
অন্টারিওর রাস্তায় বসানো স্বয়ংক্রিয় স্পিড এনফোর্সমেন্ট ক্যামেরা নিয়ে নতুন করে উত্তপ্ত বিতর্ক ছড়িয়েছে। প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড সম্প্রতি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন, তিনি প্রদেশজুড়ে এই ক্যামেরা ব্যবহারের কড়া বিরোধী। তাঁর অভিযোগ “এগুলো রাস্তার নিরাপত্তার জন্য নয়, সাধারণ মানুষকে জরিমানার ফাঁদে ফেলেই সরকারের আয় বাড়ানোর হাতিয়ার।”
ডগ ফোর্ড বলেন, “মানুষ প্রতিদিন কাজের পেছনে ছুটছে, পরিবার সামলাচ্ছে। সামান্য গতিবেগ বেশি হলেই তাদের বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হচ্ছে। এটা মূলত এক ধরনের লুকানো ট্যাক্স।” তাঁর বক্তব্য, স্পিড ক্যামেরাগুলো দুর্ঘটনা কমানোর বদলে রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্যই বেশি কার্যকর।
কিন্তু শহর প্রশাসনের পরিসংখ্যান এক ভিন্ন চিত্র দেখায়। বর্তমানে অন্টারিওজুড়ে সক্রিয় আছে প্রায় ৪৫০টির বেশি স্পিড ক্যামেরা, যার মধ্যে শুধু টরন্টোতেই রয়েছে ২৫০টিরও বেশি। ২০২৪ সালে এসব ক্যামেরা থেকে ইস্যু হয়েছে প্রায় ১১ লাখ স্পিড টিকিট, যা থেকে সিটির রাজস্ব এসেছে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলার। তবে টরন্টো সিটি দাবি করছে, ক্যামেরা চালুর পর রাস্তার গড় গতিবেগ ৪৫ শতাংশ কমেছে এবং দুর্ঘটনা ১৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে স্কুল জোন ও শিশুবান্ধব এলাকায় এই প্রভাব আরও স্পষ্ট।
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, টরন্টোর ৬১ শতাংশ বাসিন্দা স্পিড ক্যামেরার পক্ষে। তাঁদের মতে, এটি রাস্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখে। বিপরীতে প্রায় ৩০ শতাংশ বাসিন্দা বিশ্বাস করেন, এই ক্যামেরা শুধু নগর সরকারের রাজস্ব আয়ের উৎস। শহরের বাইরের অনেক এলাকায় ক্ষোভ আরও তীব্র। সেখানকার বাসিন্দারা মনে করেন, ক্যামেরা শুধু জরিমানার বোঝা বাড়াচ্ছে, আর সেই অসন্তোষকে কাজে লাগাতে চাইছেন ফোর্ড।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডগ ফোর্ডের এই কড়া অবস্থান আসন্ন প্রাদেশিক নির্বাচনের আগে এক কৌশল। শহরের বাইরের ভোটারদের বড় একটি অংশ স্পিড ক্যামেরা বিরোধী; তাঁদের সমর্থন পেতে ফোর্ডের এই অবস্থান কার্যকর হতে পারে। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ক্যামেরা তুলে দিলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আবারও বাড়বে। তাঁদের যুক্তি, এই ক্যামেরা কেবল রাজস্ব নয়, মানুষের জীবন বাঁচাতেও বড় ভূমিকা রাখছে।
ফোর্ডের মন্তব্যের পর অন্টারিওজুড়ে মূল আলোচ্য বিষয় সড়ক নিরাপত্তা নাকি রাজস্ব আয়, কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? শহর প্রশাসন জোর দিয়ে বলছে, দুর্ঘটনা হ্রাসই তাদের লক্ষ্য। অন্যদিকে প্রিমিয়ার মনে করছেন, সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হচ্ছে।
এই দ্বন্দ্বে একদিকে রয়েছে নগরবাসীর নিরাপত্তার দাবি, অন্যদিকে আছে রাজনৈতিক কৌশল ও রাজস্বের প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত অন্টারিওবাসী কি বেছে নেবে ক্যামেরার নিরাপত্তা নাকি জরিমানাহীন স্বাধীনতা তা এখন সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

