
কানাডার অন্টারিও প্রদেশের ইটোবিকোক এলাকায় রিচভিউ রোডের একাধিক আবাসিক ভবনের ভাড়াটিয়ারা ব্যাপক ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণ অবহেলার অভিযোগ তুলে রোববার সমাবেশ করেছেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ, ভবনের মালিকপক্ষ একদিকে যেমন নির্ধারিত সীমার বাইরে ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ভবনের ন্যূনতম সংস্কার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ব্যর্থ হচ্ছে।
ভাড়াটিয়ারা জানান, সম্প্রতি তারা ‘এজিআই’ এর আওতায় অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধির নোটিশ পেয়েছেন। অন্টারিওতে বর্তমানে ভাড়া বৃদ্ধির যে সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রিত সীমা রয়েছে, তা ২ দশমিক ১ শতাংশ। কিন্তু বাড়ির মালিকপক্ষ সেই সীমার অনেক ওপরে ভাড়া বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিক্ষোভে উপস্থিত টরন্টো টেন্যান্ট ইউনিয়নের সংগঠকরা বলেন, এই বাড়িগুলোর অধিকাংশ ইউনিট ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় মালিকরা অতিরিক্ত মুনাফার আশায় নানা অজুহাতে বাড়তি ভাড়া চাপিয়ে দিতে চাইছেন। অথচ ভবনের ভেতরের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। দীর্ঘদিন ধরে ছাদ চুইয়ে পানি পড়া, দেয়ালের ক্ষয়, অপর্যাপ্ত তাপব্যবস্থা, পুরনো পাইপলাইন ও নিরাপত্তাহীন পরিবেশ নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে ভাড়াটিয়াদের।
টরন্টো টেন্যান্ট ইউনিয়নের সংগঠক অ্যান্ডি ফাম বলেন, “বাড়ির মালিকরা দাবি করছেন, বড় ধরনের সংস্কার ব্যয়ের কারণে অতিরিক্ত ভাড়া প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে যেসব সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর সুফল ভাড়াটিয়ারা পাচ্ছেন না। বরং মানুষ এমন অ্যাপার্টমেন্টের জন্য বাড়তি অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন, যেখানে মৌলিক সমস্যা পর্যন্ত সমাধান করা হয়নি।” তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেক পরিবারের জন্য এই অতিরিক্ত ভাড়া বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, খাদ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ওপর নতুন বোঝা তৈরি করছে।
রিচভিউ রোডের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা আইনাঘ মিচাড বলেন, “আমাদের অনেককেই ছাদে ছিদ্র আর পানি চুইয়ে পড়ার মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে। আমরা বহুবার অভিযোগ করেছি, প্রধান কার্যালয়ে গিয়েছি, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভবনের মালিকরা যদি সত্যিই সংস্কার করতে চান, তাহলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত ভাড়াটিয়াদের অ্যাপার্টমেন্টগুলো বাসযোগ্য করে তোলা।”
শনিবার রিচভিউ রোডের এইচঅ্যান্ডআর প্রোপার্টিজের অধীনস্থ ভবনগুলোর ভাড়াটিয়ারা একযোগে বাড়ির মালিকদের কাছে সংস্কারের দাবিতে “ওয়ার্ক ওয়ার্ড” বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে ভবনের অবকাঠামোগত সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানানো হয়। আরেক ভাড়াটিয়া ট্র্যাসি লেকি বলেন, “আমাদের কাছ থেকে নীতিমালার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে চাওয়া সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। যে অ্যাপার্টমেন্টগুলোর অবস্থা এতটাই খারাপ, সেগুলোর জন্য বিলাসবহুল মানের ভাড়া দেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।”
কানাডার বিভিন্ন শহরে আবাসন সংকট ও বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে ভাড়াটিয়া ও বাড়ির মালিকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। বিশেষ করে ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত ভবনগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধির আবেদন এখন বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রেই মালিকপক্ষ সংস্কারের অজুহাত দেখিয়ে বাড়তি ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠছে।
অন্যদিকে ভাড়াটিয়াদের সংগঠনগুলো বলছে, প্রয়োজনীয় সংস্কার অবশ্যই হওয়া উচিত, তবে সেটির দায় পুরোপুরি ভাড়াটিয়াদের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া অন্যায্য। তাদের মতে, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা বাড়ির মালিকদের মৌলিক দায়িত্ব। রিচভিউ রোডের এই বিক্ষোভ এখন কেবল একটি এলাকার সমস্যা নয়; বরং এটি কানাডাজুড়ে বাড়তে থাকা আবাসন সংকট, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং ভাড়াটিয়াদের অধিকার নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্কেরই প্রতিফলন।

