
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি চাপে রয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিছু এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন সেনারা বিকল্প স্থানে অবস্থান নেওয়ার কথা ভাবছে বা অস্থায়ীভাবে অন্যত্র কাজ করছে। তবে এ তথ্যগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে সব দাবি নিশ্চিত করা হয়নি।
ওপেন-সোর্স বিশ্লেষক ফ্যাবিয়ান হিনজ-এর প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়, বিভিন্ন মার্কিন ও আঞ্চলিক ঘাঁটিতে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে স্যাটেলাইট তথ্য প্রকাশে বিলম্বের কারণে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়।
একই বিষয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত কিছু মার্কিন স্থাপনায় হামলার প্রভাব পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, কুয়েতের আলি আল সালেম, কাতারের আল উদেইদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা—এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিছু স্থাপনায় যোগাযোগ ব্যবস্থা, হ্যাঙ্গার ও অবকাঠামোর ক্ষতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানি সূত্রের দাবি, তারা উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর এক জরিপে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির কথাও উঠে এসেছে।
তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে এখনো পরিষ্কার ও একমত আন্তর্জাতিক চিত্র পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না আসা পর্যন্ত এসব তথ্যকে প্রাথমিক বা আংশিক হিসেবে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

