অন্টারিওর বাজেট পেশ ২৬ মার্চ

অন্টারিওর বাজেট পেশ ২৬ মার্চ - the Bengali Times
মঙ্গলবার এম্পায়ার ক্লাব অব কানাডায় দেওয়া এক বক্তব্যে অন্টারিওর অর্থমন্ত্রী পিটার বেথলেনফালভি আনুষ্ঠানিকভাবে এই তারিখ ঘোষণা করেন এবং বাজেটের মূল অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন

অন্টারিও প্রদেশের সরকার আগামী ২৬ মার্চ তাদের সর্বশেষ বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে যা বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের দ্বিতীয় বাজেট এবং ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। মঙ্গলবার এম্পায়ার ক্লাব অব কানাডায় দেওয়া এক বক্তব্যে অন্টারিওর অর্থমন্ত্রী পিটার বেথলেনফালভি আনুষ্ঠানিকভাবে এই তারিখ ঘোষণা করেন এবং বাজেটের মূল অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন যে, প্রদেশের সামনে এখন “একটি পরিষ্কার পছন্দ” রয়েছে। তাঁর ভাষায়, সরকার এমন একটি অর্থনৈতিক কৌশল গ্রহণ করতে চায় যা একদিকে অন্টারিওর অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে, অন্যদিকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় প্রদেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। এ লক্ষ্যে সরকার ভবিষ্যৎমুখী খাতগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), উন্নত ম্যানুফ্যাকচারিং, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, লাইফ সায়েন্স, এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ খাত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

- Advertisement -

এই বাজেট এমন এক সময়ে আসছে, যখন প্রদেশের আইনপ্রণেতারা ডিসেম্বর থেকে বিরতিতে ছিলেন এবং আগামী ২৩ মার্চ কুইন’স পার্কে তাদের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে যাচ্ছেন। ফলে বাজেট অধিবেশনটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অন্টারিও বর্তমানে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং শুল্ক আরোপের হুমকি প্রদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় শুরু হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় রপ্তানি ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগে শ্লথতা দেখা দেয়, যার প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটেনি।

অন্টারিওর ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস (এফএও)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রদেশটির প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ১.৩ শতাংশে, যা ২০২৪ সালের ১.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এই ধীরগতির প্রধান কারণ হিসেবে রপ্তানি হ্রাস এবং বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়াকে দায়ী করা হচ্ছে। যদিও ২০২৬ সালের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তবুও সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি এখনও পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে।

এদিকে, প্রাদেশিক আর্থিক অবস্থার কিছু উন্নতির কথাও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া সর্বশেষ ফল ইকোনমিক আপডেট অনুযায়ী, গত বছরের বাজেটে যেখানে ১৪.৬ বিলিয়ন ডলার ঘাটতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তা কমে বর্তমানে প্রায় ১৩.৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। যদিও এটি এখনও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি, তবুও পূর্বাভাসের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি সরকারকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। পাশাপাশি, প্রদেশের ক্রেডিট রেটিং দুইটি সংস্থার কাছ থেকে উন্নীত হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার দিক থেকেও ইতিবাচক সংকেত বহন করে।

সার্বিকভাবে, আসন্ন বাজেটটি অন্টারিও সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অন্যদিকে বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যৎমুখী খাতে বিনিয়োগের ওপর জোর দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনতে পারে, তবে স্বল্পমেয়াদে এর প্রভাব কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles