মা দিবসেও সাংসদ

মা দিবসেও সাংসদ - the Bengali Times
মা বা বাবা দিবসে লক্ষ্য করবেন তাঁদের উপস্থাপন করার সময় উপাধীডিগ্রি বলার পর মাবাবার নাম উল্লেখ করবে

মা বা বাবা দিবসে লক্ষ্য করবেন, তাঁদের উপস্থাপন করার সময় উপাধী/ডিগ্রি বলার পর মা/বাবার নাম উল্লেখ করবে। কেন, মা দিবসেও সাংসদ, মন্ত্রী, প্রফেসর, ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার না বলে শুধু একজন “মা” হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না?

কিছু মানুষকে কখনোই দেখবেন না তার মা বাবাকে অধ্যাপক বাদে পরিচয় করাতে। যেন তিনশো পয়ষট্টি দিনের মধ্যে মাত্র একদিন শুধু মা হিসাবে দেখালেও জাত যাবে। যেন শুধু মা কোনো মা-ই নয়। সে যে একজন ভাল বাবা, একজন অসাধারণ ব্যাক্তি; সেটার উল্লেখ গৌণ। যোগ্যতা/ডিগ্রি উল্লেখ করা অবশ্যই উচিৎ, প্রয়োজন; কিন্তু বাবা পরিচয়ের পরে।

- Advertisement -

কেউ মারা গেলে এনাউন্সমেন্ট অনেকটা এরকম:

একটি শোক সংবাদ।

অমুক পাড়ার নিবাসী, সরকারি কলেজের প্রিন্সিপালের বেয়াই, বিশিষ্ট সমাজ সেবক দেশরত্ন সাবেক পৌরসভা চেয়ারম্যানের বড় ভাই, মাননীয় সংসদ সদস্যের চাচা, প্রধানমন্ত্রীর সচীবের খালাতো ভাই, রুপালী হার্ডওয়্যার এর মলিকের আপন মামা জনাব পাতা বাহার আজ নয় ঘটিকায় ইন্তেকাল করিয়াছে..

ছেলে কী করে?

কানাডা থাকে।

ভাই আপনার নামটা?

আমি ডাক্তার মমিনুর হক।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থা প্রতিষ্ঠানিক ডিগ্রি পাওয়া শিক্ষিতদের। এরা কোনো কিছু বিচার করার আগে নিজের সার্টিফিকেট সালাম করে তারপর বক্তব্য দেয়। কনফিডেন্টলী হাজারটা ভুল চিন্তার বন্যা বইয়ে দিলেও  কেউ সমালোচনা করলে ডিগ্রী দেখাবে। বলবে, জানেন আমি কে? আমার যোগ্যতা সম্পর্কে ধারনা আছে?

আরও ভয়াবহ অবস্থা পয়সাওয়ালাদের।

বড়লোক যেহেতু বলছে, ঠিকই বলছে।

আর কবি, লেখকদের অবস্থা খুব শোচনীয়।

স্টাটাস দেবে, আজ আমরা পাঁচ কবি কফি শপে আড্ডা দিচ্ছি। ভাগ্য ভালো নন-কবি কেউ ছিল না; থাকলে তখন কীভাবে স্টাটাস দিতো? সে যে একজন লেখক বা কবি, তা বারবার উল্লেখ করে সুখ পাবে। যেন লেখা ছাড়া আর কোন কাম নাই; বাথরুমে যায় না, কাজ করে না, নখ কাটে না..।

টক শোতে মুরুব্বিদের থলের বেড়াল বেরিয়ে গেলে  চোখ রাঙিয়ে অল্পবয়সী প্রতিপক্ষ রাজনীতিবিদ কে বলতে দেখেছি: এই ছেলে! তোমার বয়স কতো? বেয়াদব!

বুদ্ধিমত্তার অভাব থাকলে মিথ্যা অহংকারই সবচেয়ে সেইফ জোন।

অবশ্য সবাই এরকম করে না…

 

অটোয়া, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles