
কানাডার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী শিবিরে নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দেশটির শীর্ষ জনমত জরিপ সংস্থা অ্যাঙ্গাস রিড ইনস্টিটিউটের এক সাম্প্রতিক সমীক্ষা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কনজার্ভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পয়লিয়েভরের প্রতি সমর্থন ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে যদিও এখনো দলের অধিকাংশ ভোটার তার পক্ষেই রয়েছেন।
সমীক্ষাটি পরিচালিত হয় মোট ১,৬৪৬ জন কানাডিয়ান নাগরিকের ওপর, যার মধ্যে ৫৯০ জন গত নির্বাচনে কনজার্ভেটিভ পার্টিকে ভোট দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ মনে করেন, পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত পয়লিয়েভরেরই নেতা থাকা উচিত। তবে এই হারটি লক্ষণীয়ভাবে কমেছে গত বছরের আগস্টে যেখানে এই সমর্থন ছিল ৬৮ শতাংশ।
অন্যদিকে, সমীক্ষায় অংশ নেওয়া কনজার্ভেটিভ ভোটারদের ৩০ শতাংশ এখন নতুন নেতৃত্বের পক্ষে মত দিয়েছেন। আগস্ট মাসে এই হার ছিল মাত্র ১৮ শতাংশ। অর্থাৎ, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পক্ষে মতামত প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে যা দলটির অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের ইঙ্গিত বহন করে।
শাচি কার্ল, যিনি অ্যাঙ্গাস রিড ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট, তিনি এই প্রবণতাকে পয়লিয়েভরের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, “দলের বড় অংশ এখনো তাকে সমর্থন করলেও, সেই সমর্থনের ভিত্তি ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে এবং তা নেতিবাচক দিকে যাচ্ছে।”
এদিকে, পয়লিয়েভরের মিডিয়া সম্পর্ক বিষয়ক পরিচালক স্যাম লিলি এক বিবৃতিতে দাবি করেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দলের সম্মেলনে নেতৃত্ব পর্যালোচনায় রেকর্ডসংখ্যক কনজার্ভেটিভ সদস্য পয়লিয়েভরের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পয়লিয়েভরের নেতৃত্বাধীন কনজার্ভেটিভরা লিবারেল সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে কার্বন ট্যাক্স ইস্যুতে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের খরচ কমাতে কিছুটা সহায়ক হয়েছে।
তবে বাস্তব রাজনৈতিক পরিস্থিতি কনজার্ভেটিভদের জন্য খুব একটা অনুকূল নয়। সম্প্রতি দলের একাধিক এমপি দলত্যাগ করে লিবারেল পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। বিশেষ করে মেরিলিন গ্লাডু-এর মতো প্রভাবশালী নেত্রীর দলবদল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এর পাশাপাশি, সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত তিনটি উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির জয় তাদের সংসদে আনুষ্ঠানিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। এর ফলে কানাডার লিবারেল পার্টি রাজনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
সাম্প্রতিক বেশিরভাগ জাতীয় জরিপেই দেখা যাচ্ছে, জনপ্রিয়তায় লিবারেলরা কনজার্ভেটিভদের তুলনায় দুই অংকের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কনজার্ভেটিভ পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠা দলটির ভবিষ্যৎ নির্বাচনী সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
পিয়েরে পয়লিয়েভর এখনো দলের প্রধান মুখ হলেও তার প্রতি সমর্থনের ভিত্তি ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। দলীয় ঐক্য, নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং জনসমর্থন এই তিনটি ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে কনজার্ভেটিভ পার্টি। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই প্রবণতা কতটা গভীর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

