সব হারিয়ে পাথরের ওপর নির্বাক তরুণীর ভাইরাল ছবির পেছনের গল্প কাঁদাবে

সব হারিয়ে পাথরের ওপর নির্বাক তরুণীর ভাইরাল ছবির পেছনের গল্প কাঁদাবে - the Bengali Times
পাথরের ওপর বসে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা তার একটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে

চারদিকে ধ্বংসস্তূপ। কাদার স্রোত আর পাথরের স্তূপে হারিয়ে গেছে ঘরবাড়ি। চোখের সামনে স্বজনদের হারিয়ে বেঁচে গেছেন এক তরুণী। কিন্তু সেই বেঁচে থাকা যেন তার কাছে কোনো আনন্দের নয়। পাথরের ওপর বসে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা তার একটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেই বিপর্যয়ের বিভিন্ন দৃশ্যের মধ্যে তরুণীর নির্বাক বসে থাকার ছবিটি বিশেষভাবে মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, পাথরের ওপর নিস্তব্ধ হয়ে বসে আছেন তিনি। তার চারপাশে নেপালি সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যকে দেখা যায়। জানা গেছে, তারাই ওই তরুণীকে উদ্ধার করেছিলেন।

- Advertisement -

তরুণীকে উদ্ধারের পরও তার চোখেমুখে ছিল গভীর আতঙ্ক ও শূন্যতা। জানা গেছে, আকস্মিক হড়পাবান ও ভূমিধসের স্রোতে তার ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও হারিয়েছেন তিনি। চোখের সামনে আপনজন ও পরিচিত সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঘটনা তাকে গভীর মানসিক আঘাতের মধ্যে ফেলেছে।

সামাজিক মাধ্যমে ‘স্যাফরন চার্জার্স’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে। অসংখ্য মানুষ ভিডিওটি দেখে ওই তরুণীর প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, শারীরিকভাবে বেঁচে গেলেও প্রিয়জনদের হারানোর ধাক্কা থেকে বেরিয়ে আসা তার জন্য সহজ হবে না।

এদিকে নেপালের রাসুয়া জেলায় আরেকটি উদ্ধারকাজের ঘটনাও মানুষের নজর কেড়েছে। হড়পাবান ও কাদার ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৬০ ঘণ্টা আটকে থাকার পর ৫ থেকে ৬ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ভাঙা টিনের শেডের নিচে আটকে ছিল শিশুটি।

দীর্ঘ সময় পর শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্বস্তির পাশাপাশি বিস্ময়ও প্রকাশ করেন অনেকে। ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে দুই ভিন্ন বয়সের দুই মানুষের বেঁচে থাকার গল্পই এখন সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

তবে উদ্ধার পাওয়ার পরও বিপর্যয়ের মানসিক ক্ষত সহজে মুছে যাওয়ার নয়। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের হারানো ওই তরুণীর শূন্য দৃষ্টি যেন সেই গভীর কষ্টেরই প্রতিচ্ছবি। অন্যদিকে ছোট্ট শিশুটির সামনে পড়ে আছে দীর্ঘ জীবন। ধ্বংসস্তূপ থেকে শারীরিকভাবে উদ্ধার পেলেও তাদের মানসিক ক্ষত সারিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

 

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles