
মানুষটাকে আমি চিনি খুব সম্ভবত ২০১৩ সাল থেকে। কোন এক গানের অনুষ্ঠানে আমার প্রয়াত চাচা(লোটন কাকু) উনার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। অবশ্য তার আগেও কোন কোন অনুষ্ঠানে আমাদের দেখা হয়েছে এবং ফেসবুক ফ্রেন্ড হবার কারনে হয়েছে কিছুটা সৌজন্য সাক্ষাত। সেই দিন লোটন কাকু ..দেলওয়ার ভাইকে দেখিয়ে বললেন, “এই হলো দেলওয়ার এলাহী ভাই। এই শহরের সিংহ হৃদয়ের এক মানুষ আর আমাকে দেখিয়ে বললেন…এই হলো আমার পুতুল পুতুল আদরের ভাতিজি। এই তো সেদিনও এই ছোট্টটি ছিল!” অবাক করা বিষয় এই যে, প্রত্যেকটা দেলওয়ার এলাহী (ভাই) এর দিকেই মাথা উঁচু করে তাকাতে হয়। দেলওয়ার ভাই এর কোন শত্রুও একথা বলতে পারবে না যে, দেলওয়ার ভাই এর জন্য বা তার কোন কাজে কেউ আঘাত পেয়েছে বা অসম্মানিত হয়েছে বা মাথা নীচু হয়েছে।
আজকের এই লেখায়…দেলওয়ার ভাই এর কোথায় জন্ম বা তার পরিবার পরিজন কারা, সেই প্রসঙ্গে কিছুই লেখার নাই। কারন আকাশে যেমন কোন রেখা টেনে আকাশ ভাগ করা যায় না, তেমনি দেলওয়ার ভাই কেও ভাগ করা যায় না। দেলওয়ার ভাই আমাদের সবার।
যা বলছিলাম…এই ১৩ বছরে নানান রূপের নানান ব্যাক্তিত্বের দেলওয়ার ভাই কে চিনেছি। কখনো মনে হয়েছে সে মা পাগল ছেলে , যেন পরম আদরে মায়ের কোলে শুয়ে থাকা এক অবুঝ শিশু। কখনো আবার সন্তান আর পরিবার পরিজনের জন্য যেন তিনি হয়ে যান পায়ের নীচের মাটি, কখনো আবার বিশাল আকাশ।
আর প্রেমিক হিসেবে তো সে প্রেমিক চন্ডিদাশ! কখনো মনে হয়…”বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না—ইহা দূরেও ঠেলিয়া ফেলে।” — বিখ্যাত কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাসের একটি কালজয়ী উক্তিটি দেলওয়ার ভাই হৃদয়ে লালন পালন করেন।
বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য রক্ষায় উনি যেন এক অকুতোভয় সৈনিক । কখনো আবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেগে উঠা শিখা অনির্বাণ। কখনো আবার স্বর্ণযুগের কোন বিচক্ষণ সঙ্গীতজ্ঞ। পর্যবেক্ষক হিসেবে তার নিখুঁত নিপুণতার ভীষণ ভক্ত আমি। তাঁর ইতিবাচক চিন্তার যাদু নেতিবাচক মানুষ গুলোকেও ইতিবাচক হতে উৎসাহিত করে। প্রতিনিয়ত তার কাছ থেকে কত কিছু যে শিখি!
এতক্ষন ধরে তো নানান রূপের নানান ব্যাক্তিত্বের অনেক গুলো দেলওয়ার ভাই এর কথাই বল্লাম,
কিন্ত মাথা নত হয়ে আসে যে দেলওয়ার এলাহী ভাইয়ের সামনে…তিনি হলেন , ভীষণ নরম মনের দয়ালু এক মানুষ। অন্যের কষ্টে যার মন কাঁদে, অন্যের আনন্দে যে হেসে উঠে …তিনি হলেন আমাদের সবার পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার দেলওয়ার এলাহী ভাই। আমি বিস্মিত হই! মাঝে মাঝে মনে হয়… তিনি যাদু জানেন! নয়তো কে কখন কোথায় কি বিপদে আছে বা কার পাশে তাঁকে প্রয়োজন তা দেলওয়ার ভাই বুঝেন কি ভাবে?
দেলওয়ার এলাহী ভাইয়ের শিক্ষা জীবন, কর্মজীবন বা পারিবারিক জীবন নিয়ে লিখতে বসলে এ লেখা আর শেষ হবে না।
আজ দেলওয়ার এলাহী ভাইয়ের ৬০তম জন্মদিনে, আমি যে দেলওয়ার এলাহী ভাই কে চিনি তার সাথে আপনাদের পরিচয় করে দেবার এই ছোট্ট প্রয়াস।
দেলওয়ার ভাইকে নিয়ে লিখতে বসেই একটা গান মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে-
“মানুষ মানুষের জন্যে
জীবন জীবনের জন্যে
একটু সহানুভূতি কি
মানুষ পেতে পারে না?
ও বন্ধু, মানুষ মানুষের জন্যে…”
এই গানটি যেন দেলওয়ার এলাহী ভাইয়ের কথাই বলে।

