
ব্যাপারটা এরকম যে সূর্যটা মনে হয় আতিকের কাঁধে করে হেঁটে বেড়ায়। ঘর থেকে যখন বের হয় তখন সূর্যের চোখ জুড়ে থাকে ঘুম। রাতের ঘুম থেকে বেরিয়ে সূর্যের আর অবসর থাকে না। আতিক তাকে ঘাড়ে নিয়ে কণাদের বাড়িতে গিয়ে নামিয়ে রাখে। আবার যখন দিনের চোখ ঢুলু ঢুলু করতে থাকে তখন তাকে নিয়ে ফিরে আসে নিজ বাড়িতে। যখন কণাদের বাড়িতে যাওয়া হয়ে ওঠে না, আতিক তখন অন্যত্র গিয়ে কণার সাথে দেখা করে। এভাবেই অনেকগুলো বছর তারা দেখা ও শোনার কাজটা করে আসছিল। লোকে বলে আতিক-কণার ভালবাসার সূর্য কখনো অস্তমিত হয় না। কিংবদন্তীর মত মানুষের মুখে মুখে দু’টি নাম, আতিক-কণা। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পাড়া প্রতিবেশী, এমনকি দেশ-গ্রাম থেকে যে সমস্ত নানী দাদীরা বেড়াতে আসত তারা ভাবত ওরা ভবিষ্যতের স্বামী-স্ত্রী।
কণাকে পছন্দ হবে না এমন মা-বাবা টেকনাফে কেন তেুতলিয়াতেও পাওয়া যাবে না। কণার কপালে যদি টিকলির ওজনটা সময়মত না চাপানো যায় তবে হাত ফসকে যেতে পারে। আতিকের বাবা-মা ভাবলো ছেলেকে একটা সারপ্রাইজ দেবে। কণাদের বাড়িতে তারা ডালা নিয়ে গেল। ডালার সাথে গেল পান-সুপারি আর একমন মিষ্টি। আতিক বা কম কিসে, দেশে দেশে কত রাজপুত্র। আতিককে দেখে মনে হয় কোন সে দেশ যেদেশ আতিকের মত রাজপুত্র পাবার যোগ্যতা রাখে। রাজপুত্রের চেহারা কেমন হয় কে জানে, আতিক হলো ব্রহ্মপুত্র। আতিকের বাবা-মায়ের প্রস্তাবকে তাই কণার বাবা-মা দোলনায় উঠিয়ে দোল খাওয়াতে লাগল। কণাদের বাড়ি কানায় কানায় খুশিতে ভরে উঠলো। কণার গাল গোলাপী হয়ে গেল, তার চোখ মুখ ঘাড়ের উপর লজ্জা তামাশা করতে লাগল। খুশি খুশি একটা মন নিয়ে সে রাতেই বড়বোনের বাড়ি বেড়াতে গেল কণা। বেড়াতে যাওয়াটা পূর্ব নির্ধারিত। আতিকের বাবা-মার আগমনটা ছিল বরং অনির্ধারিত। সে যুগে লক্ষ্মীবাজার থেকে মগবাজারকে যদিও অনেকটা পথ মনে হতো, কিন্তু ঘোড়ার গাড়ির টকটক শব্দ শুনতে শুনতে দূরের পথও কাছের হয়ে যেত। আজকাল কোথাও বেড়াতে গেলে যেমন যাবার আগে টেলিফোন করে যাবার নিয়ম হয়েছে, সেকালে এই নিয়মটা ছিল না। ঢাকা শহরে ছিল হাতে গোনা টেলিফোন। আতিকদের বাড়িতে টেলিফোন থাকলেও কণাদের বাড়িতে কোন টেলিফোন ছিল না।
সন্ধ্যার আগে গালভরা হাসি নিয়ে আতিকের বাবা-মা ফিরে এল। আতিককে ডেকে বললো আমাদের সামনে একটু বস তো দেখি। অনেকে বলবে সেকালে মা ছেলের সম্পর্ক এমন বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না। সেটা ভুল। আতিকদের পরিবার ছিল অতীত যুগের আধুনিক পরিবার। ওদের পরিবারে বাবা, মা, ছেলেমেয়ে ছিল বন্ধুর মত।
আতিকের মা বললেন, দেখি তো খুশি হলে তোর মুখটা কেমন হয়। আতিক তার মায়ের মুখোমুখি বসে বললো, এমন কিছু বলো না যেন লজ্জায় লাল হয়ে উঠি। সত্যি সত্যি আতিকের মুখ লাল হয়ে উঠল, তবে লজ্জায় নয়, রাগে।
আতিক ওর মাকে প্রশ্ন করে বসলো, কে বলেছিল বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যেতে। কণাকে বিয়ে করবো এমন কথা তোমরা জানলে কি করে। দ্রুতগতিতে সে ঘর থেকে বের হয়ে গেল। পলকের মধ্যে পৌঁছে গেল কণাদের বাড়ি। কিন্তু ততক্ষণে কণা তার বড়আপাদের বাড়ি চলে গেছে। কি খুশিখুশি মন নিয়ে সে ট্রেনে চেপে ময়মনসিংহ গেল। আতিক ট্রেন ছাড়ার কিছু পর ফুলবাড়িয়া রেল স্টেশন এসে পৌঁছালো। কণাকে সে ধরতে পারল না। এর পর থেকে অপেক্ষা কণা কবে ফিরে আসে।
কণা ফিরে এল সপ্তাহান্তে। ফিরে আসার আগেই পেয়েছিল মন ভাঙ্গার সংবাদ। আতিক তাকে বিয়ে করতে রাজি নয়।
মানুষের মন ভেঙ্গে গেলে আর কি থাকে? কণারও তাই হলো। ওর আর কিছু অবশিষ্ট থাকলো না। নিজের দেহখানা হয়ে গেল পরদেহি। প্রতিদিনের অজন্ত হলো নিত্য সঙ্গী। এরপর আতিক দেখা করতে চায়, কণা দেখা দেয় না। কণা লোকের কাছে কষ্টের কথা বলে বেড়ায়। আতিক কষ্ট পায় না। সে বরং ভাবে দেখা করাটা একান্ত প্রয়োজন। একদিন আতিকের প্রয়োজন মিটল। খুব কাছে পেয়ে গেল কণাকে। কণা কথা শুনবে না বলে কান চেপে ধরে। চেয়ার ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে চায়। আতিক তার কান থেকে হাত সরিয়ে দেয়। জোর করে চেয়ারে বসিয়ে রাখে। আমাকে ছোঁবে না বলে কণা ধমকের পর ধমক লাগায়। আতিক বকাগুলো খেতে খেতে বলে, আমার একটা কথা শোন। নিজের মাথা ছুঁয়ে কসম কেটে বলে, দশটা কথা বলবো না, মাত্র একটা কথা। কণার মন নরম করতে সে পুরানো দিনের লতাপাতা ছিঁড়ে আনে। স্মৃতির গাছে নাড়া দেয়। এরপর মিনতি আর মিনতি করে যায়।
এক পর্যায়ে কণার অনুমতি পেয়ে আতিক বলে বসল, বিয়ে করতে চাইনি সেজন্য এত রাগ আর অভিমান। কিন্তু কেন যে বিয়ে করতে চাই না সেটা শুনবে না? কণা সেকথা শোনার কোন আগ্রহ দেখায় না। অনাহারে অনাদরে লালিত মানুষের মত চেয়ে থাকে মাটির দিকে। মনে হয় যে মাটি তার পায়ের ঠিক নীচে আসলে তা অনেক দূরে। সমুদ্রের তলদেশে গিয়ে ঠেকেছে পায়ের নীচের মাটি। সেই মাটির দিকে কণার পলকহীন দৃষ্টি। কণার হাত দু’টি কোলে তুলে নিয়ে আতিক বললো, তোমাকে বিয়ে করতে চাইনি বলে রাগ করো না। যদি চাও আজ এই মুহূর্তে তোমাকে বিয়ে করতে পারি। কিন্তু এভাবে তুমি জীবনসঙ্গী হলে সেটা কতদিনের? দশ, বিশ, ত্রিশ, চলি¬শ বছরের বেশি তো নয়। তারপর, তারপর কি হবে? আমি তো তোমাকে এত অল্পদিনের জন্য পেতে চাই না। তোমাকে আমার অনন্তকালের জন্য প্রয়োজন। আর সেই অনন্তকাল আসে শুধু মৃত্যুর পর।
কণার দৃষ্টিতে কি যেন সৃষ্টি হল। মনে হলো সমুদ্রের তলদেশ থেকে পায়ের নীচে দৃষ্টি উঠে এল। এতক্ষণ কোন কথা শুনবো না বলে যে প্রচেষ্টা ছিল, তার পরিবর্তন হলো। আতিকের বাকি কথাগুলো শোনার আগ্রহ জন্মালো। কান পেতে রইল সমুদ্রের গর্জন শোনার জন্য।
আমাদের এই জীবন আগের থেকেই লেখা। যার কোন পরিবর্তন করা যায় না। ইচ্ছা অনিচ্ছা সত্ত্বে¡ও ভাগ্যকে আমাদের মেনে নিতে হয়। আমরা ভাগ্যের দাস। ভবিষ্যৎ বা অনন্তকাল খোদাতা’লা লিখে দেন না। তিনি লেখেন চলি¬শ, পঞ্চাশ, ষাট, সত্তর বছর স্থায়ী এই জীবনের অলিগলি। অনন্ত ভবিষ্যৎ লিখতে বলেছেন আমাদেরকে। আমি তাই চেষ্টা করেছি নিজের হাতে ভাগ্য লিখে মৃত্যুর পর তোমাকে পেতে। অনন্তকালের জন্য আমার একটাই চাওয়া-পাওয়া তা শুধু তুমি। ভাগ্যের লেখা, সেভাবেই যদি পেতে হবে তাহলে এত ভালবাসার কি প্রয়োজন ছিল। ওভাবে পাওয়া আমার সহ্য হবে না। তোমাকে আমি তিল তিল করে অর্জন করতে চাই। আমার পাপের পুরস্কার যেমন তুমি, আমার পুণ্যের পুরস্কারও তুমি। ইতিমধ্যে কয়েকবার উচ্চারিত কথাটি সে পুনরায় ব্যক্ত করলো, যদি এরপরও আমাকে বিয়ে করতে বলো, আজই তোমাকে বিয়ে করবো। যদি আমাদের এ জনমে এক হবার কাহিনী লেখা থাকে তবে আমরা সংসারী হবো। শুধু আফসোস থেকে যাবে ভাগ্যের লেখা মেনে নিয়ে তোমাকে এ জন্মে পেতে হবে যাতে আমার কোন হাত থাকবে না।
কণা কি বুঝলো না ঝুঝলো সেটা বড় কথা নয়। সেই মুহূর্তে কণা আগ্রহ দেখালো আতিকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উদ্ধার করতে। মৃত্যুর ওপারে ভালবাসা বিজয়ী হবার খুঁটিনাটি জানতে। আতিক শেষ পর্যন্ত কণাকে বোঝাতে সক্ষম হল। এবং দুজনে সিদ্ধান্ত নিলো তারা সেই অনন্তকালের জন্য অপেক্ষা করবে। মিলনের সেই ক্ষণটি পেতে আত্মহত্যা কিংবা কোনরকমের তাড়াহুড়ো করবে না। স্বাভাবিক অপেক্ষা।
হঠাৎ ঘটে যাওয়া সংবাদ সাধারণত: দুঃসংবাদ। একটা দুঃসংবাদ পেয়ে কণা ছুটে যায় হাসপাতালে। অ্যাক্সিডেণ্ট করে মুমূর্ষু অবস্থায় ঋণ করা দম নিয়ে বেঁচে আছে আতিক। এই প্রথম আতিকের মনে হলো মরে গেলে অনেকগুলো দিন তাকে কণার থেকে দূরে থাকতে হবে। কণা পাগল হয়ে ছুটে এলো। কিন্তু কণার তো পাগল হলে চলবে না। সে অবসর তার নেই। আতিকের শরীর থেকে যে আত্মা বেরিয়ে যাবে তার নাম কণা। সেই কণা পাগল হলে চলবে কি করে। কণা আতিকের হাত চেপে মেঝেতে বসে পড়ল। একি হলো, একি হলো বলে প্রলাপ কিংবা প্রশ্ন করে চলল। আতিক আর ঋণের বোঝা সইতে পারছিল না। তার সময় শেষ হয়ে এল। মেঝেতে বসে থাকা কণার মুখটা উঁচু করে বলল, খুব বেশি দেরি করো না আসতে। আমার যে একা থাকার অভ্যাস নেই।
এর পরের কথাগুলো অস্পষ্ট। অনেক কথা বলেছে আতিক। তার বেশির ভাগ অর্থহীন। এক সময় সে ঋণ করা নিঃশ্বাস ফিরিয়ে দিল। একা একাই চলে গেল অনন্ত দিগন্তে।
কণার জীবনকাহিনী নূতন মোড় নিয়ে এখানে থকে শুরু। রূপসী কণার বিয়ে হলো অভিজাত পরিবারে। সুখী সংসার হলো তার। পাঁচ ছেলে তিন মেয়ের সংসারে চব্বিশজন নাতি-নাতনী। দুই তিনটি নাতীদের বিয়ে হয়ে তারাও মা হয়ে গেছে। কণার বিরাট সংসারে এখন কোটিপতি ব্যবসায়ী, আমেরিকা ক্যানাডায় বসবাসরত প্রবাসী, সংসদ সদস্য এমনকি একজন মন্ত্রীও রয়েছে। সকলের প্রিয় ব্যক্তি কণা। সংসারে কারো সে দিদা অথবা নানু, কারো চাচী, খালা, কারো বা প্রিয় আপা।
আতিকের দেহত্যাগের পর সংসারজীবন বেছে নিলেও কণা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে অপেক্ষা করছে পরম মৃত্যুর। হাসিখেলায় ভরা এজীবনের প্রতিটি ক্ষণে সে মৃত্যু কামনা করে মিলনের প্রস্তুতি নিয়েছে। ভাগ্য তাকে একাত্তর বছরের সুস্থ জীবন উপহার দিয়েছে। এত দীর্ঘ জীবনে কারো নিকট তার জনপ্রিয়তা কখনো কমেনি। কণার জনপ্রিয়তার মূল কারণ তার দানশীলতা। সকালে ঘুম থেকে উঠে সে ভাবতো আজ বেঁচে আছি কাল বোধহয় আর বাঁচবো না। কিংবা বাঁচতে ইচ্ছে করে না। তাই চুলের ফিতা চুলের কাঁটা থেকে শুরু করে হাতের কাছে যখন যা পেয়েছে অন্য মানুষকে বিলিয়ে দিয়েছে। ডেকে ডেকে মানুষকে কাছে বসিয়ে গল্প করতো। পছন্দের প্রিয়ে খাবার রান্না করে খাওয়াত। রুগী দেখতে সাদা শাড়ি পরে হাসপাতাল যেত।
সবার সব আশা সবসময় পূরণ হয় না। মৃত্যুর জন্য বেঁচে থাকা কণার মৃত্যুটাও কখনো উঁকি দেয়নি। শুধু গতরাতেই হঠাৎ সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এই প্রথম চিন্তিত হবার মত অসুস্থতা। জ্বরের মধ্যে আবোলতাবোল বকাবকি করছে। অনন্ত দিগন্ত কতদূর, আমি আসছি, আমি আসছি, আমাকে ক্ষমা করো, কত বড় সংসার আমার একটু দেরি হয়েই গেল, আমি আসছি, আমি আসছি।
ডাক্তার ও তাদের যন্ত্রপাতির সম্মিলিত রায়ে কণা চলেছে হাসপাতাল। নিচে দাঁড়িয়ে অ্যাম্বুলেন্স। চোখভরা জল নিয়ে সকলে কণার অ্যাম্বুলেন্স দেখছে। কারো নিঃশব্দে কান্না। কারো কান্না সশব্দে। বাড়ির কাজের লোক থেকে শুরু করে অকাজের অনেকেই কাঁদছে। রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ একটি বিষণ্ণ নীরবতার ভিতর অপ্রসন্ন বদনে ঘোরাফেরা করছে। এত সবের মধ্যমণি যে, শুধু তার চোখমুখ জুড়ে একটি প্রসন্ন হাসি। একটি তৃপ্তির রেখা। সে বুঝতে পেরেছে আর অপেক্ষা নয়। অনন্ত দিগন্তে দাঁড়িয়ে আছে একটি হাসিমাখা মুখ। কতযুগের অপেক্ষা অথচ হাসিতে যেন ক্লান্তি নেই। সদ্যফোটা তাজা গোলাপের মত তার হাসি। কণা সেখানেই যাচ্ছে।
মৃত্যুক্ষণে কণা জীবনটাকে সাথে নিয়ে যেতে চায়। এর বেশি তার প্রয়োজন নেই। শাড়ি, বাড়ি, টাকা, পয়সা এসবের মৃত্যু হবে না। যা কিছু কণার নিজস্ব ছিল তারা কেউ কণার সাথে যাবে না। থেকে যাবে মাটির ওপর। হাত বদলিয়ে অন্য মালিক বেছে নেবে। কিন্তু জীবনটা সাথে না নিয়ে সে মরতে চায় না। এ জীবনটার হক আতিকের। আতিকের পছন্দ মত করে কণা তার সমস্ত জীবনটা সাজিয়েছে। জীবন নামক ফুলদানীতে বসানো এক একটা হীরামতি আতিকের চোখের জ্যোতি। কণা কাউকে কখনো ফাঁকি দেয়নি। কাউকে ঠকিয়েছে সেকথাও কেউ বলতে পারবে না। যার যা প্রাপ্য সব শোধ করেছে সময় মত। সকল সম্পর্ক সততার সাথে মিটিয়েছে কিন্তু জীবনটা আলগা রেখেছে শুধু আতিকের জন্য। সকলের প্রতি ভাগ্যের ঋণ শোধ দিয়ে সে আজ মুক্তি পেতে যাচ্ছে। তাকে আর ভাগ্যদাসী বলা যাবে না। এবার তার মুক্তি। এ মুক্তি অনন্তকালের জন্য।
স্ট্রেচারে করে তাকে যখন অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হচ্ছিল তখন তার গায়ে সূর্যের উত্তাপ। বুকের মধ্যে সমুদ্রের ঢেউ। তুফানী ঝড় চোখের পাতায় পাতায়। নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে কথা বলতে চায় কণা। চোখ মেলে সকলকে ভালো করে দেখতে চায়। জানা অজানা দোষত্র“টির জন্য ক্ষমা চায়। এক পর্যায় ওপারে যাবার জন্য তার ঢোল সানাই বেজে ওঠে। কণার কণ্ঠধ্বনি তাতে ক্ষীণ হয়ে আসে। কণ্ঠস্বর সম্পূর্ণ বন্ধ হবার আগে সকলের উদ্দেশ্যে সে শেষ ভাষণ দেয়, আমি যাচ্ছি। আমি যাচ্ছি। অনন্ত দিগন্তে চলে যাচ্ছি। আমি ……।
স্কারবোরো, কানাডা

