ধনী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয়, বিয়ের ফাঁদে সর্বস্বান্ত ২০ নারী পুলিশ

ধনী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয়, বিয়ের ফাঁদে সর্বস্বান্ত ২০ নারী পুলিশ - the Bengali Times
নিজেকে ধনী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিতেন ২৩ বছর বয়সী বিক্রান্ত

ইনস্টাগ্রামে দামি রেস্তোরাঁ, বিলাসবহুল গাড়ি আর ব্যয়বহুল কফি ডেটের ছবি-ভিডিও পোস্ট করে নিজেকে ধনী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিতেন ২৩ বছর বয়সী বিক্রান্ত। অভিযোগ, এই চাকচিক্যময় জীবনযাপনের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিল্লি পুলিশের প্রায় ২০ জন নারী কনস্টেবলের কাছ থেকে প্রায় ২৪ লাখ রুপি হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় বিক্রান্তকে দিল্লির বুরারি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ভারতীয় পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, নিজের বিলাসবহুল জীবনযাপনের মিথ্যা প্রদর্শন করে নারী কনস্টেবলদের বিশ্বাস অর্জন করতেন বিক্রান্ত। পরে নানা অজুহাতে তাঁদের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিতেন।

- Advertisement -

তদন্তকারীদের দাবি, বিক্রান্ত বিশেষভাবে একই ব্যাচের নারী কনস্টেবলদের লক্ষ্যবস্তু বানাতেন। করোলবাগ থানায় কর্মরত এক নারী কনস্টেবল বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করার পর ঘটনাটি সামনে আসে। পরে তদন্তে আরও কয়েকজন নারী কনস্টেবলের সঙ্গে একই ধরনের প্রতারণার তথ্য পাওয়া যায়।

ভাড়া করা গাড়িতে বিলাসিতার অভিনয়

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, নারীদের প্রভাবিত করতে অভিনব কৌশল ব্যবহার করতেন বিক্রান্ত। তিনি প্রায়ই আট ঘণ্টার জন্য বিলাসবহুল গাড়ি ভাড়া করে নারী কনস্টেবলদের নিয়ে ঘুরতে যেতেন। এভাবে নিজের বিত্তবৈভবের ধারণা তৈরি করে তাঁদের আস্থা অর্জন করতেন। পরে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিতেন বলে অভিযোগ।

প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ২০ জন নারী কনস্টেবলের প্রতারণার শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের অধিকাংশই একই ব্যাচের সদস্য। তবে সামাজিক লজ্জা ও ভয়ের কারণে এখনো অনেক ভুক্তভোগী আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনায় আরও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে বিক্রান্তের লিভ-ইন সঙ্গীকে ঘিরে। তিনিও দিল্লি পুলিশের একজন নারী কনস্টেবল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, তাঁর মাধ্যমে বিক্রান্ত নিজের ব্যাচের অন্য নারী কনস্টেবলদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

বেটিং অ্যাপের ব্যাংক হিসাবেও নজর

প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ কোথায় খরচ হয়েছে, তা জানতে অর্থ লেনদেনের সূত্র ধরে তদন্ত করছে পুলিশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অর্থ স্থানান্তরের জন্য ‘ওয়ানএক্স’ বেটিং অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্রান্তের বিরুদ্ধে এর আগেও একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগে অন্তত পাঁচটি এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে। মায়াপুরি, হরি নগর, ইন্দ্রপুরী এবং পূর্ব জেলা সাইবার থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। চলতি বছরের জুনে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

বর্তমানে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট সাইবার পুলিশ স্টেশনে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই প্রতারণার ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, অর্থের প্রকৃত গন্তব্য কোথায় এবং কতজন নারী প্রতারণার শিকার হয়েছেন—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles