
বছরের এই সময়টাতে এসে পেছনের দিকে তাকানো স্বাভাবিক। ছুটির মৌসুমের ঠিক আগে টরন্টো সিটি হল ২০২৫ সালের নানা অর্জন তুলে ধরে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সেখানে ট্রানজিট উন্নয়ন, অর্থনৈতিক উদ্যোগ থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বছরটি যেমন দীর্ঘ ছিল, শহরটিও তেমনি বিশাল ফলে সিটি হলের নিজের মূল্যায়নের বাইরে গিয়ে বছরটি টরন্টোর জন্য আসলে কেমন কেটেছে, সেটি খতিয়ে দেখেছে দি টরন্টো সান।
২০২৫ সালে টরন্টোর ট্রানজিট ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। নতুন ফিঞ্চ ওয়েস্ট এলআরটি লাইনের ধীরগতির কারণে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেন মেয়র অলিভিয়া চাউ। সিটি হলের দাবি, ট্রানজিট ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নে তারা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে।
সিটি প্রশাসন জানায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই গার্ডিনার এক্সপ্রেসওয়ের ছয়টি লেন পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি এজেন্ট ও ‘ভিশন জিরো’ উদ্যোগ যুক্ত করার মাধ্যমে ট্রাফিক প্রবাহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। যাত্রীদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো টিটিসির ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত রাখা হয়েছে।
তবে দি টরন্টো সান–এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে টরন্টোর ট্রানজিট নিয়ে যেকোনো আলোচনা শুরু করতে হলে আগে যেতে হবে এলআরটি প্রকল্পগুলোর দিকে। ডিসেম্বরে ফিঞ্চ ওয়েস্ট লাইন খুলে দেওয়া হলেও এর অতিরিক্ত ধীরগতির কারণে সমালোচনা দ্রুতই শুরু হয়। অন্যদিকে, বহুল আলোচিত এগলিন্টন ক্রসটাউন লাইন এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। নির্মাণ শুরুর ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও লাইনটি চালু না হওয়ায় সিটি প্রশাসনের দক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে মেয়র অলিভিয়া চাউ ১০ দফা অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। সিটি হলের দাবি অনুযায়ী, এর আওতায় প্রায় ২৮ হাজার ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ কর ১৫ শতাংশ কমানো হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
কিন্তু সানের বিশ্লেষণ বলছে, বাস্তব চিত্রটি এতটা আশাব্যঞ্জক নয়। ২০২৫ সালের বাজেটে যে কর বৃদ্ধি অনুমোদন করা হয়েছে, তার প্রভাবে আগামী চার বছরে করের হার প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। কর বৃদ্ধির লাগাম টানার জন্য কাউন্সিলর ব্র্যাডফোর্ড, স্টিফেন হলিডে এবং জন বার্নসাইডের উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।
ডিসেম্বরে সিটি কাউন্সিল ৩০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের বাড়ি বিক্রির ওপর ‘লাক্সারি কর’ অনুমোদন করার পর করের চাপ আরও বেড়েছে। এই সিদ্ধান্তে উচ্চমূল্যের সম্পত্তির মালিকদের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও একটি সিদ্ধান্ত তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যখন সাধারণ টরন্টোবাসী কর বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায়, তখন সিটি কাউন্সিলররা নিজেদের বেতন বাড়িয়ে নিয়েছেন ২৪ শতাংশ। এই পদক্ষেপ নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল টরন্টোর জন্য ছিল অর্জন ও বিতর্কে ভরা এক বছর। সিটি হল উন্নয়ন ও পরিকল্পনার কথা বললেও বাস্তবতায় ট্রানজিট প্রকল্পের বিলম্ব, কর বৃদ্ধির চাপ এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নতুন বছরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে টরন্টোর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এই সমালোচনার জবাব দেওয়া এবং নগরবাসীর আস্থা পুনরুদ্ধার করা।

