নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিতর্ক

নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিতর্ক - the Bengali Times
সোমবার অটোয়াতে অ্যাসোসিয়েশন অব মিউনিসিপালিটিজ অব অন্টারিওর প্রতিনিধিদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তৃতায় এ বিষয়ে মন্তব্য করেন ফোর্ড

প্রদেশে নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ বাধাগ্রস্ত হলে কানাডীয়দের গুরুত্বপূর্ণ উপাত্ত শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে চলে যেতে পারে। এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে সতর্ক করেছেন অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড। তাঁর দাবি, এতে কানাডার তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও বেশি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

সোমবার অটোয়াতে অ্যাসোসিয়েশন অব মিউনিসিপালিটিজ অব অন্টারিওর প্রতিনিধিদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তৃতায় এ বিষয়ে মন্তব্য করেন ফোর্ড। নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে প্রদেশের কয়েকটি পৌরসভার সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পরই তাঁর এই বক্তব্য সামনে এল। সম্প্রতি নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের ওপর এক বছরের স্থগিতাদেশ জারি করেছে ওকভিল। একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি আগামী মাসে বিবেচনা করতে পারে মিসিসাগা সিটি কাউন্সিলও।

- Advertisement -

ফোর্ডের মতে, অন্টারিওতে ডেটা সেন্টার নির্মাণের সুযোগ সীমিত করা হলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও আসতে পারে। বরং কানাডার তথ্য সংরক্ষণের জন্য অন্য দেশের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে। তিনি বলেন, নিজেদের ডেটা বিদেশে চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করা হবে সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, কানাডার উপাত্তের নিয়ন্ত্রণ এমন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়, যিনি খুব দ্রুত কানাডার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেন। তাই তথ্যের সার্বভৌমত্ব নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্ব কানাডাকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্টারিও সরকার ইতিমধ্যেই ডেটা সেন্টার শিল্পের জন্য নতুন একটি নীতিকাঠামো ঘোষণা করেছে। এর আওতায় নতুন ডেটা সেন্টারগুলোকে বিদ্যুতের জন্য আলাদা ও তুলনামূলক বেশি হারে অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সরকারের লক্ষ্য, এই দ্রুত সম্প্রসারিত শিল্পের বাড়তি বিদ্যুৎ চাহিদার খরচের বোঝা যেন অন্য গ্রাহক বা শিল্প খাতের ওপর না পড়ে। পরিবেশগত প্রভাব কমানোর বিষয়টিও নতুন কাঠামোয় গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে যেসব ডেটা সেন্টার ক্লোজড-লুপ কুলিং বা পানি পুনর্ব্যবহারভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রাদেশিক সরকার। এই ধরনের ব্যবস্থায় ডেটা সেন্টারের পরিচালন প্রক্রিয়ায় পানির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়, যা জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ফোর্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, ডেটা সেন্টারকে শুধু প্রযুক্তিগত অবকাঠামো হিসেবে দেখলে হবে না। এর সঙ্গে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও জড়িয়ে রয়েছে। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে অন্টারিও বিপুল পরিমাণ কর রাজস্ব অর্জনের সুযোগ পেতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে ডেটা সংরক্ষণের ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে কানাডীয়দের তথ্যের ওপর দেশের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণও বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

ফোর্ডের বক্তব্যের মূল বার্তা হলো : ডেটা সেন্টার নির্মাণের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ, পানি ও পরিবেশের ওপর চাপ সামলানোর পাশাপাশি তথ্যের সার্বভৌমত্বের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। তাঁর মতে, কানাডার গুরুত্বপূর্ণ উপাত্ত যেন ভবিষ্যতে বিদেশি সরকারের নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবের আওতায় না যায়, সেটি নিশ্চিত করাও এই নীতির অন্যতম বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত।

সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles