
কানাডার অন্টারিও প্রদেশে টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্যসীমা সংক্রান্ত নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর ফিফার অফিসিয়াল রিসেল মার্কেটপ্লেসে টরন্টোতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ম্যাচগুলোর কোনো রিসেল টিকিট আপাতত দেখা যাচ্ছে না। নতুন এই আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে ফিফাকে তাদের টিকিট পুনর্বিক্রয় ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গত শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া অন্টারিওর নতুন আইনে কোনো অনুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বা কনসার্টের টিকিট মূল দামের (ফেস ভ্যালু) চেয়ে বেশি দামে পুনরায় বিক্রি করা ব্যক্তি ও অনলাইন প্ল্যাটফরম উভয়ের জন্যই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্বকাপের মতো উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন আসরের টিকিট বেচাকেনার বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
ফিফা জানিয়েছে, নতুন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে তাদের রিসেল প্ল্যাটফরম পুনরায় কনফিগার করা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কাজ শেষ হলে টরন্টো ম্যাচের রিসেল টিকিট আবারও তালিকাভুক্ত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত টরন্টোতে অনুষ্ঠেয় ম্যাচগুলোর জন্য অফিসিয়াল মার্কেটপ্লেস কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে।
আয়োজক সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ১১ জুন থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচগুলোর টিকিট পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়া হয়নি। বরং নতুন আইনি কাঠামোর কারণে সাময়িক জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি অনেক সমর্থক ও টিকিট ক্রেতাকে বিড়ম্বনায় ফেলেছে। যারা বৈধ উপায়ে অতিরিক্ত টিকিট বিক্রি বা কেনার আশা করেছিলেন, তারা এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
অন্যদিকে, টরন্টো ছাড়া বিশ্বকাপের বাকি সব আয়োজক শহরের ম্যাচগুলোর রিসেল টিকিট এখনও ফিফার মার্কেটপ্লেসে স্বাভাবিকভাবেই প্রদর্শিত হচ্ছে। ফলে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, সমস্যাটি মূলত অন্টারিওর নতুন আইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
এদিকে বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে জনপ্রিয় রিসেল প্ল্যাটফরম স্টাবহাব। প্রতিষ্ঠানটি এখনও টরন্টো ম্যাচের টিকিট ফেস ভ্যালুর চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি করে যাচ্ছে। মঙ্গলবার বিকেলে তাদের ওয়েবসাইটে কানাডার প্রথম ম্যাচের বহু টিকিট কয়েক হাজার ডলারে তালিকাভুক্ত দেখা গেছে।
গত সপ্তাহে স্টাবহাব জানিয়েছিল, অন্টারিও সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় তারা এখনো নতুন আইন পুরোপুরি অনুসরণ করছে না। এই অবস্থান নিয়ে ইতোমধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আইন কার্যকরের পরও যদি বড় প্ল্যাটফরমগুলো উচ্চমূল্যে টিকিট বিক্রি অব্যাহত রাখে, তাহলে আইনের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে।
নতুন আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ফেস ভ্যালুর বেশি দামে টিকিট বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ন্যূনতম ৩ হাজার ডলার জরিমানা গুনতে হবে। আর নিয়ম ভঙ্গ অব্যাহত থাকলে জরিমানার পরিমাণ সর্বোচ্চ আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্টারিও সরকারের এই উদ্যোগ মূলত কালোবাজারি ও অতিরিক্ত মুনাফাভিত্তিক টিকিট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। বড় ক্রীড়া আয়োজনগুলোতে প্রায়ই দেখা যায়, সাধারণ দর্শকের নাগালের বাইরে চলে যায় টিকিটের দাম। নতুন আইন সেই প্রবণতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক বাস্তবতার সঙ্গে আইনের সমন্বয় করতে না পারলে বৈধ রিসেল বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন নজর থাকবে ফিফা কত দ্রুত তাদের প্ল্যাটফরম নতুন নিয়ম অনুযায়ী চালু করতে পারে এবং অনলাইন টিকিট বিক্রয় প্রতিষ্ঠানগুলো আইন মেনে চলতে কতটা বাধ্য হয়।

