
মার্কিন প্রশাসনের সাময়িক নীতিগত পরিবর্তনের পরও রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখার অবস্থানে অনড় রয়েছে কানাডা। মার্ক কার্নি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, রাশিয়ার জ্বালানি তেল এবং সেই তেল পরিবহনকারী ট্যাংকার বহরের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কানাডা শিথিল করবে না বরং তা অব্যাহত রাখবে।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ কমাতে রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ৩০ দিনের জন্য শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দাম বৃদ্ধির ধাক্কা সামাল দেওয়া। কিন্তু কানাডা এই অবস্থান থেকে ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। কার্নি বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা শুধু অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যম নয়, বরং এটি ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।
প্রায় চার বছরের বেশি সময় ধরে চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। কানাডার মতে, ভ্লাদিমির পুতিন নেতৃত্বাধীন রাশিয়ার ওপর চাপ কমালে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। কার্নি জোর দিয়ে বলেন, “ইউক্রেনের জনগণ এবং ইউরোপের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না।” তার মতে, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নরওয়ের বারডুফোসে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কানাডার পাশে দাঁড়ান ইউরোপীয় নেতারাও। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডিরখ মার্জ জানান, জি৭ জোটের সাত দেশের মধ্যে ছয়টি দেশই রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখার পক্ষে একমত। তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেলেও নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভিন্ন অবস্থান তাকে “বিস্মিত” করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোর বলেন, “মিত্রদের উচিত পুতিনের ওপর আরও কঠোর চাপ সৃষ্টি করা, যাতে যুদ্ধের অবসান ত্বরান্বিত হয়।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, যা রাশিয়ার জন্য একপ্রকার সুবিধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেলের দাম বাড়লে রাশিয়ার রাজস্বও বৃদ্ধি পায়, যা তাদের যুদ্ধ তহবিলকে শক্তিশালী করে। অতীতে নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার তেল থেকে আয় কমে গেলে দেশটি ব্যাংক ঋণ গ্রহণ এবং কর বাড়ানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিল। ফলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিল বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে এক জটিল ভারসাম্যের ইঙ্গিত দেয়। একদিকে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখার প্রয়োজন, অন্যদিকে যুদ্ধ থামাতে রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখার কৌশল এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কানাডার অবস্থান স্পষ্ট: অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেই কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।

