
আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পাওয়ার দিনেই নতুন বিতর্কে জড়ালেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া, গালাগাল এবং তার নিরাপত্তাকর্মীদের ধাক্কাধাক্কিতে এক বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েও আলোচনার জন্ম দেন এই অভিনেত্রী।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন পরীমনি। পরে ৫০০ টাকা মুচলেকায় জামিন পান তিনি। তবে আদালত থেকে বের হওয়ার সময়ই শুরু হয় হট্টগোল।
পরীমনির অভিযোগ, ভিড়ের মধ্যে কেউ তাকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিকের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ভিডিও ধারণ করায় ওই সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন পরীমনি এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। যদিও সাংবাদিকের দাবি, পরীমনির এমন আচরণের পেছনে তার ভিডিও ধারণ করাই ছিল কারণ।
এদিকে পরীমনির সঙ্গে আসা কালো পোশাকধারী ১০ জন নিরাপত্তাকর্মীর ধাক্কাধাক্কিতে আদালত প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এ সময় এক সাধারণ বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার পাশাপাশি একটি ট্রাইপড ভাঙার অভিযোগও উঠেছে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে।
আদালত থেকে বেরিয়ে নিজের ফেসবুকেও আপত্তিকর ও আক্রমণাত্মক ভাষায় একটি পোস্ট দেন পরীমনি। মাত্র দুটি শব্দের ওই পোস্টে কাকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই পোস্টটিতে বিপুলসংখ্যক প্রতিক্রিয়া পড়ে। মন্তব্যের ঘর বন্ধ থাকায় অনুসারীরা সরাসরি সেখানে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেননি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টা ও ভাঙচুর মামলায় গত বুধবার আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল পরীমনির। কিন্তু অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। ফলে আদালত তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর পরদিনই নিরাপত্তাকর্মীদের বহর নিয়ে আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
আদালত ঘিরে বিতর্কে জড়ানো পরীমনির জন্য অবশ্য নতুন কিছু নয়। ২০২১ সালে মাদক মামলায় কারামুক্তির সময় প্রিজন ভ্যান থেকে বের হয়ে হাতের তালুতে ‘ডোন্ট লাভ মি বিচ’ লিখে প্রদর্শন করেছিলেন তিনি। সে সময় ক্যামেরার সামনে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেও সমালোচনার মুখে পড়েন এই অভিনেত্রী। এ ছাড়া রিমান্ড শুনানির সময় আদালতে চিৎকার ও পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনাও আলোচনায় এসেছিল।
জামিন পাওয়ার দিনেও আদালত প্রাঙ্গণে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনা নতুন করে পরীমনির আচরণ ও জনসমক্ষে তার দায়িত্বশীলতা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

