
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি নির্বাচনের শত দিনের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও এখনো নিজের স্থানীয় সংসদীয় কার্যালয় চালু করতে পারেননি। বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক মহলেই নয়, নেপিয়ান রাইডিংয়ের সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যেও বিস্ময় ও হতাশার জন্ম দিয়েছে। কারণ, সংসদীয় কার্যালয়কে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে জনপ্রতিনিধির সরাসরি যোগাযোগের সেতুবন্ধন হিসেবে ধরা হয়।
সাধারণত নতুনভাবে নির্বাচিত কোনো এমপি বা মন্ত্রীর স্থানীয় অফিস নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চালু হয়। অথচ কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও কার্নির নির্বাচনী অফিস চালু না হওয়া একেবারেই ব্যতিক্রমী ঘটনা। অটোয়া সিটিজেন পত্রিকা প্রথম বিষয়টি সামনে আনে এবং জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী কার্যালয় না থাকা একটি অস্বাভাবিক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে।
বর্তমানে নেপিয়ান এলাকার বাসিন্দারা জরুরি ফেডারেল সেবার জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিনটির অফিসে যোগাযোগ করছেন। কিন্তু সমস্যা হলো, ওই অফিসটি নেপিয়ানের বাইরে অটোয়ার দক্ষিণ রাইডিংয়ে অবস্থিত। এতে স্থানীয়দের ভোগান্তি বাড়ছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, নির্বাচনের তিন মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নিজেদের এমপির অফিস থেকে সরাসরি সেবা না পাওয়া হতাশাজনক।
পরিসংখ্যান বলছে, গড়ে প্রতিটি সংসদীয় কার্যালয়ে প্রতিবছর ৫,০০০ থেকে ৮,০০০ নাগরিক বিভিন্ন ফেডারেল সেবা গ্রহণ করেন। পাসপোর্ট আবেদন, ভিসা ও ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সহায়তা, পেনশন, ট্যাক্স ও নাগরিকত্ব বিষয়ক সেবার বড় অংশই এই কার্যালয়গুলো থেকে দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নেপিয়ান রাইডিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর অফিস না থাকায় স্থানীয়দের অন্য এলাকায় যেতে হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণকে সীমিত করছে এবং জনআস্থা ক্ষুণ্ন করছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অবশ্য বলছে, বিলম্বের কারণ মূলত নিরাপত্তা ও উপযুক্ত স্থান নির্বাচন। একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মার্ক কার্নির স্থানীয় কার্যালয়কে অন্য মন্ত্রীদের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপত্তা প্রস্তুত রাখতে হবে। সে কারণেই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ নেপিয়ানে অফিস চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
সংসদীয় তথ্যভাণ্ডার অনুযায়ী, কার্নি হবেন তার মন্ত্রিসভার শেষ সদস্য যিনি স্থানীয় রাইডিং অফিস চালু করবেন। হাউস অব কমন্সের ডিরেক্টরিতে ইতোমধ্যেই সব মন্ত্রীর অফিস তালিকাভুক্ত রয়েছে, শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর অফিস এখনো অনুপস্থিত। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, যদি এই বিলম্ব আরও দীর্ঘ হয় তবে বিরোধীদলগুলো এটিকে সমালোচনার বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে।
নেপিয়ানের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রী যত দ্রুত সম্ভব তাদের জন্য সরাসরি সেবামূলক অফিস চালু করবেন। কারণ সাংবিধানিক কার্যালয় শুধু প্রতীকী নয়, বরং গণতন্ত্রের মূল ভিতকে শক্তিশালী করার একটি মাধ্যম। এখন রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি থাকবে, মার্ক কার্নি কত দ্রুত এই ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম হন।

