ওসাপের সুযোগ নিচ্ছেন কিছু শিক্ষার্থী: ফোর্ড

ওসাপের সুযোগ নিচ্ছেন কিছু শিক্ষার্থী: ফোর্ড - the Bengali Times
অন্টারিও প্রদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে

অন্টারিও প্রদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সরকার পরিচালিত অন্টারিও স্টুডেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামে অনুদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ঋণনির্ভর কাঠামো জোরদার করার পরিকল্পনা প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড জানান, পরিবর্তনের ঘোষণার পর থেকে তার দপ্তরে হাজার হাজার ফোনকল এসেছে। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা এবং তাদের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়া আমার দায়িত্ব। তবে আমি বুঝতে পারছি, এই মুহূর্তে তারা হতাশ।”

- Advertisement -

ঘোষণা অনুযায়ী, বর্তমানে ওসাপের আওতায় যে আর্থিক সহায়তার প্রায় ৮৫ শতাংশ অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়, তা কমিয়ে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার বড় অংশই ভবিষ্যতে ঋণ হিসেবে নিতে হবে, যা স্নাতকোত্তর জীবনে তাদের পরিশোধ করতে হবে।

প্রিমিয়ার ফোর্ডের যুক্তি, বর্তমান কাঠামো “টেকসই নয়” এবং বড় ঋণ শিক্ষার্থীদের আর্থিকভাবে “দায়বদ্ধ” করে তুলবে। তিনি দাবি করেন, করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ফোর্ড বলেন, কিছু ক্ষেত্রে তিনি এমন অভিযোগও শুনেছেন যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনের বাইরে বিলাসী পণ্য যেমন দামি ঘড়ি বা পারফিউম কেনার জন্য অনুদানের অর্থ ব্যবহার করেছেন। তার ভাষায়, “করদাতাদের অর্থে এ ধরনের ব্যয় গ্রহণযোগ্য নয়।”

শুধু আর্থিক কাঠামোই নয়, শিক্ষার্থীদের পেশা নির্বাচন নিয়েও মন্তব্য করেছেন ফোর্ড। তিনি বলেন, “গুরুত্বহীন কাজ বেছে নেওয়ার বদলে স্বাস্থ্যসেবা বা বাণিজ্য খাতে আসুন সেখানে কাজের সুযোগ রয়েছে।” তবে তার এই বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের মতে, শিক্ষার্থীদের পেশা বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা সীমিত করার ইঙ্গিত এতে রয়েছে।

সরকারের এই নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিভিন্ন সংগঠন। বিশেষ করে অন্টারিও নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (ওএনএ) জানিয়েছে, প্রদেশে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার নার্সের ঘাটতি রয়েছে। অনুদান কমিয়ে দিলে ভবিষ্যৎ নার্সদের শিক্ষায় প্রবেশ ও টিকে থাকার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

ওএনএর প্রেসিডেন্ট ইরিন আরিস বলেন, “নার্সিং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও ক্লিনিক্যাল কাজের চাপ অত্যন্ত বেশি। অনেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন বা পূর্ণকালীন চাকরি করতে পারেন না। তারা ইতিমধ্যেই আর্থিক চাপে রয়েছেন এবং ওসাপের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।”

তার মতে, অনুদানের সীমা কমিয়ে দিলে আর্থিক ফাঁদ আরও গভীর হবে এবং স্বাস্থ্যখাতে প্রয়োজনীয় জনবল তৈরির পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন স্বল্প ও মধ্যম আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে। অনুদান থেকে ঋণনির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তর মানে উচ্চশিক্ষা অর্জনের আগেই শিক্ষার্থীদের বড় অঙ্কের দেনার বোঝা কাঁধে নিতে হবে।

এতে দুই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে – অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় ভর্তিই না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এবং অন্যরা স্নাতকোত্তর জীবনের শুরুতেই বড় ঋণের চাপের মুখে পড়বে, যা তাদের পেশা ও জীবনযাত্রার সিদ্ধান্তে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে সরকার বলছে, করদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এই পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়।

ওসাপ সংস্কার নিয়ে এখন প্রদেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো প্রতিবাদের ইঙ্গিত দিয়েছে, আর স্বাস্থ্যখাতের নেতারা সরকারের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। নীতিগত এই পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে তা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতিই নয়, অন্টারিওর শ্রমবাজার ও স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎকেও প্রভাবিত করতে পারে এমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এখন দেখার বিষয়, সরকারের ঘোষিত নীতি অপরিবর্তিত থাকে, নাকি জনমতের চাপে তাতে কোনো সংশোধন আসে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles