10.6 C
Toronto
শনিবার, অক্টোবর ১৬, ২০২১

একজন কিশোয়ার চৌধুরী

কিশোয়ার চৌধুরী

বাংলাদেশী বংশভূত কিশোয়ার চৌধুরী মেলবোর্নে জন্ম এবং বেড়ে উঠা।

বিশ্বে রান্না প্রতিযোগিতা এবং রিয়েলিটি সোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় অস্ট্রেলিয়ার “মাস্টারশেফ”। এমন একটি জনপ্রিয় রিয়েলিটি সোর রান্নার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেছিলেন কিশোয়ার চৌধুরী। তার সবচেয়ে ভালো দিকটি ছিল, এই প্রতিযোগিতায় তিনি বাংলাদেশের রান্নাকে পরিবেশন করেছেন। এর ফলে প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে তিনি যেমন ভিন্নতা আনতে পেরেছিলেন, ঠিক তেমনি একই সাথে বাংলাদেশকেও বিশ্বে পরিচিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

তিনি ইচ্ছে করলে অন্য দেশের বিখ্যাত বিখ্যাত সব রান্না এই প্রতিযোগিতায় করে দেখাতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেই পথে না গিয়ে নিজ দেশের ঐতিহ্যবাহী সব খাবার রান্না করে এই প্রতিযোগিতায় ব্যতিক্রমী কিছু করে দেখাবার সাহসী সীদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

কিশোয়ার চৌধুরীর রান্নার মধ্যে ছিল পান্তা ভাত, মাছ ভাজা, কালাভূনা, খাসির রেজালা, ফুচকা,চটপটি, রাংগামাটির রান্নাসহ পাহাড়ি সব রান্না। এই রান্নার মাধ্যমে তিনি বিচারকসহ অডিয়েন্সদেরকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।

বাছাই পর্বে মাছ আর কাঁচা আমের রেসিপির পর একের পর এক বাংলাদেশি খাবার মাস্টারশেফের মঞ্চে তুলেছেন কিশোয়ার। এরপর রান্না করেছেন টমেটো এবং পুদিনা পাতা দিয়ে পাস্তা, টমেটো দিয়ে মাছের ঝোল, শিমের ভর্তা আর জিরা ভাত, গলদা চিংড়ি ভাজা, বিটরুট সবজি, শসা দিয়ে মাছ ভাজা, ফুচকা, চটপটি, সমুসা, দম-আলু আর তেঁতুল চাটনি, রেঁধেছেন খিচুড়ি, বেগুন ভর্তা আর নিরামিষ ভোজ, খাসির রেজালা আর ঘিয়ে ভাজা পরোটা, নেহারি এবং পান্তা-‘ইলিশ’ আর আলুভর্তার মতো বাঙালি খাবার। প্রতিবারই খাবারগুলো বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার সেটি উল্লেখ্য করেছেন কিশোয়ার।

মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় তৃতীয় স্থান (দ্বিতীয় রানার আপ) অর্জন করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিযোগী কিশোয়ার চৌধুরী।

এবারের আসরের মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার চ্যাম্পিয়নের খেতাব জিতেছেন জাস্টিন নারায়ণ। প্রথম রানার-আপ হয়েছেন পিট ক্যাম্পবেল। বিজয়ী বাড়ি ফিরছেন প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ টাকা পুরস্কার এবং মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার ২০২১ সালের খেতাব নিয়ে। তৃতীয় হয়ে কিশোয়ার পেয়েছেন প্রায় ১৩ লাখ টাকা। আর দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী পিট ক্যামবেল জিতেছেন প্রায় ২০ লাখ টাকা।

মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার গ্র্যান্ড ফিনালেতে ‘চাপের মুখে রান্না’ চ্যালেঞ্জ রাখা হয়।

আর এ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন বিশেষ অতিথি ও সিডনির অন্যতম সেরা রাঁধুনি পিটার গিলমোর। মাস্টারশেফের বহু জটিল রান্নার চ্যালেঞ্জ তাঁরই করা। তিনি সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। আর তিন প্রতিযোগীর জন্য তিনি রাখেন একই রান্নার পরীক্ষা। তাঁদের রাঁধতে দেওয়া হয় দুটি ভাগে। প্রথম ভাগে রাঁধতে হয়েছে স্কুইড। এই স্কুইডকে ছিলে এর ওপর মাশরুমের কাস্টার্ড, মাখন আর চিনাবাদাম দিতে হয়। দ্বিতীয় ভাগে ছিল ডেজার্ট। নাম গোল্ডেন ক্র্যাকার বা স্বর্ণের বল। এর ভেতর থাকবে বিভিন্ন মিষ্টির দানা। এই খাবারটি সিডনির বিখ্যাত অপেরা হাউস রেস্টুরেন্টের জন্য বানানো হয়েছে। প্রায় তিন মাস সময় লেগেছে এ ডেজার্টটির রেসিপি তৈরিতে।

কঠিন এই মিষ্টি তৈরি করতে গিয়ে তিন প্রতিযোগীকেই পড়তে হয়েছে মহাবিপদে। বিশেষ করে যখন স্কুইডের চামড়া ছাড়ানোর সময় আসে তখন প্রায় হাল ছাড়তে বসেছিল তিনজনই। তবে দর্শক সারিতে থাকা প্রতিযোগীদের পরিবার আর অন্যান্যদের উল্লাসে লড়াই চালিয়ে যান তাঁরা। এ রান্না নিয়ে কিশোয়ার বলেন, ‘এটা এভারেস্টে ওঠার মতো কঠিন ছিল।

অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই দর্শক জনপ্রিয়তায় শীর্ষে ছিলেন কিশোয়ার।

কিশোয়ারের যে কথা বিচারকসহ হাজারো দর্শকের মনে কাড়ে তা হলো, ‘রান্না নিয়ে আমার স্বপ্ন হলো বাংলাদেশি একটি রান্নার বই লিখে যাওয়া। কারণ আমি যদি এটা আমার সন্তানের জন্য রেখে না যাই, তবে বাবা-মার কাছ থেকে পাওয়া বাংলাদেশের সেই ঐতিহ্য আমার সঙ্গেই শেষ হয়ে যাবে।’

বাংলাদেশী বংশভূত মেলবোর্নে জন্ম এবং বেড়া উঠা কিশোয়ার চৌধুরী বাংলাদেশকে মনে রেখেছেন এবং তার রান্নার মাধ্যমে যেভাবে বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন তা এক কথায় “অসাধারণ”।

তথ্যসুত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো

টরন্টো, কানাডা

- Advertisement - Visit the MDN site

Related Articles

- Advertisement - Visit the MDN site

Latest Articles