পাথর ভেবে ১০ বছর ধরে বোমার ওপর ধোয়া হচ্ছিল কাপড়

পাথর ভেবে ১০ বছর ধরে বোমার ওপর ধোয়া হচ্ছিল কাপড় - the Bengali Times
ছবি সংগৃহীত

কক্সবাজারের রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের লট উখিয়ারঘোনা তচ্ছাখালী এলাকায় প্রায় ১০ বছর আগে পুকুর খনন করার সময় পাওয়া বোমাসদৃশ বস্তুটি পাড়ে রেখে দেওয়া হয়, যার ওপর কাপড় কাচতো এলাকার মানুষ। শনিবার বস্তুটি উদ্ধার করে পুলিশ।

কক্সবাজারের রামুতে প্রায় এক দশক ধরে পাথর ভেবে একটি বোমার ওপর কাপড় ধুয়ে আসছিল স্থানীয়রা। প্রকৃত তথ্য জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

- Advertisement -

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের লট উখিয়ারঘোনা তচ্ছাখালী এলাকার (৮ নম্বর ওয়ার্ড) একটি পুকুরপাড়ে থাকা বোমাসদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করে পুলিশ।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বস্তুটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত অবিস্ফোরিত অথবা অকার্যকর একটি বোমা হতে পারে।

তিনি বলেন, “বোমাটি বর্তমানে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সেনাবাহিনীকে অবহিত করা হলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বস্তুটির কার্যকারিতা এবং এর ভেতরে কোনো বিস্ফোরক রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১০ বছর আগে পুকুর খননের সময় বোমাসদৃশ বস্তুটি পাওয়া যায়। তখন পাথর মনে করে পুকুরপাড়ে রেখে দেওয়া হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে সেটির ওপর কাপড় ধোয়া হচ্ছিল।

এ বিষয়ে রামুর ইতিহাস গবেষক ও আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া বলেন, “বস্তুটির আকৃতি দেখে এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বোমা বলেই মনে হচ্ছে। সেসময় এই অঞ্চলে জাপানি বাহিনীর যুদ্ধ কার্যক্রম ছিল।”

“যদি এর মধ্যে বিস্ফোরক থাকে, তাহলে জননিরাপত্তার স্বার্থে তা নিষ্ক্রিয় করা জরুরি। আর বিস্ফোরক না থাকলে এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি স্মারক হিসেবে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। কারণ এটি রামুর ইতিহাসের অংশ,” বলেন শিরূপন বড়ুয়া।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles