মেডিকেল শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে তোলপাড়, তদন্ত শুরু

মেডিকেল শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে তোলপাড়, তদন্ত শুরু - the Bengali Times
মেডিকেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ সামনে আসায় ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে

মেডিকেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ সামনে আসায় ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।

২৪ বছর বয়সী সাবেক মেডিকেল শিক্ষার্থী শার্লট অভিযোগ করেছেন, চিকিৎসাবিদ্যা অধ্যয়নকালে তিনি বারবার যৌন হয়রানি ও হুমকির শিকার হয়েছেন। তার দাবি, অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিরা ফোন করে তাকে এবং অন্যান্য নারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভোরবেলায় ফোন করে যৌন প্রস্তাব দেওয়া, লিঙ্গবৈষম্যমূলক গালিগালাজ করা কিংবা নজরদারিতে থাকার ভয় দেখানো হয়েছে।

- Advertisement -

এসব অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে একটি উন্মুক্ত চিঠি দিয়েছেন শার্লট। চিঠিতে মেডিকেল সায়েন্সেস স্কুলে বিদ্যমান লিঙ্গবৈষম্য ও হয়রানির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই চিঠিতে এক হাজারেরও বেশি ব্যক্তি স্বাক্ষর করেছেন।

শার্লট জানান, এ ধরনের ঘটনা অন্তত ২০২৩ সাল থেকে চলমান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৫ জন নারী শিক্ষার্থী পুলিশের কাছে অভিযোগ করলেও পরে আরও ১৫ জন একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি নিজেও ফোনে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছি। বহু বছর ধরে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটছে।”

অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু ফোনে হয়রানি নয়, হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্লেসমেন্ট চলাকালেও কিছু শিক্ষার্থী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। একজন সাবেক ছাত্রী অভিযোগ করেন, এক কনসালট্যান্ট সার্জন তার প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণ করেছিলেন। অভিযোগ জানাতে গেলে তাকে নিরুৎসাহিত করা হয় এবং বলা হয়, একজন শিক্ষার্থীর অভিযোগের চেয়ে একজন প্রতিষ্ঠিত বিশেষজ্ঞের অবস্থান বেশি শক্তিশালী।

শার্লটের ভাষায়, “প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই আমার মতো একজন নারী আছেন। বহু দশক ধরে এমন ঘটনা ঘটছে। পরিবর্তন প্রয়োজন, কারণ এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”

এদিকে, ইংল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয় খাতে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপেও যৌন হয়রানির উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রতি চারজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন যৌন হয়রানির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

ব্রিটিশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এ ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, মেডিকেল শিক্ষা বা পেশাগত পরিবেশে এ ধরনের আচরণের কোনো স্থান নেই। তাদের মতে, যৌন হয়রানি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সমান অধিকারের পরিপন্থী।

বিএমএর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের ৮৪ শতাংশ মনে করেন মেডিকেল শিক্ষায় লিঙ্গবৈষম্য একটি গুরুতর সমস্যা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন বলেন, শিক্ষার্থী বা কর্মীদের এমন কোনো আচরণের মুখোমুখি হওয়া উচিত নয় যা তাদের অনিরাপদ বা ভীত করে তোলে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার পাশাপাশি নির্দিষ্ট অভিযোগ এবং প্রতিষ্ঠানের সাংস্কৃতিক ও কাঠামোগত সমস্যাগুলো নিয়েও তদন্ত চলছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ঘটনাটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়; বরং উচ্চশিক্ষা ও চিকিৎসা প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নটিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles