
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলার মানুষের পাশে দাঁড়াতে নতুন করে মানবিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে কানাডা সরকার। দেশটির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক সেক্রেটারি অব স্টেট রনদ্বীপ সারাই জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ৪০ লাখ কানাডিয়ান ডলার অনুদান দেওয়া হবে। এর ফলে গত সপ্তাহে ঘোষিত ত্রাণ তহবিলের সঙ্গে নতুন অর্থ যোগ হয়ে কানাডার সহায়তার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেল।
রনদ্বীপ সারাই দি কানাডিয়ান প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভেনেজুয়েলার মানুষের এই কঠিন সময়ে কানাডিয়ানদের মধ্যে সহমর্মিতার মনোভাব অত্যন্ত শক্তিশালী। তাঁর ভাষায়, কানাডার সঙ্গে ভেনেজুয়েলার মানুষের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে এবং সেই সম্পর্কের ভিত্তিতেই দুর্যোগের এই মুহূর্তে কানাডা তাদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব অনুভব করছে।
গত বুধবার ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় লা গুয়াইরা রাজ্য, যেখানে বহু ভবন ধসে পড়ে এবং হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন। উদ্ধারকাজ চলাকালেই গত সোমবার ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি আফটারশক অনুভূত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা ও খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ অব্যাহত রেখেছেন।
নতুন ঘোষণার আওতায় কানাডিয়ান রেড ক্রসকে অতিরিক্ত ২০ লাখ ডলার দেওয়া হবে। এই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা, অস্থায়ী আশ্রয় এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী সরবরাহে ব্যয় করা হবে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সাহায্য সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত হিউম্যানিটারিয়ান কোয়ালিশন পাবে আরও ২০ লাখ ডলার। এই জোটের সদস্য সংস্থাগুলো স্থানীয় অংশীদারদের মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে দ্রুত ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
রনদ্বীপ সারাই বলেন, অতিরিক্ত এই অর্থায়নের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করা কানাডিয়ান মানবিক সংস্থাগুলো তাদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে পারবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাদ্য, নিরাপদ আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। তাঁর মতে, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৪৩ জনে। আহত হয়েছেন আরও ১০ হাজার ৫৭১ জন। হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি এবং স্বাস্থ্যসেবার সংকট অনেক এলাকায় এখনো তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর শুধু তাৎক্ষণিক ত্রাণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কানাডার নতুন অর্থায়ন সেই প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকেও ভেনেজুয়েলার পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

