বাড়ি ফিরতে ব্যাকুল কিউবায় অবস্থানরত কানাডিয়ানরা

বাড়ি ফিরতে ব্যাকুল কিউবায় অবস্থানরত কানাডিয়ানরা - the Bengali Times
কিউবার সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন মঙ্গলবার থেকে দেশজুড়ে বিমানবন্দরগুলোতে জেট ফুয়েলের প্রাপ্যতা কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে

কিউবায় জেট ফুয়েলের তীব্র সংকটকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কিউবাগামী ও কিউবাফেরত ফ্লাইট পরিচালনায় জরুরি পরিকল্পনা নিতে বাধ্য হয়েছে কানাডার বিভিন্ন উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা। সরবরাহ চেইনের চলমান চ্যালেঞ্জের মধ্যে দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে জ্বালানি ঘাটতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দেশটির বিমানবন্দর পরিচালনাই ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কিউবার সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে দেশজুড়ে বিমানবন্দরগুলোতে জেট ফুয়েলের প্রাপ্যতা কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ফ্লাইটে। ফলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনা করা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব নাও হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে শুরু করেছে কীভাবে যাত্রীদের সেবা অব্যাহত রাখা যায় এবং কিউবায় অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

- Advertisement -

কানাডিয়ান এয়ারলাইন্সগুলো জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে ফ্লাইট সময়সূচি সমন্বয়, অতিরিক্ত জ্বালানি বহন বা নিকটবর্তী অন্য কোনো দেশে রিফুয়েলিংয়ের মতো বিকল্প কৌশল বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে কিউবায় অবস্থানরত যাত্রীদের সহায়তায় গ্রাহকসেবা টিম সক্রিয় রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সব সময় ঘোষণার সঙ্গে মিলছে না এমন অভিযোগও উঠেছে।

কিউবার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ভারাদেরোতে অবস্থানরত কানাডিয়ান নাগরিক মেইস্যাম সালাহি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হঠাৎ তৈরি হওয়া এই অনিশ্চয়তায় তার পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। তিনি ও তার পরিবার তিন সপ্তাহের ছুটি কাটাতে ৩ ফেব্রুয়ারি কিউবায় যান। মঙ্গলবার তাদের টরন্টোতে ফেরার কথা ছিল। সঙ্গে রয়েছে তিন ও পাঁচ বছর বয়সী দুই সন্তান সন্তানদের জন্মদিন উদ্‌যাপনই ছিল এই ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য।

সালাহির অভিযোগ, সোমবার তাদের রিসোর্টে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য না দিয়েই দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি স্থান ত্যাগ করেন। কী ঘটতে যাচ্ছে বা কখন ফ্লাইট নিশ্চিত হবে এ বিষয়ে জানার জন্য তাকে পরদিন সকালে আবার যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এই অনিশ্চয়তা ছোট সন্তানদের নিয়ে থাকা পরিবারগুলোর জন্য বিশেষভাবে মানসিক চাপ তৈরি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, কিছু ফ্লাইট এখনো চলমান রয়েছে। টরন্টো থেকে নতুন করে আসা কয়েকজন পর্যটকের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, কিছু এয়ারলাইন্স এখনো সেবা স্থগিত করেনি। এতে একদিকে যেমন স্বস্তির ইঙ্গিত মিলছে, অন্যদিকে পরিস্থিতির অস্পষ্টতা আরও বাড়ছে। “আমরা শুধু নিরাপদে ঘরে ফিরতে চাই,” বলে জানিয়েছেন সালাহি। তার ভাষায়, পুরো পরিবার এখন চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কিউবায় জ্বালানি সংকট নতুন নয়। অর্থনৈতিক অবরোধ, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং আমদানি নির্ভরতা সব মিলিয়ে দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই জ্বালানি সরবরাহে সমস্যার মুখোমুখি। তবে এবার বিমান চলাচলের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরাসরি প্রভাব পড়ায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। পর্যটননির্ভর অর্থনীতির জন্য এটি বড় ধাক্কা হতে পারে।

পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো এয়ারলাইন্স ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও সমন্বিত তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা। তা না হলে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles