লেট-নাইট মিল চালু করেছে ম্যাকডোনাল্ড’স কানাডা

লেট-নাইট মিল চালু করেছে ম্যাকডোনাল্ড’স কানাডা - the Bengali Times
কানাডায় ফাস্টফুড জায়ান্ট ম্যাকডোনাল্ডস কানাডা জনপ্রিয় র‌্যাপার ড্রেকের ব্র্যান্ড ওভোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে একটি নতুন লেটনাইট মেনু চালু করেছে

কানাডায় ফাস্ট–ফুড জায়ান্ট ম্যাকডোনাল্ড’স কানাডা জনপ্রিয় র‌্যাপার ড্রেকের ব্র্যান্ড ওভোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে একটি নতুন লেট–নাইট মেনু চালু করেছে। “নাইট স্প্রাইট” নামের বিশেষ পানীয়কে কেন্দ্র করে এই সহযোগিতা ঘিরে তৈরি হয়েছে কৌতূহল, আলোচনা এবং কিছুটা বিতর্কও।

এই সহযোগিতার অংশ হিসেবে উন্মোচন করা হয়েছে “লেট-নাইট মাঞ্চি” মিল। এর মূল আকর্ষণ “নাইট স্প্রাইট” স্প্রাইটের সঙ্গে ব্লু রাস্পবেরি শরবতের সংমিশ্রণে তৈরি একটি স্বতন্ত্র স্বাদের পানীয়। পানীয়টি পরিবেশন করা হচ্ছে কালো রঙের কাগজের কাপে, যাতে রয়েছে ওভোর স্বাক্ষর আউল লোগো। গ্রাহকেরা এটি আলাদাভাবে কিনতে পারেন, আবার “আফটারস মিল”–এর অংশ হিসেবেও নিতে পারেন।

- Advertisement -

“আফটারস মিল”–এ রাখা হয়েছে দুটি জনপ্রিয় আইটেমের একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ জুনিয়র চিকেন অথবা ম্যাকডাবল। মূলত রাতজাগা তরুণ প্রজন্ম ও সংগীতপ্রেমী ভোক্তাদের লক্ষ্য করেই এই প্যাকেজ তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন পানীয় বাজারে আসার পরপরই অনলাইনে এর বিশেষ কাপে বিক্রির হিড়িক পড়ে যায়। ই–কমার্স প্ল্যাটফর্মে কয়েক ডজন কাপের তালিকা দেখা যায়, যেগুলোর অধিকাংশের দাম ছিল ৪০ ডলারের নিচে। অর্থাৎ, পানীয়ের চেয়ে সংগ্রহযোগ্য পণ্য হিসেবে কাপের চাহিদাই বেশি চোখে পড়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, তারা “নাইট স্প্রাইট” অর্ডার করলেও কো–ব্র্যান্ডেড কাপের পরিবর্তে সাধারণ কাপ পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কিছুটা অসন্তোষও তৈরি হয়।

এ প্রসঙ্গে ম্যাকডোনাল্ড’স কানাডার মুখপাত্র ক্রিস্টেন হান্টার এক বিবৃতিতে জানান, কর্মসূচির অংশ হিসেবে বর্তমানে কোনো ছাড়ের ব্যবস্থা নেই। তিনি বলেন, অ্যাপ–ভিত্তিক অর্ডারের ক্ষেত্রে অল্প কিছু ব্যবহারকারী যে ভিন্ন ছবি দেখেছিলেন, তা ছিল কারিগরি ত্রুটির ফল, যা ইতোমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিক্রিত পণ্য বা প্রচারণায় সরাসরি ড্রেকের নাম ব্যবহার করা হয়নি। যদিও ওভো ব্র্যান্ড তার সঙ্গেই অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত, তবুও কোম্পানিটি প্রচারে শিল্পীর ব্যক্তিগত পরিচিতিকে সামনে আনেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি হয়তো সচেতন কৌশল ব্র্যান্ড সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া, ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণার বদলে।

ড্রেক টরন্টোতে বেড়ে ওঠা এক শিল্পী, যিনি প্রথমে টেলিভিশন সিরিজ ডিগ্র্যাসি: দি নেক্ট জেনারেশনে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান। পরবর্তীতে সংগীতে পা রেখে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। একসময় বিলবোর্ডের হট ১০০ চার্টে নিয়মিত উপস্থিতি ছিল তার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন গানের সংখ্যা কমে গেছে এবং চার্টে তার অবস্থানও আগের মতো শক্ত নয়।

ড্রেক সম্প্রতি সহকর্মী র‌্যাপার কেন্ড্রিক ল্যামারের সঙ্গে প্রকাশ্য বিবাদে জড়ান, যা সংগীত অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সমালোচকদের একাংশ মনে করছেন, এসব বিতর্ক এবং চার্টে তুলনামূলক দুর্বল উপস্থিতি তার ব্র্যান্ড ইমেজে প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ম্যাকডোনাল্ড’সের সঙ্গে তার ব্র্যান্ডের সহযোগিতা এক ধরনের পরীক্ষা। প্রশ্ন হচ্ছে ড্রেকের বর্তমান জনপ্রিয়তা কি এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী, যাতে একটি বহুজাতিক খাদ্যচেইনের বিক্রয় ও প্রচারণায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে?

লেট–নাইট ভোক্তাদের লক্ষ্য করে ম্যাকডোনাল্ড’স কানাডার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে বিপণন কৌশলের দিক থেকে অভিনব। “নাইট স্প্রাইট” হয়তো স্বাদের নতুন অভিজ্ঞতা দিচ্ছে, কিন্তু এর চেয়েও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে এর পেছনের ব্র্যান্ড রাজনীতি ও তারকা প্রভাব।

আগামী সপ্তাহগুলোতে বিক্রির পরিসংখ্যান ও ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়াই বলে দেবে এই সহযোগিতা শুধুই সাময়িক উত্তেজনা, নাকি ড্রেক ও ম্যাকডোনাল্ড’স উভয়ের জন্যই দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের পথ খুলে দেবে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles