ইনস্টাগ্রামে পোস্ট দিয়ে মুদ্রা জালিয়াতি

ইনস্টাগ্রামে পোস্ট দিয়ে মুদ্রা জালিয়াতি - the Bengali Times
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চক্রটির কার্যক্রম প্রথম নজরে আসে দুটি পাবলিক ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে

কানাডার হল্টন রিজিয়নাল পুলিশ সার্ভিস একটি সুপরিকল্পিত নকল মুদ্রা বিক্রির চক্রের সন্ধান পেয়ে দীর্ঘ তদন্তের পর সেটি ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ইনস্টাগ্রামকে কাজে লাগিয়ে পরিচালিত এই চক্রটি অনলাইনে জাল টাকা বিক্রির মাধ্যমে বড় ধরনের প্রতারণা চালিয়ে আসছিল।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চক্রটির কার্যক্রম প্রথম নজরে আসে দুটি পাবলিক ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। এই অ্যাকাউন্টগুলোতে প্রকাশ্যে নকল মুদ্রার বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো, যা যে কেউ সহজেই দেখতে পারত। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় হল্টন পুলিশের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট তদন্ত শুরু করে।

- Advertisement -

২০২৫ সালের আগস্টে “প্রজেক্ট মিরেজ” নামে এই তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। তদন্তকারীরা দেখতে পান, ইনস্টাগ্রামের পোস্টে থাকা লিংকে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীরা একটি অনলাইন স্টোরে পৌঁছে যায়। সেখানে বিভিন্ন ধরনের নকল মুদ্রা বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হতো, এবং ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে তুলনামূলক কম দামে এসব জাল টাকা বিক্রির প্রচার চালানো হতো।

ক্রেতারা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অর্ডার করলে সেই নকল মুদ্রা কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হতো। পুলিশের মতে, এই জাল অর্থের একটি অংশ হল্টন অঞ্চলসহ বৃহত্তর টরন্টো এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রটি ভেঙে দেওয়ার আগে পর্যন্ত তাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রায় ৬০ হাজার ডলারের লেনদেন হয়েছে। অর্থাৎ, চক্রটি কেবল স্থানীয় নয়, বরং সংগঠিত ও বিস্তৃত একটি প্রতারণা নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করছিল।

২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পুলিশ টরন্টোর তিনটি বাড়িতে তল্লাশি চালায় এবং একাধিক গাড়িতেও অনুসন্ধান করা হয়। এই অভিযানে কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রায় দুই ডজন অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তল্লাশির সময় পুলিশ শুধু নকল মুদ্রাই নয়, বরং আরও বিভিন্ন অবৈধ সামগ্রী উদ্ধার করে। এর মধ্যে রয়েছে একটি সোনার বার, ১৩টি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, ১২.৬ আউন্স কোকেন, দুই আউন্স এমডিএমএ, ছয় আউন্স মেথামফেটামিন এবং ৮০টি জ্যানাক্স ট্যাবলেট।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ২৩ বছর বয়সী রাফি আহমেদ, ২৪ বছর বয়সী শাফি আহমেদ, ২১ বছর বয়সী লেভেন্তে গ্লোনজি এবং ২৯ বছর বয়সী ডেভিড হো। তাদের বিরুদ্ধে ৫ হাজার ডলারের বেশি জালিয়াতি এবং নকল মুদ্রা ব্যবসার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া ৩১ বছর বয়সী জেসন হো এবং ২৯ বছর বয়সী থানহা বুইয়ের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং অপরাধীদের জন্যও একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠছে। ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রকাশ্যে নকল মুদ্রার বিজ্ঞাপন দেওয়া এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করা এবং ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি। কারণ, এই ধরনের প্রতারণা শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং বৃহত্তর অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

“প্রজেক্ট মিরেজ” সফলভাবে সম্পন্ন করে হল্টন পুলিশ একটি বড় ধরনের অপরাধচক্র ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা ডিজিটাল যুগে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, এবং তা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও সচেতন থাকা প্রয়োজন।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles