সবাই সন্ত্রাসী ?

সবাই সন্ত্রাসী ? - the Bengali Times
অন্যের উপর বা আপনার প্রতিপক্ষের উপর যত খারাপ অবিচার হোক সেটি আসলে কোনো অবিচার নয় এটি কি ঠিক

অন্যের উপর বা আপনার প্রতিপক্ষের উপর যত খারাপ অবিচার হোক সেটি আসলে কোনো অবিচার নয় ! এটি কি ঠিক ??

আপনার নিজের উপর কোনো ধরণের অবিচার না হলেও, আপনার আসে পাশে বা অন্য কোথাও অন্য কারো উপর যদি অন্যায় বা অবিচার হয় তাহলে সেটি কিন্তু পুরা বিচার ব্যবস্থার উপর হুমকি, যেই হুমকি আপনার উপরেও আসতে পারে। মার্টিন লুথার কিং উপরের উক্তিতে সেই কথাই বলেছেন ! এর সাথে আরো একটি ব্যাপার আমি জুড়ে দেই, সেটি হলো  কোনো একটি জাতি, গোষ্ঠী, ধর্মের, দেশের বা গ্রামের একজন লোক দোষ করলে সেখানকার সবাইকে এক পাল্লায় ফেলে দোষী সাব্যস্ত করা বা generalize করা মানে মূল সমস্যাকে এড়িয়ে যাওয়া এবং একই সমস্যার পুনরাবৃত্তিতে উৎসাহিত করা।

- Advertisement -

এই দুটি জিনিস আমাদের জন্মদেশের অধিকাংশ মানুষই শিখলো না ! দেশে বিভিন্ন জাতের, বিভিন্ন মতের, বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন গোত্রের মানুষ আছে কিন্তু দেশের জন্ম লগ্ন থেকেই দেখা গেছে যে একজন যদি কিছু করে তাহলে তার প্রতিপক্ষের লোক সেই একজনের ১৪গুষ্টি উদ্ধার করে যদিও সেই ১৪ গুষ্টির ২/৪/৫/১০ ভাগ লোকও তো ভালো থাকতে পারে ?

গুটি কয়েক সন্ত্রাসী জন্মগতভাবে মুসলমান সে জন্যে দুনিয়ার ১ বিলিয়নেরও বেশি মুসলমান সবাই সন্ত্রাসী ?

গুটি কয়েক উগ্র হিন্ধুবাদী বাবরি মসজিদ ভেঙেছে বা ওখানে মুসলমানদের উপর অত্যাচার করেছে সে জন্যে ওখানকার বা অন্য জায়গার  বিলিয়নের মতো হিন্দু  সবাই সন্ত্রাসী ?

হিটলার পৃথিবীর গর্হিত অন্যায় করেছে এবং সে একজন ক্যাথলিক খ্রিস্টানের ছেলে তাই বিলিয়নের উপর সব খ্রিস্টান কি সেই অন্যায়ের দোষী !

এই generalization সমস্যা পশ্চিমাদের মধ্যেও আছে এবং এর অনেক কিছু ওদের কাছ থেকেও আমাদের শেখা ! আর আমরা তো সব সময় কারোর অপকর্ম বেশি অনুসরণ করতে পছন্দ  করি।

সাম্প্রতিক BD ইলেকশনের এক সপ্তাহ পার না হতেই ঠিক আওয়ামী সরকার যাওয়ার পরে তাদের দুর্নীতিবাজ/ধান্দাবাজ লোকজনের সাথে সাথে যেমন একেবারে নিরীহ আওয়ামী সমর্থক মানুষকে হেনস্থা করা হয়েছে, ঠিক তেমনি এখনো শুনছি সেই কায়দায় একাধারে প্রতিপক্ষের সাধারণ মানুষদে উপরও অত্যাচার হচ্ছে।

ঠিক আওয়ামী সরকার যেমন প্রতিপক্ষের সাধারণ সমর্থকদের উপরও যেই জুলুম করেছিল এখন সেইটাই হচ্ছে। তফাৎ তা কি?? এটি যে শুধু তারা করেছে তা নয়, পরবর্তীতে ইউনুছ সরকারের সময়েও সেই একই কাজ হয়েছে এবং উনারা সেটিকে বন্ধ করতে পারেন নাই বা ইচ্ছা করে করে নাই। ঠিক এখন সেই একই অবস্থা।

অনেকের ধারণা ছিল যে আবার কখনো আওমিলীগ ক্ষমতায় আসলে তারাও চড়াও হবে প্রতিপক্ষের উপর, কিন্তু দেখা যাচ্ছে আওমিলিগ আসার দরকার হয়নি, বরং এখনই তান্ডব শুরু হয়ে গেছে !! খুবই দুঃখের এবং হতাশার বিষয় যে, দেশের কোনো সরকারিই কোনোধরনের সুশাসনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারলো না, ৫৪/৫৫ বছর কেটে গেলো !! এবং আমি নিশ্চিত আর হবেও না !! কারণ, এরজন্য শুধুমাত্র দেশের ধান্দাবাজ নেতা-নেত্রীই বা প্রশাসনই  নন অসংখ সাধারণ মানুষও দায়ী এবং তারা এর থেকে বের হতেও চায় না !

আওয়ামী পতনের পরে বেশ কিছু উগ্রমস্তিষ্কের লোক জ্বালাও, পোড়াও, ভাঙচুর বা মব-ৰাজি করলেও সমস্ত আওমি বিরোধী আন্দোলনের সাধারণ মানুষ ওই সমস্ত ধ্বংসাত্মক কজের শোনে যুক্ত  ছিল না, কিন্তু এখন তারা ক্ষমতায় আসতে পারেনি বলে তাদের সবার উপর চড়াও হওয়া ঠিক না, যেমনটি শুধু  মাত্র আওমিলীগ সমর্থন করার কারণে তাকে হেনস্থা করা, অথবা জামাত, জাসদ, বিনপি ইত্যাদি করার কারণে তার ১৪গুষ্টি উদ্ধার করতে হবে এই সংস্কৃতি চলতে থাকলে বা চলতে দিলে ওই দশের কোনো ধরনের ভালো ভবিষৎ নেই ! যেই মিয়া যত বড়ো কথাই বলুক কারো বাপ্/দাদার সাদ্ধ নেই ওখানে সান্তি আনা।  দিনশেষে সিদ্ধ নুডুলস !!!!

কারো মাথা কেটে, কাউকে পিটিয়ে বা কাউকে দমিয়ে উপরে উঠার চেষ্টা একদিন না একদিন আপনাকে একেবারে নিচে নামাবে ! বরং কাউকে ধ্বংস না করে, বরং নিজেকে বড়ো করে, নিজের আচরণে, চলনে কাজে কর্মে উঁচু হলে আপনার অবস্থান এমনিতেই উপরে থাকবে !

আমার জন্মস্থান গোপালগঞ্জ, আমার বাপ্ মুক্তিযোদ্ধা ছিল, আমি নিজে এবং আমার বংশের অনেক লোকই বঙ্গবন্ধুর অবদান শিকার করে এবং তাদের অনেকেই আওমি সমর্থক ছিল এবং আছে , আবার ওই গোপালগঞ্জেই আমার আত্মীয় আছে যে কিনা  বিনপির চরম সমর্থক বা কেউ কেউ জামাত সাপোর্ট করেন। আবার আমার বড়ো হয়ে উঠা কুষ্টিয়াতে, তাই সেখানকার অনেক বন্ধুবান্ধব বা পরিচিতজন বিনপি করে, তাদের সাথে জিয়াউর রহমানের খালকাটা দেখতে গিয়েছি, স্কাউটিংয়ে জাম্বুরিতে গিয়ে তার পিছনে হেঁটেছি, তার অনেক জনসভাতে গেছি, এবং ওই সময়ের পরিচিতদের কেউ জামাত করেন, এদের কেউ হিন্দু,মুসলিম বা খ্রিস্টান কিন্ত এদেরকে আমি কখনো আজে বাজে কিছু করতে দেখি নাই কিন্তু তাদের সাথে সংশিস্লট থাকার কারণে আপনি এসে আমার উপর চড়াও হবেন ? আবার আমি এরকম অনেকেও চিনি যারা ২০২৪ শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে খুবই সক্রিয় ছিল এবং তারা NCP বা নতুন দলের সমর্থক যদিও তাদের কেউ গণভবন লুট করতে বা ৩২ নম্বর ভাঙতে যাই নাই, কিন্তু  তাদের সাথে আমার সংস্লিষ্ট থাকা মানে তাদের বিরোধীরা আমাকেও ঘৃর্ণা করবেন। করেন !

মগজ/মস্তিস্কহীন/অন্তরর্বিহীন  হলে তাই করবেন !!

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles