
এক. সেই ছোটবেলা থেকে মোনালিসার কত ছবি দেখলাম। সব ছিল কপি প্রিন্ট। এই প্রথম লিওনার্দো ডা ভিঞ্চির আঁকা সত্যিকারের রহস্যময় মোনালিসার মুখোমুখি হইলাম। যে ছবিতে মিশে আছে শিল্পীর হাতের ছোঁয়া। প্রাণের স্পন্দন। ইচ্ছা আকুতি যার ফলশ্রুতিতে আঁকা হয়েছে অমর এই ছবিখানি।
রহস্যময় হাসি নিয়ে প্যারিসের ল্যুভ মিউজিয়ামে ঝুলে আছে। অসংখ্য দর্শকের কাছে দেখা দেওয়ার জন্য।
শুভ জন্মদিন লিওনার্দো ডা ভিঞ্চি।
দুই. সকালে উঠে দেখলাম বিদ্যুৎ নাই। শীতকালের ভয়াবহতা কমেছে। সে সময় বিদ্যুৎ গেলে কোন কারণ ধারণা করা সহজ। গতকাল ছিল প্রচুর বাতাস। তখনো সব ঠিকঠাক ছিল
আজ বাতাস নাই সুন্দর রোদের দিন। ঠিক কি কারনে বিদ্যুৎ চলে গেল বুঝতে পারলাম না। হাতমুখ ধোয়া আর চা বানানোর পানি পেলাম টেপে।
চা বানিয়ে ব্রেকফাস্ট শেষ করলাম। তখনো বিদ্যুৎ না আসায় বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করলাম।জানাল, বিদ্যুতের খুঁটিতে আগুন লেগেছিল।এলাকার প্রায় ছয় হাজার মানুষ বিদ্যুৎ বিহীন। ঘন্টাখানেক পরেই বিদ্যুৎ চলে আসবে জানালো, কর্মীরা কাজ করছে। তিন ঘন্টা পরও বিদ্যুৎ আসলো না।
বাসা এমনিতেই নীরব থাকে। সবকিছু আজ আরও বেশি নিরব হয়ে আছে। একটি মেশিনও সারা শব্দ করছে না, ইন্টারনেট চলছে না। এর মধ্যে ফোনের ডাটা ও কাজ করছে না। বিশ্বের সাথে সব সম্পর্ক, যোগাযোগ বন্ধ আজ।
অনেকক্ষণ ফোন কোম্পানির সাথে কথা বলে ফোনের ডাটা ঠিক করার চেষ্টা করলাম।কাজের কাজ কিচ্ছু হলো না। শুধু ফোনের চার্জ কমে গেল। গাড়িতে ফোন চার্জ দিয়ে অনেকক্ষণ বাইরে হাঁটাহাঁটি করলাম। জলের ধারে প্রচুর নার্সিসাস ফুটেছে। জলের ভিতর নিজের প্রতিবিম্ব দেখছে মুগ্ধ হয়ে। মাছেরা সাঁতার কাটছে জলের মাঝে। অনেক দিন পর তাদের দেখতে পেলাম। আর নানা বরনের, আকারের পাখিরা উড়ছে আপন মনে। বুনোফুল ফুটেছে চারদিকে।
আবারো বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করলাম। জানালো সন্ধ্যা সাত টার দিকে বিদ্যুৎ আসবে। আরো প্রায় চার ঘন্টা অপেক্ষা তার মানে বেশ বড় ধরনের কোন ক্ষতি হয়েছে। অবশেষে সন্ধ্যা সাতটায় যখন ডিনার করতে বসলাম তখন বিদ্যুৎ আসলো।
শান্ত নিরিবিলি বাড়িটা নানা রকম মেশিনের শব্দে আবার সরব হল।
তিন. বৈশাখ এসেছে বাংলাদেশে অথচ সারারাত এখানে তুমুল বজ্রবিদ্যুৎ বৃষ্টি,যেন বৈশাখী ঝড়। এসো হে বৈশাখ এসো এসো তাপস নিশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,
মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক…… সারারাত ধরে পুরাতন সমস্ত কিছু প্রলয়ের শাঁখ বাজিয়ে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করেছে যেন প্রকৃতি, এখন থম ধরে আছে আকাশ মেঘলা সকাল, মেঘলা দুপুর, মেঘলা বিকেল। উত্তাপ বৈশাখের মত নয় তবে কিছুটা বেড়েছে।
হাওয়ার সাথে পাল্লা দিয়ে, নাতিশীতোষ্ণ উত্তাপে অনেকটা সময় হাঁটলাম, বৈশাখের গান গেয়ে।
দূরে থাকলেও বছরের প্রথম দিন নিজের মতন উদযাপন করি বৈশাখ। নববর্ষ বাংলা বৎসরের প্রথম দিন। ভালো খাবার-দাবার খাই। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করি। সুন্দর কিছু কাজ করার চেষ্টা করি।
যাক পুরাতন স্মৃতি,যাক ভুলে-যাওয়া গীতি,
যাক অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক যাক যাক যাক
সব স্মৃতি মুছে যায় না তবু নতুনের মাঝে পুরাতন ঢাকা পড়ে। নতুনের আগমন সুন্দর হোক কল্যাণময় হোক সবার জন্য। এসো, এসো এসো হে বৈশাখ, এসো, এসো।
টরন্টো, কানাডা

