
উত্তর প্রদেশের ঝাঁসিতে বিবাহিত এক ব্যক্তি লিভ টুগেদার করছিলেন এক যুবতীর সঙ্গে। এক পর্যায়ে সেই যুবতীকে সে হত্যা করে। এরপর দেহ একটি ধাতব ট্রাঙ্কে ভরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। প্রমাণ নিশ্চিহ্ন করার জন্য ছাই ফেলে দেয় নদীতে। আর ট্রাঙ্কটি তার স্ত্রীর বাড়িতে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। অভিযুক্ত এই ব্যক্তি রেলের অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মী রাম সিং পরিহার। সে দ্বৈত জীবন যাপন করতো। সে দু’বার বিয়ে করেছে। প্রথম স্ত্রী থাকেন সিপরি বাজার এলাকায়। দ্বিতীয় স্ত্রী থাকেন একই শহরের সিটি কোতোয়ালি এলাকায়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, রাম সিং পরিহার তার লিভইন সঙ্গিনী প্রীতিকে হত্যা করে। কারণ তিনি তার কাছে বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করছিলেন। এর আগেই লাখ লাখ টাকা নিয়েছিলেন প্রীতি। তার দেহ পুড়িয়ে ফেলার পর পরিহার ছাই বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেয়, যাতে অপরাধের কোনো চিহ্ন না থাকে। এরপর দেহের বাকি অংশসহ ট্রাঙ্কটি স্ত্রী গীতার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে।
এক লোডারচালকের সতর্কতার কারণেই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। শনিবার রাতে পরিহার তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে নীতিনকে ডাকে এবং ভারী নীল রঙের ট্রাঙ্কটি তার দ্বিতীয় স্ত্রী গীতার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি লোডার ভাড়া করে। নীতিন ও তার কয়েকজন বন্ধু ট্রাঙ্কটির সঙ্গে যায়। চালক জয় সিং পাল ট্রাঙ্কের ভেতরের জিনিস ও লোকজনের আচরণ দেখে সন্দেহ করেন। ট্রাঙ্ক নামিয়ে দেয়ার পর তিনি পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করেন। লোডারচালক বলেন, আমাকে ৪০০ রুপিতে কিছু মালপত্র নেয়ার জন্য ভাড়া করা হয়। ট্রাঙ্কটা দেখে প্রথম থেকেই সন্দেহ হচ্ছিল। তাই প্রথমে তাদেরকে নিতে রাজি হইনি। পরে নিয়ে গেলেও বাড়িতে পৌঁছে সন্দেহ আরও বাড়ে। তখন পুলিশকে খবর দিই।
পুলিশ এসে ট্রাঙ্কটি জোর করে খুললে ভেতরে ভয়াবহ দৃশ্য দেখা যায়- মানুষের পোড়া দেহাবশেষ, হাড়ের টুকরো এবং কয়লার মতো পদার্থ। সিটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ প্রীতি সিং বলেন, লোডারচালকের কাছ থেকে সন্দেহজনক ট্রাঙ্কের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তল্লাশিতে মানুষের কঙ্কালের অবশিষ্টাংশ ও পোড়া বস্তু পাওয়া যায়। ফরেনসিক দল নমুনা সংগ্রহ করেছে। অভিযুক্তের দ্বিতীয় স্ত্রী গীতা আমাদের জানিয়েছেন, পরিহার বলেছিলেন, যে নারী তার সঙ্গে থাকতেন, তিনি অর্থের জন্য তাকে হয়রানি করছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দু’জনকে আটক করা হয়েছে।
এর মধ্যে অভিযুক্তের ছেলে রয়েছে। মূল অভিযুক্তের খোঁজে অভিযান চলছে। পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ডটি ৮ জানুয়ারির দিকে ঘটেছে। পরিহার প্রথমে দেহ ত্রিপল দিয়ে মুড়িয়ে রাখে, পরে ট্রাঙ্কের ভেতরেই পুড়িয়ে ফেলে। দেহ ছাই হয়ে গেলে সেই ছাই বস্তায় ভরে কাছের নদীতে ফেলে দেয়; ট্রাঙ্কে শুধু কিছু হাড় ও অবশিষ্টাংশ রয়ে যায়। পরিহারের প্রতিবেশী সুরভি জানান, সে কয়েক দিন ধরে জ্বালানি কাঠ জড়ো করছিল। কয়েক দিন আগে অদ্ভুত গন্ধ পেলাম। কিন্তু ভেবেছিলাম শীত থেকে বাঁচতে তিনি কাঠ পোড়াচ্ছেন।
ঝাঁসি পুলিশ ভুক্তভোগী নারীর সাবেক স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করেছে। ছেলে ও আরেক সহযোগীকে হেফাজতে নেয়া হলেও মূল অভিযুক্তকে খোঁজা হচ্ছে।

