প্রেসক্রিপশন ছাড়াই শ্রবণ সহায়ক ডিভাইস বিক্রির অনুমতি দিতে যাচ্ছে অন্টারিও

প্রেসক্রিপশন ছাড়াই শ্রবণ সহায়ক ডিভাইস বিক্রির অনুমতি দিতে যাচ্ছে অন্টারিও - the Bengali Times
ওভার দ্য কাউন্টার ওটিসি পদ্ধতিতে শ্রবণ সহায়ক ডিভাইস বিক্রির অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে প্রাদেশিক সরকার

কানাডার অন্টারিও প্রদেশে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই বা ওভার-দ্য-কাউন্টার (ওটিসি) পদ্ধতিতে শ্রবণ সহায়ক ডিভাইস বিক্রির অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে প্রাদেশিক সরকার। মঙ্গলবার অন্টারিওর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে সরকার ৩০ দিনের একটি পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে। আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে এই পরামর্শ গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হবে। এতে স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, শিল্প অংশীজন, চিকিৎসা ও অডিওলজি বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকদের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। সরকার মূলত জানতে চায়, বর্তমান নীতিমালায় কী ধরনের পরিবর্তন আনা হলে তা জনগণের জন্য আরও কার্যকর ও নিরাপদ হবে।

- Advertisement -

বর্তমানে অন্টারিওতে কেবল নিবন্ধিত স্বাস্থ্য পেশাজীবীর ব্যবস্থাপত্রের ভিত্তিতেই শ্রবণ সহায়ক ডিভাইস বিক্রি করা যায়। অর্থাৎ, একজন রোগীকে প্রথমে অডিওলজিস্ট বা অনুমোদিত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর মাধ্যমে শ্রবণ পরীক্ষা করাতে হয় এবং এরপর নির্দিষ্ট প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী হিয়ারিং এইড সংগ্রহ করতে হয়।

এছাড়া, অন্টারিও সরকারের অ্যাসিস্টিভ ডিভাইসেস প্রোগ্রাম (এডিপি) যোগ্য বাসিন্দাদের জন্য শ্রবণ সহায়ক ডিভাইসের ব্যয়ের বড় একটি অংশ বহন করে থাকে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি ডিভাইসের জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কভার করতে পারে। ফলে অনেক প্রবীণ নাগরিক ও শ্রবণ সমস্যায় ভোগা ব্যক্তির জন্য এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

তবে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, যেসব হেডফোন বা ইয়ারবাডে বিল্ট-ইন হিয়ারিং অ্যাসিস্ট প্রযুক্তি রয়েছে, সেগুলোর শ্রবণ সহায়ক ফিচার অন্টারিওতে সক্রিয় করার অনুমতি নেই। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সাম্প্রতিক সময়ে এমন স্মার্ট ডিভাইস বাজারে আনছে, যেগুলো সাধারণ অডিও ডিভাইসের পাশাপাশি হালকা বা মাঝারি শ্রবণ সমস্যায় সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে।

প্রাদেশিক সরকার এখন সেই বিধিনিষেধ শিথিল করার কথাও ভাবছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে ব্যবহারকারীরা চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এসব ডিভাইস কিনে এর শ্রবণ সহায়ক সুবিধা চালু করতে পারবেন। তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, এ ধরনের ওটিসি ডিভাইস অ্যাসিস্টিভ ডিভাইসেস প্রোগ্রামের আর্থিক সহায়তার আওতায় থাকবে না।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগ তাদের “হেলথ ইনোভেশন পাথওয়ে” কর্মপরিকল্পনার অংশ। স্বাস্থ্যসেবায় নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, নীতিমালায় পরিবর্তন এলেও বর্তমান প্রেসক্রিপশনভিত্তিক সেবা ব্যবস্থা বাতিল করা হবে না। বরং এটি বিদ্যমান ব্যবস্থার পাশাপাশি নতুন একটি বিকল্প তৈরি করবে। যারা প্রচলিত পদ্ধতিতে বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে শ্রবণ সহায়ক ডিভাইস নিতে চান, তারা আগের মতোই সেই সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে এডিপি কর্মসূচির আওতায় প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ডিভাইসের জন্য সরকারি সহায়তাও অব্যাহত থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ওটিসি হিয়ারিং ডিভাইস চালুর ফলে অনেক মানুষ দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে প্রাথমিক শ্রবণ সহায়তা পেতে পারেন। বিশেষ করে যাদের শ্রবণ সমস্যা তুলনামূলক কম, তারা সহজেই প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান গ্রহণ করতে পারবেন।

তবে কিছু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, সঠিক শ্রবণ পরীক্ষা ছাড়া ডিভাইস ব্যবহার করলে জটিল রোগ নির্ণয়ে দেরি হতে পারে। তাই নীতিমালায় নিরাপত্তা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবহারকারীদের সচেতনতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অন্টারিও সরকারের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ স্বাস্থ্য প্রযুক্তি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। একই সঙ্গে এটি কানাডায় শ্রবণ সহায়ক ডিভাইস ব্যবহারের প্রচলিত ধারণা ও বাজার ব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles