
পিল রিজিয়নের ভাড়াটিয়াদের জীবনযাত্রা এক গভীর সংকটে পড়েছে। নতুন এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এই অঞ্চলের অন্তত ৩০ শতাংশ ভাড়াটিয়া তাদের বাসস্থানে তেলাপোকার উৎপাতের শিকার। শুধু তাই নয়, একই হারে ভাড়াটিয়া জানিয়েছেন, গ্রীষ্মকালে তাদের অ্যাপার্টমেন্টে অতিরিক্ত তাপমাত্রা সহ্য করা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।
ভাড়াটিয়াদের অধিকার ও সুরক্ষার জন্য কাজ করা অ্যাডভোকেসি গ্রুপ অ্যাক্রন সম্প্রতি প্রকাশ করেছে ২০২৫ সালের ভাড়াটিয়া সমীক্ষা। ব্র্যাম্পটন ও মিসিসোগার ২৫৭ জন ভাড়াটিয়াকে নিয়ে মে ও জুন মাসে পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারণ তারা বাড়তি ভাড়া গুনেও পাচ্ছেন না নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত বা আরামদায়ক আবাসন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাড়াটিয়ারা সবচেয়ে বেশি ভুগছেন কীটপতঙ্গের উৎপাত, ভাঙা এলিভেটর, পিলিং পেইন্ট, ভবনের অবহেলিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং অস্বাভাবিক গরমের মতো সমস্যায়। প্রায় ৩৬.৬ শতাংশ ভাড়াটিয়া সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, তারা প্রাদেশিক নীতিমালার চেয়ে বেশি ভাড়া দিচ্ছেন। ২৮.৪ শতাংশ ভাড়াটিয়া জানেন না তাদের ভাড়া আদৌ বৈধ সীমার মধ্যে আছে কি না।
স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার চিত্রটি আরও ভয়াবহ, ৩০ শতাংশ ভাড়াটিয়া জানিয়েছেন, তাদের ইউনিটে তেলাপোকার উপদ্রব আছে, ৩০ শতাংশের বেশি ছারপোকার শিকার এবং প্রায় ২০ শতাংশ ভাড়াটিয়ার বাসায় ইঁদুরের উৎপাত।
এসব সমস্যার কারণে শুধু শারীরিক অসুস্থতা নয়, মানসিক চাপও বাড়ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলাপোকা ও ছারপোকা হাঁপানি, অ্যালার্জি ও চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
সমীক্ষা প্রকাশের পর ব্র্যাম্পটন সিটি হলের সামনে ভাড়াটিয়ারা প্রতিবাদে নেমে আসেন। তাদের দাবি—মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং বাড়ির মালিকদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
যদিও ব্র্যাম্পটন ও মিসিসোগার সিটি মুখপাত্ররা দাবি করেছেন, সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ, এসব উদ্যোগ বাস্তবে কার্যকর হয়নি। নিয়মিত কীটনাশক স্প্রে, ভবনের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ বা ভাড়ার নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি।
কানাডার জাতীয় পরিসংখ্যান বলছে, পিল রিজিয়নে গড়ে একজন ভাড়াটিয়া তার আয়ের প্রায় ৪৭ শতাংশ আবাসনের পেছনে খরচ করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি “আবাসন দারিদ্র্যের” স্পষ্ট সূচক।
ন্যূনতম আয়ের ওপর নির্ভরশীল ভাড়াটিয়াদের জন্য এই হার আরও বেশি প্রায় ৫৫ শতাংশ।
অথচ আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি ভাড়ায় ব্যয় হলে সেটি অস্থিতিশীল আর্থিক পরিস্থিতি হিসেবে ধরা হয়।
অন্যদিকে, গত পাঁচ বছরে ব্র্যাম্পটন ও মিসিসোগায় গড়ে ভাড়া বেড়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ। কিন্তু ভবনের রক্ষণাবেক্ষণে সেই তুলনায় কোনো উন্নতি হয়নি।
অ্যাক্রন গ্রুপের মতে, এখনই যদি কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন না হয়, তবে ভাড়াটিয়াদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের জন্য কীটপতঙ্গের উৎপাত ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।
সমীক্ষা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে পিল রিজিয়নের ভাড়াটিয়ারা নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসনের জন্য এক গভীর সংকটে আছেন। এখন প্রশ্ন হলো নীতিনির্ধারকরা কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন, নাকি ভাড়াটিয়াদের দুঃখ-দুর্দশা আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে?
This article was written by Helal Chowdhury as part of the LJI

