
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর অঞ্চলটি ছেড়ে সাত হাজারেরও বেশি কানাডিয়ান নাগরিক নিরাপদে দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনীতা আনান্দ। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন এবং চলমান উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।
মন্ত্রী আনান্দ জানান, গত ৪ মার্চ থেকে ৮ মার্চের মধ্যে অন্তত ৪ হাজার ৩০০ জন কানাডিয়ান নাগরিক, স্থায়ী বাসিন্দা (পারমানেন্ট রেসিডেন্ট) এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা দেশে ফিরে এসেছেন। এদের কেউ সরাসরি ফ্লাইটে, আবার কেউ পরোক্ষ বা বিকল্প রুট ব্যবহার করে নিরাপদে কানাডায় পৌঁছেছেন। পরিস্থিতির জটিলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি ফ্লাইট পাওয়া সম্ভব না হওয়ায় সরকার বিকল্প পথ ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে যেসব কানাডিয়ান বেরিয়ে আসতে চান, তাদের জন্য সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সুযোগ তৈরি করে যাচ্ছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহার করে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করার জন্য নাগরিকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি, প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্লাইটের আসন সংরক্ষণ (বুকিং ব্লক করা), চাহিদা থাকলে চার্টার ফ্লাইট পরিচালনা এবং স্থলপথে বাস রুটের ব্যবস্থা করেও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সাহায্যের জন্য প্রতিদিন যে সংখ্যক কল আসছে তা গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে যে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং অনেকেই ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সক্ষম হয়েছেন।
গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৭১ জন কানাডিয়ান নাগরিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল ছেড়ে তুরস্কসহ অন্যান্য নিরাপদ তৃতীয় দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এসব দেশে অবস্থান করে তারা পরবর্তী সময়ে কানাডায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত প্রায় এক লাখ ১০ হাজার কানাডিয়ান ওই অঞ্চলে অবস্থানের জন্য নিবন্ধিত ছিলেন। তবে তাদের মধ্যে ১০ শতাংশেরও কম সরাসরি এলাকা ছাড়তে সহায়তা চেয়েছেন। এতে ধারণা করা হচ্ছে, বেশিরভাগ নাগরিক আপাতত নিজ নিজ অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
এদিকে, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কানাডিয়ান নাগরিক নিহত বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা। সরকার পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে।
সামগ্রিকভাবে, কানাডা সরকার তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

