জিটিএতে বাড়ি বিক্রি ও দাম কমেছে

জিটিএতে বাড়ি বিক্রি ও দাম কমেছে - the Bengali Times
গ্রেটার টরন্টো এরিয়ার জিটিএ আবাসন বাজারে বছরের শুরুটা ভালো যায়নি

গ্রেটার টরন্টো এরিয়ার (জিটিএ) আবাসন বাজারে বছরের শুরুটা ভালো যায়নি। বরং বিক্রি কমেছে, দাম নেমেছে, আর বাজারে বাড়ির সরবরাহ বেড়েছে সব মিলিয়ে ক্রেতা–বিক্রেতা উভয়ের জন্যই অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ।

আঞ্চলিক আবাসন সংস্থা টরন্টো রিজিয়নাল রিয়েল এস্টেট বোর্ড (টিআরআরইবি) বুধবার প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে জিটিএতে বাড়ি বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮২টিতে। এক বছর আগে যেখানে বাজারে তুলনামূলক বেশি লেনদেন হচ্ছিল, সেখানে এবার ক্রেতাদের আগ্রহ দৃশ্যতই কমেছে।

- Advertisement -

বিক্রির পাশাপাশি দামের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট পতন দেখা গেছে। জানুয়ারিতে বাড়ির গড় মূল্য কমেছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, যা নেমে এসেছে ৯ লাখ ৭৩ হাজার ২৮৯ ডলারে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২১ সালের জানুয়ারির পর এই প্রথম জিটিএতে বাড়ির গড় মূল্য মিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এলো। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ সুদের হার, ঋণপ্রাপ্তির কড়াকড়ি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ফলে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন।

নতুন লিস্টিং বা বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত বাড়ির সংখ্যা গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় কমলেও সক্রিয় লিস্টিং বেড়েছে ৮ দশমিক ১ শতাংশ। বর্তমানে বাজারে সক্রিয় লিস্টিং দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৯৭৫টি। এছাড়া একটি বাড়ি বিক্রি হতে গড়ে ৪৫ দিন সময় লাগছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ, বাড়ি বিক্রি করতে এখন আগের চেয়ে বেশি সময় লাগছে যা বাজারে ক্রেতাদের অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।

টিআরআরইবি জানিয়েছে, সরবরাহ বৃদ্ধি এবং চাহিদা কম থাকার কারণে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধজুড়ে গড় বিক্রয়মূল্য চাপের মধ্যে থাকতে পারে। অর্থাৎ, দামের দুর্বলতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তবে সংস্থাটি মনে করছে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে এলে এবং ভোক্তা আস্থা ফিরে এলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বাজারে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল স্টেইনফিল্ড এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, “অনেক পরিবার যে আর্থিক চাপে রয়েছে, তার প্রতিফলনই আমরা আবাসন বাজারে দেখছি। আগামী মাসগুলোতে অর্থনীতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা তৈরি হলে ভোক্তা আস্থা ফিরতে পারে, যা কয়েক বছর ধরে জমে থাকা চাহিদাকে আবারও সক্রিয় করবে।”

টিআরআরইবি প্রকাশিত ইপসসের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, গ্রেটার টরন্টো এরিয়ার ২২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন তারা আগামী এক বছরের মধ্যে বাড়ি কেনার কথা ভাবছেন। অথচ ২০২৫ সালে একই প্রশ্নে ইতিবাচক মনোভাব জানিয়েছিলেন ২৭ শতাংশ উত্তরদাতা। এই পরিসংখ্যান ক্রেতাদের মনস্তত্ত্বে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি সব মিলিয়ে অনেকেই এখন অপেক্ষা–দেখার কৌশল নিচ্ছেন।

সামগ্রিকভাবে জিটিএর আবাসন বাজার এখন এক ধরনের ‘সামঞ্জস্য পর্যায়ে’ রয়েছে। বিক্রেতারা হয়তো আগের মতো দ্রুত ও উচ্চ দামে বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন না, আর ক্রেতারা তুলনামূলক বেশি বিকল্প ও দর–কষাকষির সুযোগ পাচ্ছেন।

তবে অর্থনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন এলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে চিত্র পাল্টাতে পারে এমন প্রত্যাশা রয়ে গেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

এখন দেখার বিষয়, সুদের হার, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যায় কারণ সেগুলোর ওপরই নির্ভর করছে গ্রেটার টরন্টো এরিয়ার আবাসন বাজারের পরবর্তী গতিপথ।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles