
হার্ট অ্যাটাক বলতেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে তীব্র বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট কিংবা হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়ার দৃশ্য। কিন্তু সব সময় হার্ট অ্যাটাক এতটা স্পষ্ট লক্ষণ নিয়ে আসে না। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে কিছু উপসর্গ তুলনামূলকভাবে হালকা বা ভিন্ন ধরনের হতে পারে। ফলে গ্যাসের সমস্যা, দুর্বলতা কিংবা মানসিক চাপ ভেবে সেগুলো উপেক্ষা করার ঝুঁকি থাকে।
চিকিৎসক ডা. কুনাল সুদ নারীদের হার্ট অ্যাটাকের চারটি তুলনামূলক কম পরিচিত লক্ষণের কথা জানিয়েছেন। এক ভিডিওতে এসব উপসর্গের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, হঠাৎ দেখা দেওয়া এমন লক্ষণকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়।
বুকে চাপ বা অস্বস্তি
হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম পরিচিত লক্ষণ বুকের মাঝখানে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হওয়া। তবে এই ব্যথা সব সময় তীব্র নাও হতে পারে। বুক ভারী লাগা, চেপে ধরার মতো অনুভূতি কিংবা বুকের ভেতর অস্বস্তিও দেখা দিতে পারে।
অনেকে এমন অস্বস্তিকে গ্যাস বা বদহজমের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু হঠাৎ এ ধরনের অনুভূতি শুরু হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে অন্য জায়গায়
হার্টের সমস্যার ব্যথা শুধু বুকেই সীমাবদ্ধ থাকবে—এমন নয়। নারীদের ক্ষেত্রে চোয়াল, ঘাড়, এক বা দুই হাত, পিঠ কিংবা পেটেও ব্যথা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
তাই বুকের ব্যথা না থাকলেও শরীরের এসব অংশে হঠাৎ অস্বাভাবিক ব্যথা বা চাপ অনুভূত হলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
হঠাৎ শ্বাসকষ্ট
পরিশ্রম বা অতিরিক্ত কাজের কারণে শ্বাসকষ্ট হওয়া স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, বিশেষ করে এর সঙ্গে বুকের অস্বস্তি বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে, বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
হার্ট অ্যাটাকের সময় বুকব্যথা ছাড়াও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।
ঠাণ্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব বা মাথা ঘোরা
হঠাৎ ঠাণ্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব, বমি কিংবা মাথা ঝিমঝিম করার মতো অনুভূতিও হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণকে অনেক সময় গ্যাস্ট্রিক, ফ্লু, মানসিক চাপ বা সাধারণ দুর্বলতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।
বিশেষ করে একাধিক উপসর্গ একসঙ্গে এবং হঠাৎ শুরু হলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
কখন দ্রুত চিকিৎসা নেবেন?
ডা. কুনাল সুদের মতে, নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ অনেক সময় সূক্ষ্ম হতে পারে। তাই হঠাৎ বুকের চাপ, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা কিংবা শরীরের অন্য অংশে অস্বাভাবিক ব্যথা দেখা দিলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
তবে এসব উপসর্গ দেখা দিলেই যে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, তা নয়। একই ধরনের লক্ষণ অন্য অনেক শারীরিক সমস্যার কারণেও হতে পারে। কিন্তু উপসর্গ যদি হঠাৎ শুরু হয়, তীব্র হয় বা একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দেয়, তখন গ্যাসের সমস্যা ভেবে বসে না থেকে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ।

