
কানাডার অন্টারিও প্রদেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে স্কারবোরো সাউথইস্ট উপনির্বাচনকে ঘিরে অন্টারিও লিবারেল পার্টির অভ্যন্তরীণ বিরোধ। দলীয় মনোনয়ন হারানোর পর বর্তমান এমপি ন্যাট আর্সকিন-স্মিথ যে আপিল করেছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত খারিজ করে দিয়েছে দলটির আরবিট্রেশন প্যানেল। ফলে ব্যবসায়ী আহসানুল হাফিজের জয় বহাল থাকল এবং উপনির্বাচনে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত দলীয় মনোনয়ন ভোটকে কেন্দ্র করে। স্কারবোরো সাউথইস্ট আসনে অন্টারিও লিবারেল পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ভোটে অংশ নেন ন্যাট আর্সকিন-স্মিথ এবং ব্যবসায়ী আহসানুল হাফিজ। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেই ভোটে মাত্র ১৯ ভোটের ব্যবধানে জয় পান আহসানুল হাফিজ। তবে ফল ঘোষণার পরই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আর্সকিন-স্মিথ।
তিনি অভিযোগ করেন, নথিভুক্ত ভোটারের সংখ্যার তুলনায় ৩৪টি অতিরিক্ত ব্যালট গণনা করা হয়েছে। তার দাবি ছিল, ভোটদানের সময় বেশ কয়েকজন ভোটার নিজেদের ঠিকানা সঠিকভাবে বলতে পারেননি এবং কেউ কেউ ড্রাইভার লাইসেন্স হারানোর কথা বলেছেন। এমনকি ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজনের অর্ডারের তথ্যও ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে দলীয় আরবিট্রেশন প্যানেলে আপিল করেন আর্সকিন-স্মিথ। তিন সদস্যের ওই প্যানেলের নেতৃত্বে ছিলেন অন্টারিওর সাবেক মন্ত্রী ডেভিড জিমার। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর প্যানেল জানায়, মনোনয়ন বৈঠক পরিচালনায় এমন কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি, যা ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে কিংবা পুরো প্রক্রিয়ার সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
রোববার রাতে প্রকাশিত সিদ্ধান্তে প্যানেল স্পষ্ট ভাষায় জানায়, দলীয় নিয়মনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে এবং আহসানুল হাফিজ প্রকৃত অর্থেই ভোটে জয়ী হয়েছেন। ফলে আর্সকিন-স্মিথের করা আপিল বাতিল করা হলো।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কার্যত স্কারবোরো সাউথইস্ট আসনে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে আহসানুল হাফিজের অবস্থান আরও শক্ত হলো। অন্যদিকে ন্যাট আর্সকিন-স্মিথের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে তিনি বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তবে এরই মধ্যে তিনি পদত্যাগের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্কারবোরো সাউথইস্ট থেকে মনোনয়ন পেলে তিনি অন্টারিও লিবারেল পার্টির নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় নামার জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে পারতেন। কিন্তু মনোনয়ন হারানোর পর সেই সম্ভাবনা এখন অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।
শুধু ভোটে অনিয়ম নয়, দলীয় “এস্টাবলিশমেন্ট” তার বিরুদ্ধে কাজ করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন আর্সকিন-স্মিথ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দলের একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে তাকে পরাজিত করতে সক্রিয় ছিল। যদিও দলীয় প্যানেলের সিদ্ধান্তে এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে আহসানুল হাফিজের জয় অন্টারিও লিবারেল পার্টির ভেতরে নতুন নেতৃত্ব ও নতুন মুখের উত্থানের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। স্কারবোরো অঞ্চলে দক্ষিণ এশীয় ও অভিবাসী ভোটারদের মধ্যে তার প্রভাব ভবিষ্যৎ নির্বাচনে দলকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এই মনোনয়ন বিতর্ক অন্টারিও লিবারেল পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও নেতৃত্বসংকটকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে এটি দেখিয়ে দিয়েছে যে, কানাডার প্রাদেশিক রাজনীতিতেও দলীয় মনোনয়ন লড়াই কতটা উত্তপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

