প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী - the Bengali Times

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও পোশাক-আশাকে একটি সাদামাটা ধারা লক্ষ্য করা যায়। তিনি বেশিরভাগ সময়ই সাধারণ ধাঁচের সাদা শার্ট পরিধান করেন, যা অনেকটা মেক্সিকান স্টাইলের মতো। অফিসিয়াল পরিবেশেও তাকে সাধারণত স্যুট পরতে দেখা যায় না—এটি হয়তো তার ব্যক্তিগত রুচির প্রতিফলন।

- Advertisement -

তার বয়স এখন ষাটের বেশি। বাঙালি মুসলিম সমাজে এ বয়সে সাধারণত দাড়ি রাখা, টুপি পরা, পাঞ্জাবি-পায়জামা পরিধান করা এবং নিয়মিত মসজিদমুখী হওয়ার একটি প্রচলিত ধারা রয়েছে। তবে তার ক্ষেত্রে সেই চিত্রটি স্পষ্ট নয়। যদিও ধারণা করা যায়, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ধর্মীয় অনুশীলন যথাসম্ভব পালনের চেষ্টা করেন।

তিনি নিয়মিত সিনেমা-নাটক দেখেন বলেও মনে হয়, এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে ফেসবুকেও তার সক্রিয়তা থাকতে পারে। তার স্ত্রী জোবায়দা রহমান ও কন্যা জায়মা রহমানকেও সাধারণত হিজাব ছাড়া দেখা যায়; তারা সালোয়ার-কামিজ বা মাঝে মাঝে শাড়ি পরিধান করেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পোশাকধারা লক্ষ করা যায়। সামগ্রিকভাবে তার পরিবারকে একটি তুলনামূলক উদারপন্থী বাঙালি মুসলিম পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী বলেই মনে হয়।

দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থানের কারণে, বাংলাদেশের জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতা—যেমন বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি, সিভিল ও মিলিটারি বুরোক্রেসি, কিংবা তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’-এর কৌশলগত ভূমিকা—সম্পর্কে তিনি এখনও পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেননি বলে ধারণা করা যায়।

তবে এখন পর্যন্ত দেশের জন্য তার পরিকল্পনা ও কর্মসূচি বেশ ইতিবাচক বলেই প্রতীয়মান হয়। তাকে পরিশ্রমী হিসেবেও দেখা যাচ্ছে। যেহেতু তার শাসনকাল এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে, তাই চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য সময় দেওয়া প্রয়োজন।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের জায়গা রয়েছে—সমাজে কিছু ডানপন্থী গোষ্ঠীর মাধ্যমে ‘মব’ তৈরি করে ভিন্নমত দমনের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে তিনি এখনো কার্যকরভাবে সফল হচ্ছেন না। এই বিষয়টি জনমনে উদ্বেগ তৈরি করছে।

সংসদে উত্থাপিত বিলসমূহ নিয়েও তার সরাসরি মতামত তুলনামূলকভাবে কম শোনা যায়। দেশের মানুষ আশা করে, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী আরও সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখবেন। তিনি যদি আইনের টেকনিক্যাল দিক নিয়ে বিশদে না-ও বলতে পারেন, অন্তত এর উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য নিয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন। এমনকি সে ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা থাকলে জনগণ তা মেনে নিতে পারে—কিন্তু মব নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা জনগণ সহজে গ্রহণ করবে না।

কারণ, অনিয়ন্ত্রিত মব পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত তার নিজের ক্ষমতার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। সামনে পথটি সহজ নয়—এটি স্পষ্ট।

 

টরন্টো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles