রানওয়েতে দুর্ঘটনা বাড়ছে

রানওয়েতে দুর্ঘটনা বাড়ছে - the Bengali Times
বিমানবন্দরগুলোতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রানওয়ে সংক্রান্ত ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ

কানাডার বিমানবন্দরগুলোতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রানওয়ে-সংক্রান্ত ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে “রানওয়ে ইনকার্শন” বা অনধিকার প্রবেশের ঘটনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে ইতিবাচক দিক হলো উচ্চ ঝুঁকির বড় দুর্ঘটনার হার একই সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড অব কানাডা থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে রানওয়েতে অনধিকার প্রবেশের ঘটনা রেকর্ড ৬৩৯টিতে পৌঁছেছে। এক বছরে এত বেশি সংখ্যক এমন ঘটনা এর আগে দেখা যায়নি। এই ধরনের ঘটনায় সাধারণত কোনো বিমান, যানবাহন বা ব্যক্তি অনুমতি ছাড়া সক্রিয় রানওয়েতে প্রবেশ করে, যা সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

- Advertisement -

তবে পরিসংখ্যানের আরেকটি দিক কিছুটা স্বস্তিদায়ক। ২০১৮ সাল থেকে উচ্চ ঝুঁকির হিসেবে চিহ্নিত ঘটনাগুলোর সংখ্যা গড়ে বছরে প্রায় একটিতে নেমে এসেছে। এর আগে গত কয়েক দশকে এই সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। অর্থাৎ ঘটনা বাড়লেও সেগুলোর মারাত্মক রূপ নেওয়ার হার কমেছে।

সেফটি বোর্ডের চেয়ারম্যান ইয়োয়ান মারিয়ের বলেন, সামগ্রিকভাবে এই ঊর্ধ্বগতি উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, এর পেছনে কয়েকটি বড় কারণ কাজ করছে বিমান চলাচলের দ্রুত বৃদ্ধি, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের ঘাটতি এবং বড় বিমানবন্দরগুলোর ক্রমবর্ধমান জটিল গ্রাউন্ড অপারেশন।

বিশেষভাবে তিনি টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদাহরণ তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, পিয়ারসন বিমানবন্দরের পরিচালন পরিবেশ অত্যন্ত জটিল; একই সময়ে সেখানে অসংখ্য কার্যক্রম চলে। এর জটিল লেআউট নতুন বা অনভ্যস্ত পাইলটদের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। ফলে ভুলবশত রানওয়েতে প্রবেশ বা নির্দেশনা বিভ্রাটের ঝুঁকি বাড়ে। যদিও রানওয়ে ইনকার্শন সবসময় সরাসরি দুর্ঘটনার কারণ হয় না, তবুও এটি একটি গুরুতর নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ সামান্য ভুলও বড় ধরনের দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে।

সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক ঘটনাও এই ঝুঁকির গুরুত্বকে সামনে এনেছে। গত মাসে লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের একটি উড়োজাহাজ একটি ফায়ার ট্রাকের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে দুই পাইলট নিহত হন এবং ৪০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। যদিও ঘটনাটি কানাডার বাইরে ঘটেছে, তবুও এটি রানওয়ে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সেফটি বোর্ড তাদের বিশ্লেষণে বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কানাডায় রানওয়ে অনধিকার প্রবেশের কারণে বড় কোনো সংঘর্ষ ঘটেনি। তবে তারা সতর্ক করে দিয়েছে যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা শক্তিশালী না করা হলে উচ্চ মাত্রার ঝুঁকি থেকেই যাবে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। অন্যথায়, ক্রমবর্ধমান বিমান চলাচলের চাপ ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles