21.7 C
Toronto
মঙ্গলবার, আগস্ট ৯, ২০২২

খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে হলে এভাবে দরখাস্ত করতে হবে

- Advertisement -

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, “খালেদা জিয়া যদি বলেন, ‘আপনারা আমাকে যে শর্তযুক্ত (শর্তে) ছেড়ে দিয়েছেন, এটা আমি মানি না, আমাকে জেলে নিয়ে যান, আমি আবার দরখাস্ত করব। তখন উনি আবার দরখাস্ত করতে পারেন।”

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) বার্ষিক সভায় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এই অবস্থায় ফৌজদারি কার্যবিধিতে কোথাও নেই যে তাঁকে আমরা আগের দরখাস্তের বিবেচনায় বিদেশ যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে পারব। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় কাউকে বিদেশ যেতে দেওয়া যাবে না, এটা আমি কখনো বলিনি। একবার নিষ্পত্তিকৃত কোনো দরখাস্ত আবার পুনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় নেই।’

আইনমন্ত্রী জানান, ‘এভারকেয়ার হাসপাতাল তাঁর (খালেদা) জন্য সর্বশেষ প্রযুক্তিতে চিকিৎসা করছে। আমি যতটুকু খবর পেয়েছি, কিছুটা তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এখানে তিনি (খালেদা জিয়া) যতটুকু সম্ভব সুচিকিৎসা পাচ্ছেন। এইটুকু আমি আপনাদের বলতে পারি। সেখানে সরকারের কোনো হাত নেই। তাঁদের ইচ্ছেমতো তাঁরা চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং পাচ্ছেন।’

নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনের অবস্থান কিন্তু ঘোলাটে না। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে বলা আছে, নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন রাষ্ট্রপতি। আইন করার কথা বলা আছে। রাষ্ট্রপতি গত দুবার সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ–আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্তে এসেছিলেন। সিদ্ধান্তটা হচ্ছে, একটা সার্চ কমিটি গঠন হবে। সেই কমিটিতে নাম দেওয়া যাবে। নামগুলোর মধ্যে ১০টি নাম সুপারিশ করে কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে। রাষ্ট্রপতি পাঁচজনকে নির্বাচিত করবেন, একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বাকি চারজন নির্বাচন কমিশনার। এটা করার পর একটি গেজেট হয়েছে। এর পরে দুটি নির্বাচন হয়েছে। যদিও এটা আইন না, তবু এটার ‘ফোর্স অব ল’ আছে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আইন করা উচিত আমিও বলি। আইন হবে। কিন্তু যদি ওই করোনার সময়ে সংসদ বসে, তবে আমরা সব সংসদ সদস্যদের ডাকি না। আমাকে বলা হয়েছিল, এই নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের ব্যাপারে একটি অর্ডিন্যান্স করে দেন। আমি বলেছি, সেটা সম্ভব না। আমি এই সংসদকে পাশ কাটিয়ে নির্বাচন কমিশনের যেটি সংবিধান বলছে আইন করে দিতে, এ রকম একটা আইন সংসদকে পাশ কাটিয়ে করতে রাজি না।’

মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী নির্বাচন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি সংলাপ শুরু করেছেন। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। আইনের ব্যাপারে একটা কথা হচ্ছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচন কমিশনের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। সংসদ যখন একটা আইন করতে পারবে না, তখন সার্চ কমিটি এই কাজ করছে। সার্চ কমিটিতে ছয়জনের মধ্যে চার সদস্য সাংবিধানিক পোস্টধারী, বাকি দুজন সিভিল সোসাইটির। এখানে রাজনৈতিক দলের কেউ নেই।

প্রধান বিচারপতি নিয়োগে কোনো প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, দুটি জিনিসে রাষ্ট্রপতিকে কাউকে জিজ্ঞেস করতে হয় না, তিনি করতে পারেন। এটি তাঁর সর্বময় ক্ষমতা। একটা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা, আরেকটা প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা। তিনি আরও বলেন, ‘আমি হচ্ছি সরকারের একজন মন্ত্রী। যে ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির, সেটা কি আমি জানি? আমি জানি না। রাষ্ট্রপতি নিশ্চয়ই তাঁর সুবিবেচনায় যোগ্য মনে করে সংবিধানের পরিধির মধ্যে তাঁর যে ক্ষমতা, তা ব্যবহার করবেন। হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগে যাঁরা বিচারপতি আছেন, আমি মনে করি, তারা প্রত্যেকে প্রধান বিচারপতি হওয়ার যোগ্য, যোগ্যতা রাখেন।’

দেশে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের প্রয়োজন আছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি স্বীকার করি যে এই ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট তৈরির পর এর অপব্যবহার ও দুর্ব্যবহার হয়েছিল। এটি বন্ধে আমি ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রথম পদক্ষেপ গত বছরের ডিসেম্বরে নিয়েছি, সেটি হচ্ছে জাতিসংঘের অফিস অব দ্য হাইকমিশন অব হিউম্যান রাইটসের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছি।’ তিনি বলেন, এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, লেজিসলেটিভ ডিভিশনের সচিবের নেতৃত্বে একটি দল গঠন করা। দলটি ওই সংলাপের সঙ্গে যুক্ত আছে, যাতে এই আইনের সবচেয়ে ভালো ব্যবহার হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, এই আইনের অপব্যবহার বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের অধীন কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হলে, তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয় না। সেটি নিশ্চিত হয়েছে। এই আইন কখনোই বাক্‌স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য করা হয়নি।

সূত্র : নতুন সময়

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles