কানাডা সঠিক পথে আছে বলে বিশ্বাস ৪৭% কানাডিয়ানের

কানাডা সঠিক পথে আছে বলে বিশ্বাস ৪৭% কানাডিয়ানের - the Bengali Times
কানাডার মানুষের মধ্যে নিজেদের দেশ নিয়ে আশাবাদী মনোভাব ক্রমশ বাড়ছে

কানাডার মানুষের মধ্যে নিজেদের দেশ নিয়ে আশাবাদী মনোভাব ক্রমশ বাড়ছে। দীর্ঘ কয়েক বছর পর আবারও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কানাডিয়ান মনে করছেন, দেশটি সঠিক পথেই এগোচ্ছে। গবেষণা সংস্থা অ্যাবাকাস ডেটার সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা সেই ইঙ্গিতই দিয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ সংকটের আবহে কানাডাকে তুলনামূলক স্থিতিশীল ও নিরাপদ বলেই দেখছেন অনেক নাগরিক।

রোববার প্রকাশিত এই সমীক্ষা অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ৪৭ শতাংশ কানাডিয়ান বিশ্বাস করেন যে কানাডা বর্তমানে সঠিক পথে এগোচ্ছে। ২০১৭ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ ইতিবাচক মূল্যায়ন। অন্যদিকে ৩৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, দেশটি ভুল পথে রয়েছে। যদিও এই সংখ্যা এখনও উল্লেখযোগ্য, তবে ইতিবাচক মনোভাবের হার বেড়ে যাওয়াকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবেই দেখছেন।

- Advertisement -

বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে কানাডিয়ানদের দৃষ্টিভঙ্গিও সমীক্ষায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অংশগ্রহণকারী ৭৬ শতাংশের মতে, বিশ্বের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন ভুল পথে এগোচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রসঙ্গ টেনে একই প্রশ্ন করা হলে সেই হার আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ শতাংশে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ এবং রাজনৈতিক বিভাজনের প্রেক্ষাপটে কানাডাকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ও বাসযোগ্য দেশ হিসেবে দেখছেন নাগরিকরা।

অ্যাবাকাস ডেটার প্রধান পোলস্টার ডেভিড কোলেট্টো বলেন, বর্তমান বিশ্বে মানুষ যেসব বিষয়কে গুরুত্ব দেয় নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা ও রাজনৈতিক ভারসাম্য তার অনেক কিছুই কানাডায় এখনও বিদ্যমান। তাঁর ভাষায়, “বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা ও বিশৃঙ্খলার মাঝেও ক্রমবর্ধমান সংখ্যক কানাডিয়ান মনে করছেন, পৃথিবীর অন্য অনেক দেশের তুলনায় কানাডায় বসবাস করা ভালো।”

তবে এই আশাবাদের পেছনে রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট। সমীক্ষা বলছে, কানাডা সঠিক পথে রয়েছে বলে যারা মনে করেন, তাদের মধ্যে ৭১ শতাংশই লিবারেল পার্টির সমর্থক। বিপরীতে কনজার্ভেটিভ ভোটারদের মধ্যে মাত্র ২৪ শতাংশ একই মত পোষণ করেন। অর্থাৎ ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতি সমর্থন ও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক মনোভাবের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

এদিকে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে জীবনযাত্রার ব্যয় ও ক্রয়ক্ষমতার সংকট। খাদ্যপণ্য, বাসাভাড়া এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন কানাডিয়ানরা। তবে কোলেট্টোর মতে, জনগণ এই সংকটের জন্য কেবল ফেডারেল সরকারকে দায়ী করছে না। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতিকেও মানুষ বিবেচনায় রাখছে।

সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বে লিবারেল সরকারের প্রতি জনসমর্থন বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সরকারের অবস্থান অনেক ভোটারের কাছে ইতিবাচক হিসেবে ধরা পড়েছে।

আঞ্চলিক ভিত্তিতেও লিবারেলদের শক্ত অবস্থান দেখা যাচ্ছে। আটলান্টিক কানাডা, কুইবেক, অন্টারিও এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়া অঞ্চলে দলটির জনপ্রিয়তা বেশি। আজ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ৪৭ শতাংশ ভোটার লিবারেলদের সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে কনজার্ভেটিভ পার্টির পক্ষে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ৩৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী।

এই ফলাফল শুধু জনপ্রিয়তার সূচক নয়, বরং কানাডিয়ান সমাজের মানসিক অবস্থারও প্রতিফলন। বৈশ্বিক অস্থিরতার সময় মানুষ তুলনামূলক স্থিতিশীল নেতৃত্ব ও সামাজিক নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে লিবারেল সরকার সেই সুবিধাই পাচ্ছে।

১৪ থেকে ২০ মে পর্যন্ত পরিচালিত এই সমীক্ষায় মোট এক হাজার ৯২০ জন কানাডিয়ান অংশ নেন। জরিপের ফলাফলকে আগামী নির্বাচনের আগে কানাডার রাজনৈতিক আবহ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles