
কানাডার আলবার্টা প্রদেশের ক্যালগেরির বাসিন্দা জামাল বারহত সিরিয়া সফরকালে আইসিসসহ একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে আদালত রায়ে জানিয়েছেন। সোমবার ক্যালগেরি কোর্ট অব কিং’স বেঞ্চ-এর বিচারপতি কোরিনা দারিও এই গুরুত্বপূর্ণ রুলিং দেন। বহুল আলোচিত এবং দীর্ঘমেয়াদি এ মামলার ফলে বারহত এখন সন্ত্রাসবাদ–সম্পর্কিত তিনটি গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের (আরসিএমপি) কয়েক বছরের তদন্তের পর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে বারহতকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পেলেও বিচার চলাকালীন সেই জামিন বাতিল করা হয়। তদন্তকারীরা বারহতের সিরিয়া যাত্রার নথি, যোগাযোগের রেকর্ড এবং সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে তার সন্ত্রাসী সংযোগের প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করেন।
২০২৪ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া বিচার ৪০ দিন ধরে চলে। মামলার বড় অংশের শুনানি রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় কারণ এই মামলার তথ্য ও যোগাযোগ জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে সরকার পক্ষ জানায়। বিচারের শুরুতে বিবাদীপক্ষের আইনজীবী পাওয়েল মিলজকারেক অযৌক্তিক বিলম্বের অভিযোগ তুলে কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন করেন। তবে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেননি।
ক্রাউন প্রসিকিউটর কেন্ট ব্রাউন আদালতে উপস্থাপিত চূড়ান্ত যুক্তিতে বলেন ২০১৩ সালের মে মাসে জামাল বারহত এবং তার চাচাতো ভাই হুসেইন বারহত জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট হয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছান। সেখান থেকে তারা সীমান্ত পেরিয়ে সিরিয়ায় প্রবেশ করেন। তুরস্কে অবস্থানকালেই জামাল বারহত তিনটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন – নুসরা ফ্রন্ট, আইসিস, আল-কায়েদা। সিরিয়ায় তিনি কেবল যুদ্ধেই অংশ নেননি, বরং কিছু প্রশাসনিক ও নেতৃত্বমূলক দায়িত্বও পালন করেন। ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি অন্যদেরকেও সিরিয়ায় যোগ দিতে উৎসাহিত করতেন যা সন্ত্রাসবাদ প্রচারের সরাসরি প্রমাণ হিসেবে আদালতে বিবেচিত হয়।
এ মামলার পূর্বে, ২০২২ সালের মে মাসে জামাল বারহতের চাচাতো ভাই হুসেইন বারহত মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানকালে আইসিস যোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার অপরাধে ১২ বছরের কারাদণ্ড পান। আদালত মনে করে, দুই ভাইয়ের চলাফেরা ও অভিন্ন নেটওয়ার্ক তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও স্পষ্ট করে।
এই মামলাকে কানাডার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখছেন। কারণ কানাডা থেকে সিরিয়া গিয়ে সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগদানকারী ব্যক্তিদের সনাক্তকরণ ও বিচার–প্রক্রিয়া অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। অধিকাংশ তথ্য বিদেশি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সংগ্রহ করতে হয়, যা ঝুঁকিপূর্ণ এবং সময়সাপেক্ষ। আদালতের এই রায় প্রমাণ করল যে, ডিজিটাল প্রমাণ, ভ্রমণ রেকর্ড এবং গোয়েন্দা তথ্য সব মিলিয়ে একটি শক্তিশালী মামলা গঠন করা সম্ভব।
জামাল বারহতের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগের প্রতিটির সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর কারাদণ্ড। আগামী ১৬ জানুয়ারি বিচারপতি দারিও তাঁর সাজা ঘোষণা করবেন। সম্ভাবনা রয়েছে যে, তিনটি অভিযোগের সাজা একত্রে বা ধারাবাহিকভাবে ঘোষণা হতে পারে।

