মেক্সিকোতে অপহৃত ১০ খনি শ্রমিকের মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু

মেক্সিকোতে অপহৃত ১০ খনি শ্রমিকের মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু - the Bengali Times
ভ্যানকুভারভিত্তিক খনি কোম্পানি ভিজলা সিলভার কর্পোরেশন নিশ্চিত করেছে যে অপহৃত ১০ জন শ্রমিকের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বাকি একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন

মেক্সিকোর সিনালোয়া অঙ্গরাজ্যের একটি খনি প্রকল্পকে ঘিরে ঘটে যাওয়া অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় নতুন করে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ভ্যানকুভারভিত্তিক খনি কোম্পানি ভিজলা সিলভার কর্পোরেশন নিশ্চিত করেছে যে, অপহৃত ১০ জন শ্রমিকের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের জানুয়ারিতে, যখন কোম্পানিটি জানায় যে তাদের পানুকো প্রকল্প এলাকায় কর্মরত ১০ জন শ্রমিককে অপহরণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি মেক্সিকোর খনিজসমৃদ্ধ অঞ্চল সিনালোয়ায় অবস্থিত, যেখানে স্বর্ণ ও রৌপ্য উত্তোলনের কাজ চলে।

- Advertisement -

ফেব্রুয়ারিতে কোম্পানিটি এক হালনাগাদ বিবৃতিতে জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবার তাদের কাছে দাবি করে যে অপহৃতদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন। পরে মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করে। যদিও এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর আনুষ্ঠানিক পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে, নিখোঁজ থাকা শেষ কর্মীকে খুঁজে বের করতে এখনও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে মেক্সিকোর নিরাপত্তা বাহিনী।

কোম্পানির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল কোনার্ট এই ঘটনাকে “বিপর্যয়কর” বলে আখ্যায়িত করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। নিহত কর্মীদের পরিবারগুলোর প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা রইল। আমরা তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি এবং আমাদের সহকর্মী ও বন্ধুদের স্মরণে কাজ চালিয়ে যাব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ক্ষতি কোম্পানির জন্য দীর্ঘমেয়াদী এক বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকবে এবং প্রতিদিনের কাজের মধ্য দিয়ে তারা নিহতদের স্মরণ করবেন।

মেক্সিকোর খনি শিল্পে এমন সহিংস ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে সিনালোয়ার মতো অঞ্চলে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের দৌরাত্ম্য দীর্ঘদিনের। মাদক কারবারী গোষ্ঠীগুলো প্রায়ই খনি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে অথবা খনিজ সম্পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করে। বিশ্লেষকদের মতে, খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে, যা শুধু শ্রমিকদের জীবনকেই ঝুঁকিতে ফেলছে না, বরং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও শিল্পের স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন নিহত শ্রমিকদের পরিবার। অনেকেই তাদের উপার্জনক্ষম সদস্য হারিয়েছেন, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হলেও, বাস্তবিক ক্ষতি পূরণ করা যে সম্ভব নয় তা স্পষ্ট।

সিনালোয়ার এই ঘটনা আবারও তুলে ধরল, মেক্সিকোর খনি শিল্পে নিরাপত্তাহীনতার ভয়াবহ চিত্র। অপহরণ, হত্যা এবং অপরাধচক্রের দৌরাত্ম্য রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles