স্কুলে উপস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন শিক্ষামন্ত্রী

স্কুলে উপস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন শিক্ষামন্ত্রী - the Bengali Times
সরকারের নতুন স্কুল হাজিরা নীতিকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর অভিভাবকদের আশ্বস্ত করেছেন প্রদেশটির শিক্ষামন্ত্রী পল ক্যালান্দ্রা

অন্টারিও সরকারের নতুন স্কুল হাজিরা নীতিকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর অভিভাবকদের আশ্বস্ত করেছেন প্রদেশটির শিক্ষামন্ত্রী পল ক্যালান্দ্রা। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলেও শিক্ষার্থীরা ক্রীড়া, সংগীত, বিতর্ক কিংবা অন্যান্য শিক্ষামূলক সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত থাকার অনুমতি আগের মতোই আবেদন করে পেতে পারবে। সরকারের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের এসব কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা নয়, বরং নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করা।

সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন হাজিরা নীতিতে বলা হয়েছে, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত মূল্যায়নে উপস্থিতি ও শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর অনেক অভিভাবক, ক্রীড়া সংগঠক এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ দেখা দেয়। বিশেষ করে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে, নতুন নিয়মের কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলের বাইরে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা কিংবা অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত হতে পারে।

- Advertisement -

বিতর্কের সূত্রপাত হয় সোমবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পর। সেখানে শিক্ষামন্ত্রী পল ক্যালান্দ্রাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, নতুন উপস্থিতি নীতি কার্যকর হলে অভিভাবকদের উচিত হবে এমনভাবে পরিকল্পনা করা যাতে ক্রীড়া টুর্নামেন্টের কারণে সন্তানদের স্কুলে অনুপস্থিত থাকতে না হয়। এই মন্তব্যের পরই বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

সমালোচকদের দাবি ছিল, খেলাধুলা, সংগীত, বিতর্কসহ নানা সহশিক্ষা কার্যক্রম শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত দক্ষতা বিকাশেই সহায়তা করে না, বরং নেতৃত্ব, দলগত কাজ, আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক সুস্থতা গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শুধুমাত্র শ্রেণিকক্ষের উপস্থিতির ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দিলে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে মঙ্গলবার এক লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী পল ক্যালান্দ্রা। সেখানে তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানান, নতুন উপস্থিতি নীতির লক্ষ্য কখনোই শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা নয়। তিনি বলেন, অভিভাবকেরা আগের মতোই শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য সন্তানদের অনুপস্থিতির আবেদন করতে পারবেন। এর আওতায় থাকবে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সংগীত পরিবেশনা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং স্কুল অনুমোদিত অন্যান্য শিক্ষামূলক কার্যক্রম। অর্থাৎ এসব ক্ষেত্রে অনুপস্থিতির আবেদন করার সুযোগ বহাল থাকবে এবং বিষয়টি নতুন নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।

তবে শিক্ষামন্ত্রী একই সঙ্গে এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, এই সুবিধা যেন নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত না হয়। বিশেষ করে প্রতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বা টুর্নামেন্টের কারণে শিক্ষার্থীরা যেন ঘন ঘন ক্লাস মিস না করে, সে বিষয়েও তিনি অভিভাবকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম উভয়ের মধ্যেই একটি ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।

নতুন নীতির আওতায় আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে উপস্থিতি ও শ্রেণিকক্ষে সক্রিয় অংশগ্রহণের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত নম্বরের একটি নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ করা হবে। গ্রেড ৯ ও ১০-এর শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত নম্বরের ১০ শতাংশ উপস্থিতি ও শ্রেণিকক্ষের অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করবে। একইভাবে গ্রেড ১১ ও ১২-এর শিক্ষার্থীদের জন্যও এই মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ১০ শতাংশ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া কিছু কোর্স ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে উপস্থিতির গুরুত্ব আরও বেশি হতে পারে, যেখানে মোট মূল্যায়নের ১৫ শতাংশ পর্যন্ত উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। কোনো শিক্ষার্থী যথাযথ কারণ ছাড়াই একাধিকবার অনুপস্থিত থাকলে এই অংশের পূর্ণ নম্বর পাওয়া কঠিন হবে।

অবশ্য সরকার স্পষ্ট করেছে, সব ধরনের অনুপস্থিতিকে একইভাবে দেখা হবে না। অসুস্থতা, অনুমোদিত ছুটি কিংবা অন্যান্য গ্রহণযোগ্য কারণ থাকলে সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে। একইভাবে নির্দিষ্ট শিক্ষামূলক বা সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় অনুমতির ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

নতুন নীতির মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি বাড়ানো এবং শেখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। তবে একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের সুযোগও যেন অক্ষুণ্ন থাকে, সেটিই এখন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক ব্যাখ্যা সেই উদ্বেগ অনেকটাই কমিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নতুন শিক্ষাবর্ষে নীতিটির বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হয় এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ কতটা নমনীয়ভাবে এটি কার্যকর করে, সেদিকেই এখন নজর থাকবে অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের।

সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles