7.9 C
Toronto
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৮, ২০২১

পান্তা-গরু রেসিপি

- Advertisement -
ছবি/নায়েগ্রা ফলস, জাভেদ ইকবাল

কোরবানী ঈদ শেষ।

ঘরে ঘরে এখন গরু, ছাগল, ভেড়ায় ভরা।

- Advertisement -

আজ সরাসরি রেসিপিতে চলে যাচ্ছি। পান্তায় সাঁতার দিবো, জলকেলী করবো। অনেক বোকা পান্তার কথা শুনলেই উলোট মুরগির মতো চেহারা করে। সবাই সবকিছু খেতে জানে না, এটা দোষের কিছু না। অনেক ভদ্দরলোকের কাছে পান্তা মানে ভাতে পানি ঢেলে চামুচ দিয়ে দিয়ে খাওয়া.. হায়রে কপাল! যেদিন জানবে, লজ্জায় মরবে। যাই হোক, উলূ বনে মুক্তা ছড়িয়ে লাভ নেই। তবুও একটা রেসিপি দিলাম। বুঝলে নিমপাতা, না বুঝলে বিছুটি পাতা।

উপকরণ:

- Advertisement -

১. কাঁচা মরিচ [পারলে গাছ থেকে পেরে সরাসরি প্লেটে ফেলবেন]

- Advertisement -

২. ঝাঁঝালো পিঁয়াজ [পারলে বাগানের মাটি খুঁড়ে তুলে এনে প্লেটে ফেলুন]

৩. মসুরের ডাল এক কাপ

৪. রসুন বড় পাঁচ কোয়া

৫. রান্না করা গরুর মাংস [গর্দান/মাথার মাংস ভুনা হলে ভালো]

৬. বাসি মোটা লাল ইরি ধানের ভাত

৭ . সুতির গামছা।

ভাত সম্প্রসারণ:

পান্তার মেইন ইনগ্রেডিয়েন্ট হলো বাসি ভাত। এই ভাত হতে হবে কমপক্ষে ষোলো ঘন্টা আগেকার, ভ্যাঁপসা গরমে রেখে দেওয়া। হালকা গন্ধ ছুটলেই সেটাতে পানি ঢেলে দিন, যাতে কোনোরকমে ডুবে থাকে। এভাবে আরো আট ঘন্টা গেলে দেখবেন হালকা বাসি ফ্লেভার ছুটবে। এটার নামই পান্তা ফ্লেভার। বুঝবেন জিনিস রেডি! তবে বেশি পঁচাবেন না, বারবার টয়লেটে দৌড়াতে হলে এর দায়ভার জাভেদ নিতে পারবে না।

এবার ডাল ভর্তা বানিয়ে ফেলুন রসুন, পিঁয়াজ আর কাঁচামরিচ দিয়ে। এটার রেসিপি দিলাম না, আমার অতো সময় নাই। যারা পারে তাদের কাছ থেকে শুনে নিবেন।

একটা জরুরী কথা।

পান্তা মানেই ইলিশ দিয়ে খেতে হবে, এটা মূর্খদের বানানো। আগেও বলেছিলাম, পারফেক্ট পান্তা জীবনে একবারই খেয়েছিলাম আমার বন্ধুর মোশাররফের বাসায়, নাটোরের বাগাতিপাড়ায়। সেটা খেয়ে সারাজীবন পস্তাচ্ছি ..।

মোশাররফের প্রসঙ্গ যখন আসলোই, কিছু না বললে খুব অন্যায় করা হবে। সে হলো আমাদের ক্লাসের সবচাইতে বিনয়ী, নম্র, ভদ্র, সভ্য, ভালো, সৎ, ধৈর্য্যশীল, মৃদুভাষী, স্বল্প আহারী, রসিক, স্মার্ট, ভালছাত্র, জ্ঞানী, কর্মঠ, ত্যাগী, ধার্মিক, বিচক্ষণ, সংযমী, সহিষ্ণু, detail oriented, সংসারী, মাতৃ ভক্ত, বন্ধুসুলভ, আত্মপ্রত্যয়ী, দৃড় চিত্ত, দয়ালু, নিরহংকার, মিতব্যয়ী, হ্যান্ডসাম আর “….” । এরকম বন্ধু পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। সবচাইতে ভাগ্যবতী তার বউ। আমি শিওর, ক্লাসের বেশিরভাগ মেয়েরই এখন খুব আফসোস..। আমাকে আদর করে ডাকতো ‘বাবু’। তাকে হাজার টিপাটিপি, কাতুকুতু দিয়েও মুখ থেকে একটা কথা বের করা যেত না; তার নিজের ইচ্ছাই ফাইনাল। তিন/চার ঘন্টা চুপ থাকার পর বজ্রপাতের মতো এমন ইম্পরট্যান্ট আর মিনিংফুল কথা বলে উঠতো! হাসতে হাসতে আমরা লুটোপুটি..! এবার দেশে গিয়ে তাঁর সাথে একটা দিন কাটিয়ে নিজেকে ধন্য করবো ইনশা আল্লাহ!

এবার আপনার প্লেটের ভাতে তিনটা ফ্রেশ ঝাল কাঁচামারিচ আর একটু বেশি লবন নিয়ে ডলাডলি শুরু করে দিন। মরিচ আঙুলের ডগা আর নখ নিয়ে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ভাতের পানিতে মিশাতে থাখুন। সেইরকম ফ্লেভার ছুটবে। এবার ছোট সাইজের ঝাঁঝালো পেঁয়াজ ফেলুন। গরম মসুর ডাল ভর্তা ঝোল তোলা চামুচের একচামচ ঢালুন, না মেশালেও হবে। ফাইনালি আগুন গরম গর্দানের মাংস অল্প ঝোল সহকারে পান্তায় ফেলে দ্রুত মুঠি মুঠি সাঁটান। এই জিনিস ধীরে খেলে মাঠে মারা। তরকারি গরম থাকতে থাকতেই প্লেট সাবাড় করুন, তা না হলে দুই আঙুলের জয়েন্টের চিপায় চর্বি জমে মেসাকার হবে, লাক্স সাবান দিয়ে পাঁচবার ধুলেও যাবে না। চার প্লেট পান্তা আলগোছে চলে যাবে গোডাউনে। পাকস্থলী খুব হেল্পফুল, এক্সপ্যান্ড করে হবে দশগুন। সারা শরীরে ঈদ লেগে যাবে। পেঁয়াজ কচ্কচিয়ে কামড়িয়ে কামড়িয়ে খাবেন।

হাতের কাছে রেডি রাখা গামছা দিয়ে নাক মুছুন। নাকের বারান্দায় আগুন লেগে ফসলের ক্ষেত জ্বলে-পুড়ে ছাড়খাড় হবে! সে কী এক উত্তেজনা, এডভেঞ্চার! ওই ঝাল থাকবে কমসেকম আঠারো ঘন্টা! আর পান্তার আখেরী চুমুক.. আন্তন চেখভের প্রকৃতির বর্ণনার মতো; এক অমৃত, বেহেশতী ঝর্ণার অমীয়ধারা গলা বেয়ে নামবে। প্লেট হবে ভ্যান গগের আঁকা সূর্যমুখী ক্ষেতের ক্যানভাস!

বিঃ দ্রঃ

যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে, তারা দয়া করে এভয়েড করবেন, কারণ এতে প্রচুর লবন লাগে, সোডিয়ামে ঠাসা। লবন ছাড়া পান্তা অচল। এই পান্তা তৈরী অনেক ধৈর্যের ব্যাপার। মনে রাখবেন; প্রেম আর পান্তা; এগুলো তাড়াহুড়োয় জমে না। কলেজ/ইউনিভার্সিটিতে যারা ফার্স ইয়ারে প্রেম করার জন্য ছক ছক করে, তারা যা তা পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে। শেষে খায় রাম ধরা। ফার্স্ট ইয়ারে ছোঁয়াছুঁয়ি, সেকেন্ড ইয়ারে রাগারাগি, থার্ড ইয়ারে চুলাচুলি, ফোর্থ ইয়ারে হাতাহাতি। মাস্টার্স এ ডাইভোর্স! আর পাস করে ছাড়ার আগে যারা প্রেম করে, তারা লক্ষী নিয়ে ঘরে ফেরে।

ওইজ্জা, আসল কথাটাই বলা হয় নাই। পান্তা পারফেক্ট হবে যদি ফ্রিজে জায়গা না পাওয়া, তিন-চারদিন ধরে জ্বাল দেওয়া জলে ভাসা পদ্ম ভাজা ভাজা গরুর মাংস থাকে। পর্দা পর্দা, চর্বি চর্বি হলে আরও ভালো। পাছার খসখসে মাংস হলেও ক্ষতি নেই। ঐ বাসি ভাজা গোশ বাসি পান্তার সাথে মিশে হবে জোশ!

আর হ্যা, আলু ভর্তা, বেগুন ভর্তা দিয়ে হবে আরও তুখোড়!

লেগে পড়ুন-

“হাপুশ হুপুশ শব্দ, চারিদিক নিস্তব্ধ!”

টরন্টো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles