
উনি জানতেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হওয়া কতোটা চ্যালেঞ্জিং। আওয়ামী লীগের লোকজন বহুবছর আগে থেকেই তাদের চারিত্রিক হিংসা, ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্সের জন্য তাঁকে সহ্যই করতে পারে না। দায়িত্ব নেবার পর থেকে আরও পারেনি। পারার কথাও না। তাঁকে অসম্মান করার এমন কোনো কাজ, কথা নাই যে বলে নাই।
বিশ্বের অন্যতম দূর্নীতিগ্রস্ত দেশে সংস্কার করা কতোটা সাহসের, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। অনেকে দাঁত কেলিয়ে ছি ছি করবে, বলবে কিচ্ছু পারে না। আর বিএনপি বা অন্য সব দলের মন জুগিয়ে চলতে পারবেন না। তবুও তিনি চেষ্টার কোনো ত্রুটি করেননি।
টক শোগুলোতে নামি দামি বক্তারা বিজ্ঞের মতো কতো সমালোচনা করেছে ইউনূসের। চেয়ারে আরামে বসে এই হলে ভালো হতো, সেই হলে ভালো হতো বলে কফিতে চুমুক দিয়ে বস্তা ভর্তি টাকা নিয়ে বাসায় ফিরতো। মনে রাখতে হবে, তারা টকশোতে আসে পয়সার গন্ধ পেয়ে। যতরকম বিপক্ষে কথার খৈ ফুটাতে পারেবে, ততো তালিয়া, ততো তাদের ডাক। একজন বক্তা তো অহংকার করে বলেই ফেলেছিলেন যে সে সবচেয়ে বেশি পেইড বক্তা।
তিনি ছাড়া খুব কম মানুষেরই দায়িত্ব নেবার যোগ্যতা বা সাহস ছিল। বেশিরভাগের ছিল পয়সার ধান্ধা আর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। অন্য কেউ আসলে জুলাই বিপ্লবকে জগাখিচুরি বানিয়ে ফেলতেন। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে ফেলতো। দোষ, ত্রুটি, ব্যার্থতা তাঁরও আছে। তবে তাঁর সফলতার পাল্লা অনেক ভারী।
আমাদের সৌভাগ্য তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
ড. ইউনূস কোনো আপস করেননি।
বাংলাদেশকে ভারতের দাসত্ব সংস্কৃতি থেকে বের করে দেখিয়েছেন আমাদেরও সাহস আছে। যা অতীতে কেউ পারেনি।
একজন পঁচাশি বছরের মানুষের স্মার্ট কথাবার্তা, দায়িত্ব, সংযমের দূরদর্শিতা চোখে পড়ার মতো। অনন্য উদাহরণ।
ড. ইউনূস, আপনার প্রতি আমরা আজীবন কৃতজ্ঞ।
ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
অটোয়া, কানাডা

