণ করছে। পরিস্থিতি এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যে আর কোনো প্রদেশ এককভাবে এ সংকট মোকাবিলা করতে পারছে না। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত লড়াইয়ের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ফেডারেল সম্পদ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “আমরা একে অপরকে সাহায্য করার চেষ্টা করছি—ফায়ারফাইটার পাঠাচ্ছি, যন্ত্রপাতি পাঠাচ্ছি, বিমান পাঠাচ্ছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রত্যেক প্রদেশেই নিজেদের ভেতরে দাবানল ভয়াবহ আকারে জ্বলছে। এখন আর কেবল প্রাদেশিক উদ্যোগে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।”
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত শুধু অন্টারিওতেই ৪৬৭টি দাবানল নথিভুক্ত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ২৭৫-এর কিছু বেশি। যদিও ১০ বছরের গড় ৫৮৩, তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দাবানলের মৌসুম ক্রমেই দীর্ঘায়িত ও তীব্র হয়ে উঠছে। এ বছরের দাবানলে অন্টারিওর কয়েক লাখ হেক্টর বনভূমি ইতোমধ্যেই পুড়ে ছাই হয়েছে।
অন্টারিও ইতোমধ্যে প্রতিবেশী প্রদেশগুলোর সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। প্রদেশটি নিউফাউন্ডল্যান্ডে পাঠিয়েছে দুটি ওয়াটার বোম্বার ও চারজন ফ্লাইট ক্রু, নিউ ব্রান্সউইকে পাঠিয়েছে দুটি হেলিকপ্টার, আর সাস্কাচুয়ানে পাঠিয়েছে একটি দুর্ঘটনা ব্যবস্থাপনা দল। কিন্তু সমস্যার জায়গা হলো অন্টারিওর হাতে আর কোনো অতিরিক্ত ওয়াটার বোম্বার নেই।
প্রিমিয়ার ফোর্ড জানান, নতুন ওয়াটার বোম্বারের জন্য অর্ডার দেওয়া হলেও সরবরাহে অন্তত তিন থেকে চার বছর সময় লাগবে। কারণ, কানাডার প্রায় সব প্রদেশ একসঙ্গে এসব অগ্নিনির্বাপক বিমান কিনছে। এর ফলে উৎপাদন ও সরবরাহে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়েছে।
ন্যাশনাল ওয়াইল্ডল্যান্ড ফায়ার সেন্টারের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসেই কানাডাজুড়ে ৩,৮০০টিরও বেশি দাবানল রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, আলবার্টা ও অন্টারিও। বিশেষজ্ঞদের মতে, গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি, দীর্ঘায়িত খরা ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
প্রিমিয়ার ফোর্ডের দাবি, এখন সময় এসেছে ফেডারেল সরকারকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার। তার ভাষায়, “প্রদেশগুলো একা এই যুদ্ধ লড়তে পারবে না। ফেডারেল সম্পদ, জাতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া ছাড়া দেশের সব প্রদেশকে একসঙ্গে রক্ষা করা সম্ভব নয়।”
ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে প্রতিদিন। অনেকেই বলছেন, যদি অবিলম্বে জাতীয় পর্যায়ে অতিরিক্ত ফায়ারফাইটার, যন্ত্রপাতি ও বিমান বরাদ্দ না করা হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষত কাওয়ার্থা লেকসের মতো শুষ্ক অঞ্চলে নতুন করে আগুন লাগার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।
ফেডারেল পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে, তবে কার্যকর পদক্ষেপ কবে নাগাদ আসবে তা স্পষ্ট নয়। তাই এখন দেশের মানুষ একটাই প্রশ্ন করছে কানাডা কত দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিতভাবে দাবানলের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে?
একদিকে দাবানলের আগুন, অন্যদিকে ধীর প্রশাসনিক পদক্ষেপ দুটির মাঝখানে দাঁড়িয়ে ঝুঁকির মুখে কানাডার বনভূমি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকা।
This article was written by Helal Chowdhury as part of the LJI

