অটোয়ার প্রতি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান নবায়ন করার আহ্বান হাভানার

অটোয়ার প্রতি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান নবায়ন করার আহ্বান হাভানার - the Bengali Times
দশকের পর দশক ধরে কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে কানাডা

দশকের পর দশক ধরে কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে কানাডা। ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখেও সেই অবস্থান থেকে সরে না আসতে অটোয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হাভানা। কিউবার আশঙ্কা, দেশটির পাশে দাঁড়ানো বিভিন্ন রাষ্ট্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।

কানাডায় নিযুক্ত কিউবার রাষ্ট্রদূত রড্রিগো মালমিয়েরকা ডিয়াজ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, অতীতের মতো এবারও কানাডা কিউবার পাশে থাকবে বলে তারা আশাবাদী। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং তা আরও কঠোর করার পদক্ষেপ কার্যত কিউবার সাধারণ মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে।

- Advertisement -

এদিকে কিউবার ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে জাতিসংঘে দেশটির উত্থাপিত একটি প্রস্তাবের ওপর আগামী সপ্তাহে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৯২ সাল থেকে প্রতিবছরই জাতিসংঘে এ ধরনের প্রস্তাব তুলে আসছে কিউবা। অতীতের বিভিন্ন ভোটাভুটিতে কানাডা প্রস্তাবটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

কিউবার ওপর চাপ বাড়াতে এবার জ্বালানি সরবরাহকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। হাভানার অভিযোগ, জ্বালানি সংকট তৈরি করে দেশটির কমিউনিস্ট সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। এরই ধারাবাহিকতায় গত জানুয়ারিতে কিউবায় ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি কিউবায় তেল বিক্রি করে এমন দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

তবে এসব চাপের কাছে নতি স্বীকারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন কিউবার রাষ্ট্রদূত। মালমিয়েরকা বলেন, দেশের জনগণ প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে, কারণ কিউবার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বই তাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। এ দুটি বিষয় রক্ষায় দেশটি কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে অবশ্য আলোচনার পথ খোলা রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য, কিউবা ওয়াশিংটনের সঙ্গে স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল সম্পর্ক চায় এবং এ লক্ষ্যে সংলাপে বসতে প্রস্তুত। মালমিয়েরকার দাবি, যেসব দেশ কিউবাকে সহায়তা করছে, তাদের কয়েকটি ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে হুমকির মুখে পড়েছে। জাতিসংঘে অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সুবিধা ও অনুদান থেকে বঞ্চিত করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

কানাডার অবস্থান নিয়ে আশাবাদী হলেও দেশটির নিজস্ব অর্থনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন কিউবা। রাষ্ট্রদূত স্বীকার করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মুখে কানাডার অর্থনীতিও রয়েছে। ফলে কিউবার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে অটোয়ার সামনে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

মালমিয়েরকার মতে, কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কারণে চলতি বছরটি দেশটির জন্য বিশেষভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অবস্থান থেকে সরে আসবে না হাভানা।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles