বিশেষ চাহিদার খেলার মাঠ নির্মাণ স্থগিত

বিশেষ চাহিদার খেলার মাঠ নির্মাণ স্থগিত - the Bengali Times
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য নির্মাণাধীন একটি নতুন খেলার মাঠের কাজ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে টরন্টোর সানি ভিউ জুনিয়র অ্যান্ড পাবলিক স্কুলের অভিভাবকদের মধ্যে

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য নির্মাণাধীন একটি নতুন খেলার মাঠের কাজ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে টরন্টোর সানি ভিউ জুনিয়র অ্যান্ড পাবলিক স্কুলের অভিভাবকদের মধ্যে। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা, তহবিল সংগ্রহ এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের পরও কেন প্রকল্পটি মাঝপথে থেমে গেল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তারা।

এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা স্থানীয়ভাবে আয়োজিত ‘স্পিকার্স কর্ণার’-এ নিজেদের উদ্বেগ ও দাবি তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, যেসব শিশু প্রতিদিন এই স্কুলে আসে, তাদের অনেকেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন। তাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশের জন্য একটি নিরাপদ ও প্রবেশযোগ্য খেলার মাঠ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অথচ সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পই এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

- Advertisement -

অভিভাবক স্যামুয়েল স্যাম জানান, স্কুলের পুরোনো খেলার মাঠটি এতটাই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল যে সেটি শিশুদের জন্য আর নিরাপদ ছিল না। তার ভাষায়, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের কাছে খেলার মাঠ শুধু বিনোদনের জায়গা নয়, বরং এটি তাদের থেরাপির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে তারা শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানসিক স্বস্তি ও সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ পায়। ফলে নতুন খেলার মাঠ নির্মাণ তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

এই প্রকল্পের পেছনে রয়েছে একটি হৃদয়স্পর্শী গল্প। ২০২২ সালে স্কুলের এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তার স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে পরিবার একটি নতুন, আধুনিক ও সবার জন্য ব্যবহারযোগ্য খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। সেই লক্ষ্যেই শুরু হয় তহবিল সংগ্রহ অভিযান। স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক এবং বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহও সম্ভব হয়।

এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রকল্পের নকশা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তাব সিটি প্রশাসনের কাছে জমা দেয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নকশা পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেয় এবং নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পারমিটও ইস্যু করা হয়। ফলে অভিভাবকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয় যে বহু প্রতীক্ষিত এই প্রকল্প অবশেষে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

গত মে মাসে নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। পুরোনো খেলার মাঠটি ঘিরে ফেলা হয় এবং নির্মাণকর্মীরা কাজও শুরু করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাত্র এক থেকে দুই মাসের জন্য খেলার মাঠটি বন্ধ রাখা হবে এবং সেপ্টেম্বর মাসে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগেই শিশুরা একটি আধুনিক, নিরাপদ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের উপযোগী খেলার মাঠ পাবে এমনটাই আশা করেছিলেন সবাই।

কিন্তু সেই আশায় বড় ধাক্কা লাগে চলতি মাসের শুরুতে। কোনো পূর্বঘোষণা বা স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই হঠাৎ করে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। কেন কাজ বন্ধ হলো, কবে আবার শুরু হবে কিংবা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কী এসব বিষয়ে তারা এখনো কোনো পরিষ্কার উত্তর পাননি।

অনু সিং প্রশ্ন তুলে বলেন, সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্পের নকশা পর্যালোচনার জন্য যথেষ্ট সময় ছিল। তারা পরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে, পারমিটও ইস্যু করেছে। তাহলে নির্মাণকাজ শুরুর পর হঠাৎ কেন তা থামিয়ে দেওয়া হলো, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি নির্মাণ প্রকল্পকে থামিয়ে দেয়নি, বরং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সুযোগও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

অভিভাবকদের দাবি, প্রকল্পটি দ্রুত পুনরায় চালু করতে হবে এবং নির্মাণকাজ বন্ধের প্রকৃত কারণ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। তাদের মতে, যেসব শিশু প্রতিদিন নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের সঙ্গে লড়াই করে, তাদের জন্য একটি উপযোগী খেলার মাঠ বিলাসিতা নয়, বরং মৌলিক প্রয়োজন।

বর্তমানে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো সিটি প্রশাসনের কাছ থেকে দ্রুত ব্যাখ্যা ও কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে। তাদের আশা, প্রশাসন বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করবে, যাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের আগেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা প্রতিশ্রুত সেই নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক খেলার মাঠ ফিরে পেতে পারে।

সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles