
বর্তমানে যাত্রী পরিবহনে বিমানগুলো ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কোনো কোনো সংস্থা ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। এদিকে ক্যালগেরিভিত্তিক বিমান সংস্থা ওয়েস্টজেট সম্প্রতি জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংস্থাটি নির্দিষ্ট কিছু বুকিংয়ের ক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে ৬০ ডলারের সারচার্জ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে, যা যাত্রীদের ভ্রমণ ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
এয়ারলাইন্সটি এক ইমেইল বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই বুধবারের পর যারা কম্প্যানিয়ন ভাউচার ব্যবহার করে বুকিং করবেন, তাদের টিকিটের সঙ্গে অতিরিক্ত এই মাশুল যুক্ত হবে। যদিও এটি আপাতত “অস্থায়ী” ব্যবস্থা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, তবে জ্বালানির বাজারদর স্থিতিশীল না হলে ভবিষ্যতে এর স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
শুধু সারচার্জই নয়, ওয়েস্টজেট কম চাহিদাসম্পন্ন কিছু রুটে ফ্লাইট বাতিল করে সেগুলোকে বড় ফ্লাইটে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে এপ্রিল মাসে তাদের ফ্লাইট সংখ্যা ১ শতাংশ এবং মে মাসে ৩ শতাংশ কমেছে। এই পদক্ষেপ মূলত পরিচালন ব্যয় কমানোর একটি কৌশল, যা বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে।
এয়ারলাইন্সটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, একটি বিমান সংস্থা পরিচালনার ক্ষেত্রে জ্বালানি ব্যয়ই সবচেয়ে বড় খরচের উৎস। সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে এই ব্যয় হঠাৎ করে অনেক বেড়ে গেছে। তাই অস্থায়ী সারচার্জ আরোপ করে সেই চাপ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে এই সারচার্জ সমন্বয় করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তার মতে, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির পর থেকে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে, যা বিমান সংস্থাগুলোর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
একজন নিয়মিত যাত্রী সাফেদ হোসেন বলেন, সাধারণ মানুষ প্রায়ই বুঝতে পারে না একটি উড়োজাহাজ পরিচালনায় কত বিপুল পরিমাণ জ্বালানি প্রয়োজন হয়। এটি কোনো ব্যক্তিগত গাড়ির মতো নয়; একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করতে হাজার হাজার লিটার জ্বালানি লাগে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজের একটি ফ্লাইটের কথা উল্লেখ করেন। ভ্যানকুভার থেকে হংকং রুটে ফেব্রুয়ারি মাসে যেখানে জ্বালানি খরচ ছিল ৭১ হাজার ৪৮৫ ডলার, মার্চের মাঝামাঝি সেই খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ১৭১ ডলারে। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে প্রায় ৪০ হাজার ডলার বেশি ব্যয় হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য খরচ নিয়ন্ত্রণ করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। জ্বালানি তেলের দাম যদি এভাবেই বাড়তে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে যাত্রীদের জন্য টিকিটের মূল্য আরও বৃদ্ধি পাওয়া অবশ্যম্ভাবী। পাশাপাশি ফ্লাইট কমানো, রুট একীভূতকরণ এবং অতিরিক্ত চার্জ আরোপ এই ধরণের পদক্ষেপ আরও বেশি দেখা যেতে পারে।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট শুধু শিল্প বা অর্থনীতির ওপরই নয়, সরাসরি সাধারণ মানুষের ভ্রমণ ব্যয়ের ওপরও প্রভাব ফেলছে, এবং ওয়েস্টজেটের এই পদক্ষেপ সেই বৃহত্তর বাস্তবতারই প্রতিফলন।
সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

